সুনামগঞ্জ , শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫ , ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকায় জাতীয় পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদের সংঘর্ষ অনলাইন জুয়ার ‘হটস্পট’ জাউয়াবাজার প্রতিপক্ষের সুলফির আঘাতে নিহত ১ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ তাহিরপুরে দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ ৬ রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি রিভলবার জব্দ ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরলে কবে থেকে কার্যকর হবে? একটি মহল চেষ্টা করছে গণতান্ত্রিক শক্তি যেন ক্ষমতায় না আসে : মির্জা ফখরুল বর্জ্যে ভুগছে টাঙ্গুয়ার হাওর হাওরের ফসল রক্ষায় প্রায় চূড়ান্ত ২,২৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প সুনামগঞ্জ মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র বরাদ্দের অভাবে বন্ধ নির্মাণকাজ ইশতেহার তৈরি করছে বিএনপি, গোপনে চলছে প্রার্থী যাচাই সভাপতি ও সম্পাদক পদে লড়ছেন চারজন জন্মদিনে শুভেচ্ছায় সিক্ত কবি ইকবাল কাগজী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ আর নেই প্রাথমিকে এক হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

জাতীয় সংগীতে বাধা : চেতনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র

  • আপলোড সময় : ১৫-০৫-২০২৫ ০১:১০:১৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৫-০৫-২০২৫ ০১:১০:১৬ পূর্বাহ্ন
জাতীয় সংগীতে বাধা : চেতনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র
জাতীয় সংগীত একটি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতীক। এটি শুধু একটি সুর বা কবিতা নয়, বরং একটি জাতির চেতনা, আত্মত্যাগ এবং সংগ্রামের প্রতিধ্বনি। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’ যেন এক একটি শহীদের রক্তে রঞ্জিত প্রতিজ্ঞা, যে প্রতিজ্ঞা ছিল একটি স্বাধীন, সার্বভৌম, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য। সম্প্রতি শাহবাগে আয়োজিত একটি গণজমায়েতে ছাত্রনেতাদের জাতীয় সংগীত গাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার যে ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা একত্রিত হয়ে সমস্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেছেন- এটি শুধু একটি সংগীত পরিবেশনা নয়, বরং একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক ও নৈতিক বার্তা। জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকা কোনো দল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। এগুলো গোটা জাতির, প্রতিটি নাগরিকের গর্বের বিষয়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় যে কেউ যখনই এই প্রতীকগুলোকে ব্যবহার করবে, তা কখনোই দমনযোগ্য নয়। বরং, এসব ক্ষেত্রে বাধা প্রদান নিজেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। এই প্রেক্ষাপটে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিবাদ কর্মসূচি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, জাতির ইতিহাসকে বিকৃত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে নতুন প্রজন্ম। বিশেষ করে, যখন ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর মতো নানা রাজনৈতিক মতের সংগঠন একত্রে দাঁড়ায়, তখন তা কেবল একটি সংগীত পরিবেশন নয় - একটি ঐক্যের ঘোষণা। সরকার ও প্রশাসনের উচিত, জাতীয় প্রতীক ব্যবহারে এমন বাধা সৃষ্টি হয়েছে কি না তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। জাতীয় সংগীত গাওয়া সেই অধিকারের অন্তর্ভুক্ত। সবশেষে বলা প্রয়োজন, জাতীয় প্রতীকগুলোকে রক্ষা করা শুধু এক পক্ষের দায়িত্ব নয়, এটি পুরো জাতির নৈতিক দায়িত্ব। আজ যারা জাতীয় সংগীতে বাধা দেন, কাল তারা ইতিহাসকে অস্বীকার করবেন। এই পথ রুদ্ধ করতে হলে আমাদের সবাইকে - ছাত্র, শিক্ষক, নাগরিক - একসাথে এগিয়ে আসতে হবে। ইতিহাস ও চেতনার ওপর আঘাত সহ্য করার সময় এখন আর নেই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স