সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চুমু বা আদরের আড়ালে শৈশবের অস্বস্তি ও ট্রমার গল্প জামালগঞ্জে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রত্যয় স্কুলে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন জগন্নাথপুরে সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ২, গ্রেফতার ৪ জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ‎জামালগঞ্জে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, গ্যাসের অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সুনামকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর দুই প্রতিবন্ধী সন্তান পেল হুইলচেয়ার সুনামগঞ্জে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, মাদকাসক্ত চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আহ্বান আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর, আমাদের ভাবিয়ে তুলছে: রিজভী বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত ছাতকে বন বিটের ৩০ হাজার চারা উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা দুর্গম হাওরে ব্যাহত প্রসূতিসেবা, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও ভাসমান হাসপাতালের দাবি জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫ ‘বায়োগ্যাস উৎপাদন করুন, জ্বালানি খরচ সাশ্রয় করুন’-জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান সমাজের প্রতিটি সমস্যা মোকাবেলায় সবাইকে কাজ করতে হবে : জেলা প্রশাসক ‘ভুয়া আইডি খুলে ধর্মীয় উসকানির’ অভিযোগে করেছিলেন জিডি, বিক্ষোভের মধ্যে পুলিশ নিল হেফাজতে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশনে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার গরমিলের অভিযোগ, প্রধান আসামি আটক ব্রিটিশ বাংলাদেশি মিডিয়াতে অবদান রাখায় ‘মিডিয়া এক্সিলেন্স’ সম্মাননা পেলেন সুনামগঞ্জের সাংবাদিক আ স ম মাসুম ‘গ্রাম সরকার’ গঠনের উদ্যোগ ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ আহত ৫

রক্তি নদীর আর্তনাদ : অবৈধ দখলেই কি তার মৃত্যু হবে?

  • আপলোড সময় : ২১-০৬-২০২৫ ০৮:৫০:০১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-০৬-২০২৫ ০৮:৫০:০১ পূর্বাহ্ন
রক্তি নদীর আর্তনাদ : অবৈধ দখলেই কি তার মৃত্যু হবে?
সুনামগঞ্জ জেলার প্রাণপ্রবাহের অন্যতম রক্তি নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে। এক সময়ের প্রাণবন্ত নদীটি আজ দখলদারদের থাবায় ক্ষীণপ্রায়। নদীর তীরে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা আজ এই জলধারাকে পরিণত করেছে সরু খালে। নদীর স্বাভাবিক প্রশস্ততা, গভীরতা এবং নাব্যতা হারিয়ে গেছে কেবলই অবৈধ দখলের ফলে। রক্তি নদীর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের নিয়ামতপুর, ফিরোজপুর ও নলুয়ারপাড় এলাকায় বহু বছর ধরে গড়ে ওঠেছে অবৈধ বসতি, দোকানঘর এবং দালানকোঠা। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই দখল প্রক্রিয়া চলে আসছে প্রায় তিন দশক ধরে। নদীর তীরের সরকারি খাস জমিতে নির্মিত এসব স্থাপনা আজ গড়ে তুলেছে একটি বসতিপূর্ণ গ্রাম। খোদ দখলকারীরাও স্বীকার করছেন, তারা অবৈধভাবে বসতি গড়েছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নীরবতা কিংবা নিষ্ক্রিয়তা বিষয়টিকে আরও ভয়াবহ রূপ দিয়েছে। নদী দখলের প্রভাব শুধু নদীর ওপরই সীমাবদ্ধ নেই; হাওরের জলপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, কৃষিজমিতে পানির স্বাভাবিক বিস্তার ব্যাহত হচ্ছে, পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে এবং বর্ষায় জলাবদ্ধতা তীব্রতর হচ্ছে। নদীকে হত্যা করে নির্মিত এই বসতি কেবল আইন লঙ্ঘন নয়, প্রকৃতির ওপর সরাসরি এক নিষ্ঠুরতম আঘাত। সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের মালিকানাধীন খাস জমি সাধারণ নাগরিকের দখলে থাকার কোনো সুযোগ নেই। নদী রক্ষা আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, নদীর জমি দখল করা ফৌজদারি অপরাধ এবং আদালত নির্দেশেও দেশের অন্যত্র হাজার হাজার দখলদার উচ্ছেদ হয়েছে। তাহলে রক্তি নদীর ক্ষেত্রে দীর্ঘকাল ধরে এই অব্যবস্থাপনা কেন? আমরা দেখতে পাচ্ছি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নতুন দায়িত্ব নেওয়ায় বিষয়টি তার অজানা ছিল। ভূমি অফিস বিষয়টি স¤পর্কে অবহিত হলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেয়নি। এটা প্রমাণ করে, সংশ্লিষ্টরা জেগেও ঘুমিয়ে আছেন। এখনই সময়, আর এক মুহূর্ত দেরি নয়। স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। দখলদারদের তালিকা তৈরি করে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। যারা সরকারি জমি দখল করে অবৈধভাবে বসতি গড়েছেন, তাদের পুনর্বাসনের প্রয়োজন থাকলে তা আলাদা নীতিমালায় বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে নদীর তীর অবৈধ দখলের দোহাইয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। আমরা মনে করি, রক্তি নদী শুধু পানি নয় - এটা জীবিকা, পরিবেশ, সংস্কৃতি এবং অস্তিত্বের প্রতীক। এই নদীর মৃত্যু মানে একটি জনপদের বিপন্নতা। তাই এখনই সাহসিকতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে - নদীকে বাঁচাতে হলে দখলদারদের উচ্ছেদ করতেই হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
দুর্গম হাওরে ব্যাহত প্রসূতিসেবা, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও ভাসমান হাসপাতালের দাবি

দুর্গম হাওরে ব্যাহত প্রসূতিসেবা, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও ভাসমান হাসপাতালের দাবি