সুনামগঞ্জ , সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬ , ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শান্তিগঞ্জ থেকে শিমুলবাগান যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ‎জামালগঞ্জে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ ‎পাগনার হাওরে বাঁধ কাটা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ১১ জামালগঞ্জে মহিষ চুরির সন্দেহে আটক দুই ও মাংস জব্দ নিখোঁজের পর ধানক্ষেতে মিলল ৭ বছরের শিশুর লাশ, দোয়ারাবাজারে তোলপাড় ‎জামালগঞ্জে টানা বৃষ্টিতে হাওরে জলাবদ্ধতা, ব্যাপক ফসলহানি হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা আজাদ মিয়া হত্যার দ্রুত ন্যায়বিচার চাই পণাতীর্থে লাখ লাখ পুণ্যার্থীর ঢল শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী

লোককবিদের স্মৃতিচিহ্ন রক্ষায় উদ্যোগী হতে হবে

  • আপলোড সময় : ২৭-০৭-২০২৫ ০৮:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৭-০৭-২০২৫ ০৮:৫৫:২৩ পূর্বাহ্ন
লোককবিদের স্মৃতিচিহ্ন রক্ষায় উদ্যোগী হতে হবে
‘লোকে বলে বলেরে, ঘরবাড়ি ভালা না আমার’ - অমর মরমি কবি দেওয়ান হাসন রাজার এই আত্মবিন্যস্ত গানের পঙক্তির মতোই আজ সত্যি হয়ে উঠেছে তাঁর শূন্যতাময় পৈতৃক জমিদার বাড়ির অবস্থা। সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা গ্রামে অবস্থিত এই প্রভাবশালী জমিদার পরিবারের ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন এখন ধ্বংসের মুখে। বাংলা সাহিত্যে এবং আধ্যাত্মিক চর্চায় হাসন রাজার অবদান অবিস্মরণীয়। শুধুই একজন জমিদার নয়, তিনি ছিলেন বাউল-ভক্ত, আধ্যাত্মিক সাধক, মরমী কবি এবং গণমানুষের ভাবজগতের ভাষ্যকার। অথচ তাঁর জীবনঘনিষ্ঠ স্মৃতি, তাঁর বসতভিটা আজ পড়ে আছে অবহেলায়, অযতেœ - একটি লতাগুল্মে ঢাকা ধ্বংসপ্রায় ভবন, দরজা-জানালাবিহীন দুটি কক্ষ, একটি দীঘি ও পারিবারিক কবরস্থান - এসবই দাঁড়িয়ে আছে এক করুণ অপেক্ষায়। এ দুঃখ শুধু একটি বাড়ির নয়, এটি আমাদের সাংস্কৃতিক চেতনার ক্ষয়িষ্ণু দৃষ্টান্ত। শুধু হাসন রাজাই নন, এই হাওর অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে আছেন বহু মরমী সাধক, বাউল, বৈষ্ণব কবি ও সুফি কবিদের পদচিহ্ন - যাদের গানে, সাধনায় গড়ে উঠেছিল লোকধর্ম, সহনশীলতা ও মানবিকতার ঐক্যসূত্র। কিন্তু হতাশার বিষয়, এই ইতিহাস সংরক্ষণে নেই সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ, নেই সংস্কৃতিমনা নেতৃত্বের আন্তরিকতা। বিশ্বনাথের ইউএনও সুনন্দা রায় জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসনের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হলেও উত্তরাধিকারীদের অভ্যন্তরীণ জটিলতা এবং অনাগ্রহের কারণে অগ্রগতি হয়নি। প্রশ্ন হচ্ছে - একটি জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কি শুধুই ব্যক্তিগত মালিকানার দ্বারস্থ থাকবে? রাষ্ট্রের কি কোনো দায় নেই এই মহামূল্যবান স্মৃতিচিহ্নগুলো রক্ষা করার? আমরা দাবি জানাই, হাসন রাজার রামপাশার পৈতৃক বাড়ি দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এটি সংরক্ষণ করে একটি লোকসংগীত গবেষণা কেন্দ্র, মরমি সংগ্রহশালা বা আধ্যাত্মিক সাংস্কৃতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মরমি কবিদের স্মৃতিচিহ্ন যেমন রাধারমণ দত্ত, দুর্বিন শাহ, শাহ আবদুল করিম, সৈয়দ শাহনূরদের ঘর-বসতিও একইভাবে সংরক্ষণযোগ্য। বাংলার লোকজ ইতিহাস কেবল বইয়ের পাতায় নয়, জড়িত রয়েছে জীবন্ত স্থাপনা, পদচিহ্ন ও ঐতিহ্যে। আজ যদি আমরা তা হারিয়ে ফেলি, কাল আর শুধুই ফাঁকা গান গাইতে হবে- ‘ঘরবাড়ি ভালা না আমার...”। এই দেশ, এই মাটি, এই গান - সবই আমাদের। দায়িত্বটাও আমাদেরই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ