সুনামগঞ্জ , সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ , ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শান্তিগঞ্জ থেকে শিমুলবাগান যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ‎জামালগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ ‎পাগনার হাওরে বাঁধ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১১ জামালগঞ্জে মহিষ চুরির সন্দেহে আটক দুই ও মাংস জব্দ নিখোঁজের পর ধানক্ষেতে মিলল ৭ বছরের শিশুর লাশ, দোয়ারাবাজারে তোলপাড় ‎জামালগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতা, ব্যাপক ফসলহানি হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা আজাদ মিয়া হত্যার দ্রুত ন্যায়বিচার চাই পণাতীর্থে লাখ লাখ পুণ্যার্থীর ঢল শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী

সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

  • আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৫ ০৮:১৯:০৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৫ ০৮:১৯:০৪ পূর্বাহ্ন
সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামাতে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি
সুনামগঞ্জসহ সারাদেশে সড়ক দুর্ঘটনার ক্রমবর্ধমান হার আজ একটি ভয়াবহ মানবিক ও সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। দৈনন্দিন যাতায়াত যেন এখন মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে চলার নামান্তর হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই সুনামগঞ্জ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪৪ জন, আহত হয়েছেন শতাধিক। সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে কারণগুলোর তালিকা দীর্ঘ এবং পুরনো। অপ্রশস্ত ও অনুন্নত সড়ক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক, অতিরিক্ত যাত্রী ও পণ্য পরিবহন, বেপরোয়া গতি এবং ট্রাফিক আইন উপেক্ষা - সবকিছুই যেন একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করছে। এই অবস্থায়ও আমরা দেখছি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়সারা কিছু অভিযান, সীমিত সচেতনতামূলক কর্মসূচি, আর পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ঠেলাঠেলি - দায়টা কে নেবে, সেই উত্তরহীন বিতর্ক। অন্যদিকে, সুনামগঞ্জবাসীর হতাশা আরও গভীর হয়েছে যখন দেখা যায়, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে ট্রাফিক বিভাগ কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ। সড়কের উপর থেকে সিএনজি অটোরিকশা ও লেগুনা দখল না সরিয়ে কেবল বক্তৃতায় নিরাপদ সড়ক চাওয়া আত্মপ্রবঞ্চনা ছাড়া আর কিছু নয়। সম্প্রতি সড়কে অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে চার মাস বয়সী নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনাও আমরা ভুলিনি। এইসব হৃদয়বিদারক ঘটনার দায় কে নেবে? সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে একাধিক স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সর্বাগ্রে প্রয়োজন সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ। লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে; এর দুর্বলতা ও অকার্যকারিতা এখন স্পষ্ট। বিআরটিএ’র কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ; তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা গেলে অবৈধ যানবাহনের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে না। একই সঙ্গে প্রয়োজন অবকাঠামোগত উন্নয়ন। জেলার প্রধান সড়কগুলো প্রশস্ত ও টেকসইভাবে নির্মাণ করতে হবে। নির্দিষ্ট গতিসীমা, ওভারটেকিং নিরোধ এবং পরিকল্পিত ডিভাইডার স্থাপনের মতো পদক্ষেপে দ্রুত এগোতে হবে। পথচারী ও চালকদের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু রাখতে হবে। সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে প্রশাসনের সদিচ্ছা এবং কার্যকর সমন্বয়। দুর্ঘটনা বন্ধে শুধু চালক নয়, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিআরটিএ, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতি - সবারই দায়িত্ব আছে। এই দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া মানে আরও মৃত্যু, আরও শোক। আমরা বলতে চাই, আর একটিও মৃত্যু যেন অবহেলার দায়ে না হয়। “সড়ক নিরাপদ হবে কবে?” - এই প্রশ্নের উত্তর আর দীর্ঘসূত্রতায় হারিয়ে যেতে দেওয়া যায় না। এখনই চাই কঠোর সিদ্ধান্ত, কার্যকর বাস্তবায়ন ও নিয়মভিত্তিক সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ