সুনামগঞ্জ , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬ , ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বালুর নিচে হাজার বিঘা কৃষিজমি, বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা হবিগঞ্জে সারজিস ও নাসীরুদ্দীনসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা সরকার নৈতিক দিক থেকে দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে : জামায়াত আমির একটি মহল সচেতনভাবে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করছে : মির্জা ফখরুল আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বিভক্তির চিত্র, ৬ ও ৮ আগস্ট পৃথক সমাবেশের ডাক উড়াল সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি শিশু ধর্ষণের প্রতিবাদে মানববন্ধন, স্মারকলিপি, ধর্ষকের ফাঁসির দাবি ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২, আহত ৪ দাবি মেনে নতুন টোল নির্ধারণ, নদীপথে স্বাভাবিক হচ্ছে পণ্য পরিবহন সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ স্থগিত তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় ভারত : দীনেশ ত্রিবেদী চার্জশিট থেকে মূল আসামিসহ ৯ জনের নাম বাদ দেয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ধোপাজান-চলতি নদীতে বালু লুট বন্ধের দাবি মানব সমাজ, সৃজনশীলতা ও সভ্যতার বিবর্তন : সৃষ্টি ও ধ্বংসের এক অনন্ত মহাকাব্য তাহিরপুরে চাঁদাবাজির প্রতিবাদে নৌপরিবহন ধর্মঘট, ব্যবসায় স্থবিরতা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী জগন্নাথপুরে বেহাল সড়কে চরম ভোগান্তি মামলা করায় ৬ জনকে কুপিয়ে জখম, আইসিইউতে ২ হাছননগর সড়কের সংস্কারকাজ উদ্বোধন ঢলে ভেসে আসা কয়লা কুড়িয়েই চলে পাঁচ হাজার মানুষের জীবন

পথে যেতে যেতে: পথচারী

  • আপলোড সময় : ০৬-০৫-২০২৫ ০৭:১০:৩৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০৫-২০২৫ ০৭:১৪:৪৩ পূর্বাহ্ন
পথে যেতে যেতে: পথচারী
১ মে ছিল শ্রমিক দিবস। এই দিন সরকারি ছুটি। সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানে এই দিনে সাধারণ ছুটি পালন করা হয়ে থাকে। কলে কারখানায় কাজ বন্ধ রাখে শ্রমিকরা। তারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করলেও তার সঠিক মজুরি পায় না। এটি তাদের উপর এক অবিচার।
এমন এক সময় ছিল যখন শ্রমিকরা ১৮ ঘণ্টাই কাজ করতো কোনো বিরতি ছাড়াই। তাই শ্রমজীবী মানুষ দিনে দিনে তাদের অধিকার বিষয়ে সচেতন হয়ে ওঠে। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে এভাবে মালিকরা শোষণ করতো সাধারণ শ্রমিকদের। ১৮৮১ খ্রি. ‘আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার’ এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রকার কর্মসূচি দেয়। কিন্তু মালিক পক্ষ এতে কর্ণপাত করে না। শ্রমিকরা তাই বিভিন্ন দাবিতে নতুন নতুন কর্মসূচি পেশ করে। দিনে দিনে শ্রমিকদের এই দাবির প্রতি সমর্থন বাড়তে থাকে।

এক পর্যায়ে ১৮৮৬ সালের ১ মে এক বিশাল জমায়েতের ডাক দেয় শ্রমিকরা। এই জমায়েত কর্মসূচিতে বাধা দেয় পুলিশ। এতে বেশকিছু শ্রমিক পুলিশের গুলিতে আহত হয়। তাই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের আনাচে-কানাচে। সচেতন হয় বিশ্বের শ্রমিক সমাজ। ওই সময় সমাবেশে দাবি ছিল ৮ ঘণ্টা কাজ, ৮ ঘণ্টা বিশ্রাম ও ৮ ঘণ্টা বিনোদন। চারিদিকে এই দাবির প্রতি জোরালো সমর্থন বাড়তে থাকে।

জানাযায়, ১৮০০ সালের সমাবেশে প্রায় ৫ লক্ষ লোক জড়ো হয়। সেদিন পুলিশ গুলি চালালে বেশকিছু শ্রমিক হতাহত হয়। ৩ মে ম্যাক কর্মিক হারভেস্টার কারখানায় পুলিশ হামলা চালালে ৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারায়। এভাবে দিনে দিনে কর্মসূচি চলতে থাকে।
এরপর ৪ মে হে মার্কেটের স্কয়ারে এক বিশাল সমাবেশের আয়োজন করে শ্রমিকরা। বেশকিছু শ্রমিক পুলিশের গুলিতে হতাহত হয়। সমাবেশ থেকে ৪ জন শ্রমিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। সরকারের বিচারে গ্রেফতাকৃত শ্রমিকদের ফাঁসির আদেশ হয়। এর প্রতিবাদে আমেরিকাসহ সারা বিশ্বের শ্রমিকরা ফুঁসে ওঠে।

১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এই সম্মেলনেও শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়। এটি ছিল ফরাসী বিপ্লবের ১০০ বছর পূর্তি। শ্রমিকরা সেই আন্দোলনে তাদের দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হয়। শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ে ‘ট্রেড ইউনিয়ন’ গঠন করলেও সেই দাবি ঠিক তেমন জোরালো হচ্ছিল না।
এর ধারাবাহিকতায় ১৯০৪ খ্রি. আমস্টারডাম শহরে অনুষ্ঠিত সমাজতন্ত্রীদের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ উপলক্ষে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। ঐ প্রস্তাবে বিশ্বজুড়ে সব শ্রমিক সংগঠন ১ মে বাধ্যতামূলকভাবে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকে সারা বিশ্বে দিনটি মে দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
মে দিবসের আন্দোলন মানেই হচ্ছে শ্রমজীবী আন্দোলন। শ্রমজীবী মানুষের সম্মিলিত সংগঠন যা তাদের ভাগ করা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে এগিয়ে নিতে পারে।

বাংলার শ্রমিক আন্দোলনের নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয় আব্দুল মোমিনকে। তার জন্ম ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দের ৩০ অক্টোবর এবং মৃত্যু ১৯৮৩ সালে। ভারতীয় শ্রমিক আন্দোলনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয় বাল গঙ্গাধর তিলক এবং লালা রাজনাথ রায়ের নেতৃত্বে। সে সময় গঠিত হয়েছিল ‘সর্ব ভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন’। এই সংগঠন ভারতের শ্রমিক সমাজকে সর্বক্ষেত্রে সংগঠিত করেছিল। বাংলাদেশেও অনুরূপ শ্রমিক সংগঠন তৈরি হয়েছে। তবে তা হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানারে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো তাদের নিজস্ব মতধারায় শ্রমিকদের ব্যবহার করেছে। ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন তাই নিজস্ব ধারায় সামনে এগিয়ে যেতে পারেনি। যার ফলে শ্রমিকরা রয়েগেছে সমস্যার আড়ালে। প্রতি বছর তাই মে দিবস আসে এবং চলেও যায়। কিন্তু তা বাস্তবে কোন ভূমিকা পালন করতে পারে না।
১৮৮৬ সালে যে আদর্শকে সামনে রেখে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেছিল আজও তা বাস্তবে রূপ লাভ করতে পারেনি। আমরা শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের পক্ষে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বালুর নিচে হাজার বিঘা কৃষিজমি, বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা

বালুর নিচে হাজার বিঘা কৃষিজমি, বোরো আবাদ নিয়ে শঙ্কা