সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬ , ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না : মির্জা ফখরুল শিশুর হাতে স্মার্টফোন : আশীর্বাদ না অভিশাপ? হাওরের জন্য ৫০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের দাবি টাঙ্গুয়ার হাওরে উজাড় হচ্ছে হিজল-করচ বাগ সাম্রাজ্যবাদী ও দেশবিরোধী সব চুক্তি বাতিলের দাবি “সমন্বয়কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন হান্নান মাসউদ” গুপ্ত ছিলাম, বাইরে যাইনি, ভবিষ্যতেও পালাবো না : জামায়াত আমির প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হলেন যাঁরা বিদ্যুতের দাম বাড়লো দুই বছরে নিঃস্ব হয়ে ফিরেছেন ২১৫ জন তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১৪৮৭ কোটি টাকা মা-বাবার পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত তোফায়েল আহমেদ গণমাধ্যম, পুলিশ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে অসহায় সাজু মিয়ার মুখে হাসি হাওরপাড়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস যাত্রী ওঠানো নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১২, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাঙচুর ১০টি পৌরসভার পানি সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, দুর্ভোগে ৬ শতাধিক গ্রাহক স্থানীয় সরকার নির্বাচন : আগস্টের শেষে তফসিল, অক্টোবরে ভোটের চিন্তা হাওরে কৃষকের নিরানন্দ ঈদ তোফায়েল আহমেদ আর নেই আমার রাজনীতির মূল লক্ষ্য জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা : এমপি কামরুল

সুনামগঞ্জ জেলা সদরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস চাই

  • আপলোড সময় : ২৩-০৬-২০২৫ ১২:৩৯:৩০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০৬-২০২৫ ১২:৩৯:৩০ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জ জেলা সদরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস চাই
একটি জেলার উন্নয়ন কেবল স্থাপনার মাধ্যমে হয় না, হয় পরিকল্পিতভাবে, জনগণের চাহিদা ও বাস্তবতার ভিত্তিতে। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস কোথায় স্থাপন হবে, এই বিষয়টি জেলাজুড়ে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। আর এই প্রশ্নের একটাই যৌক্তিক উত্তর: সুনামগঞ্জ জেলা সদরের নিকটেই স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহে দেখা যাচ্ছে, জেলা সদরে ক্যা¤পাস স্থাপনের দাবিতে শুধু শহর নয়, তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পেশাজীবী, রাজনৈতিক নেতা - সবাই রাস্তায় নেমে এসেছেন। দিরাই, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক, তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার, মধ্যনগরসহ প্রতিটি উপজেলা থেকে আওয়াজ উঠেছে: ‘বিশ্ববিদ্যালয় হাওরে নয়, জেলা সদরে চাই।’ সুনামগঞ্জের মানুষের বহু দিনের স্বপ্ন- একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। সেই স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের পথে, কিন্তু বিস্ময়করভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাস জেলার প্রাণকেন্দ্র, অর্থাৎ সদর না হয়ে স্থান পাচ্ছে এক প্রান্তিক এলাকায়। প্রশ্ন ওঠে- এ কেমন উন্নয়ন? এটি কি সমগ্র জেলার ছাত্র-ছাত্রীদের স্বার্থরক্ষা, না কি একটি নির্দিষ্ট এলাকার স্বার্থরক্ষার প্রচেষ্টা? সুনামগঞ্জ জেলা সদর হলো প্রশাসনিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকা-ের কেন্দ্রবিন্দু। এখানে রয়েছে পর্যাপ্ত অবকাঠামো, নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসেবা, গণপরিবহন, আবাসন সুবিধা এবং শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ। সর্বোপরি, এটি জেলার সর্বত্র থেকে সহজে পৌঁছানো যায়- একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য যা অপরিহার্য। অন্যদিকে, হাওরঘেঁষা দুর্গম কোনো এলাকায় স্থায়ী ক্যা¤পাস স্থাপন করা মানে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সম্ভাবনার অপচয়। একজন শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ক্লাস করতে গিয়ে যদি নিরাপদ যাতায়াত, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা ইন্টারনেট সুবিধা নিয়ে যুদ্ধ করতে হয়, তবে শিক্ষার মান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? শিক্ষা ও উন্নয়নের প্রশ্নে কোনো আপস নয়- এই নীতিই হওয়া উচিত রাষ্ট্র ও প্রশাসনের। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সুনামগঞ্জে সেটি বাস্তবায়নের পরিবর্তে চলছে রাজনৈতিক স্বার্থ ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের খেলা। এ যেন একপ্রকার শিক্ষার সঙ্গেই উপহাস। আমরা মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাস সদরেই হওয়া উচিত- এটি কেবল যৌক্তিক নয়, বরং ন্যায্যতার প্রশ্ন। যারা এ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তাদের মনে রাখা উচিত- একটি ভুল অবস্থান নির্বাচনের দায় এক প্রজন্মকে ভোগাবে। জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলা থেকে সদরেই রয়েছে সবচেয়ে কার্যকর ও বাস্তব যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশ্ববিদ্যালয় মানেই একটি শহরের বিকাশ, কর্মসংস্থান, গবেষণা ও ভবিষ্যতের বিনিয়োগ। সেই উন্নয়ন যদি সদর থেকে সরিয়ে ফেলা হয়, তবে তা জেলাবাসীর সঙ্গে চরম অবিচার ছাড়া কিছুই নয়। আমরা সুস্পষ্টভাবে জানাতে চাই- সুনামগঞ্জ জেলা সদরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যা¤পাস চাই, পূর্ণাঙ্গ ক্যা¤পাস চাই, এখনই চাই। এই দাবি কোনো দলের নয়, কোনো উপজেলার নয় - এটি পুরো জেলার মানুষের স্বপ্ন, আশা ও অধিকার। যদি সত্যিই আমরা ‘সুষম উন্নয়ন’ এবং ‘সবার জন্য শিক্ষা’ বিশ্বাস করি, তবে সিদ্ধান্ত নিন সঠিক স্থানে, জনগণের পক্ষে। জনগণের দাবির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন। জেলা সদরে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়েই সেই শ্রদ্ধার প্রমাণ দিন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স