সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইরা’র ‘লাইট’ প্রকল্পের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভা সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী আহত, প্রতিবাদে মানববন্ধন লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ, ডিম নিক্ষেপ দিনে ৭-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং অতিষ্ঠ জনজীবন বিশ্বকাপের উন্মাদনায় আর্জেন্টাইন সমর্থকদের আনন্দ মিছিল ও মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান, জামালগঞ্জে সুরমা নদীর ওপর হচ্ছে সেতু সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এনডিএফ’র বিক্ষোভ পাটের বস্তা সংকটে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ধস, ঝুঁকিতে অর্ধশত গ্রাম দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ঢাকায় ফিরে এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও : ইংরেজিভীতি দূর করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন অবৈধভাবে তিন কালভার্ট বন্ধের অভিযোগ, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান কাজের তথ্য দিতে অপারগতা! সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ‘হাওর সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ মডেল সেরা প্রস্তাবিত বাজেট অধিক ঋণনির্ভর, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের : জামায়াত

পথে যেতে যেতে : পথচারী

  • আপলোড সময় : ১৫-০৭-২০২৫ ০৮:৩৩:৩১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৭-২০২৫ ০৮:৩৩:৩১ পূর্বাহ্ন
পথে যেতে যেতে : পথচারী
সিলেটের মাটি হযরত শাহজালালের (রহ.) মাটি, সিলেটের মাটি হযরত শাহপরাণের (রহ.) মাটি। এই মাটিতে জন্ম নিয়েছেন কত হাজার লক্ষ কোটি গুণী মানুষ। তারা সিলেটকে জনপ্রিয় করেছেন বিশ্বের দরবারে। তাদেরই একজন হচ্ছেন হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। ১০ জুলাই ছিল তার মৃত্যু দিবস। এ প্রজন্মের মানুষ তাকে চেনার কথাই নয়। কিন্তু তাকে তো আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। কেননা তাদের ত্যাগ, তিতিক্ষা, সাধনা আমাদের সামনে চলার পথ দেখাবে। হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর জন্ম ১৯২৮ সালের ১১ নভেম্বর সিলেট শহরের দরগাহ গেইটস্থ রশিদ মঞ্জিলে। পিতা আব্দুর রশীদ চৌধুরী ছিলেন অবিভক্ত ভারতের কেন্দ্রীয় বিধান সভার সদস্য এবং মাতা সিরাজুন নেছা চৌধুরী ছিলেন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য। বরেণ্য পিতা-মাতার সন্তান হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। তিনি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার। একধারে তিনি ছিলেন কূটনীতিক, রাজনীতিবিদ, তৃণমূল পর্যায়ে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি। সিলেটের এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান ছিলেন তিনি। সিলেটের প্রাচীন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সরকারি আলীয়া মাদ্রাসার হাই মাদ্রাসা সেকশনে প্রাথমিক শিক্ষাগ্রহণ করেন তিনি। এরপর আসামে মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৯৪৪ সালে ৮টি ক্রেডিটসহ সিনিয়র ক্যামব্রিজ পাস করে ১৯৪৭ সালে ভারতের আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদালয় থেকে মৃত্তিকা বিজ্ঞান, রসায়ন ও ভূগোল বিষয়ে ¯œাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার জন্য চলে যান যুক্তরাজ্যে। সেখানে তিনি ইংলিশ বার-এ আইন শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। মোটকথা অধ্যয়নে মি. রশীদ চৌধুরী মোটেও থেমে থাকেন নি। তার অদম্য আগ্রহ পড়াশোনা আর পড়াশোনা। তাই এক বন্ধুর পরামর্শে ভর্তি হন লন্ডনস্থ ইনার টেম্পোলে। সেখানে তিনি সদস্য হয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। কঠিন অধ্যবসায়ে তিনি ডুবে থাকতেন দিন-রাত্রির অধিকাংশ সময়। এক পর্যায়ে লন্ডন ইন্সটিটিউট অব ওয়ার্ল্ড থেকে ইন্টারন্যাশনাল এফেয়ার্স বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৫১ সালে তিনি যুক্তরাজ্যস্থ পাকিস্তান ছাত্র ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে পড়েন। ভাবতে থাকেন রাজনীতি নিয়ে। যে রাজনীতি হবে দেশের স্বার্থে। সাধারণ মানুষ বঞ্চনার শিকার যাতে না হয়, সে চিন্তা মাথায় রাখতেন। ১৯৫২ সালে পাকিস্তান ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। এবার তিনি নতুন ভাবনা নিয়ে এগোতে থাকেন। শুরু করেন কর্মজীবন। যোগ দেন পাকিস্তান ফরেন সার্ভিসে। চাকরি জীবনে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ স্থান হচ্ছে ‘ফরেন সার্ভিস’।। সেখানেও পড়াশোনা। এবার যুক্তরাষ্ট্রের মাসাচুসেটস্থ টাইটস বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ফ্লেচার স্কুল অব ল’ এন্ড ডিপ্লোমেসি থেকে পুনরায় গ্র্যাজুয়েশন ডিগ্রি লাভ করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সংগ্রামে তার ভূমিকা অসাধারণ। এ সময় কূটনৈতিক অঙ্গনে ঐতিহাসিক অবদান রাখেন। ১৯৭১-৭২ সালে নতুন দিল্লিস্থ বাংলাদেশ মিশনের প্রধান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অন্যান্য অনেক দায়িত্ব পালনের সাথে তিনিও একজন অংশীদার। সবারই ধারণা, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পূর্বেই ভুটান ও ভারতের বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান, তারই অবদান। এ সময় ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর ভারতের পার্লামেন্টে যে ভাষণ দেন তা বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার এই ভাষণ এ জন্য বিরল ঘটনা যে, প্রধানত কোনো দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরাই এ ধরনের ভাষণ দিয়ে থাকেন। দেশ স্বাধীন হলে সর্বপ্রথম রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন জার্মানিতে। নতুন দায়িত্ব পেয়ে সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া এবং হলিসি’র রাষ্ট্রদূত হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ গঠনেও ভূমিকা পালন করেন। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি নিযুক্ত হন। জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। সৌদী আরবেও বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন। এরপর সৌদি আরবে রাষ্ট্রদূত নিযুক্তকালীন পাশাপাশি জর্ডান, ওমান এবং ইয়েমেনেরও রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেন। এমনই বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন জনাব হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। ২০০১ সালের ১০ জুলাই এই অসামান্য প্রতিভাধর মানুষটি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। আমরা তার আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
দিনে ৭-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং অতিষ্ঠ জনজীবন

দিনে ৭-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং অতিষ্ঠ জনজীবন