সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ , ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চুমু বা আদরের আড়ালে শৈশবের অস্বস্তি ও ট্রমার গল্প জামালগঞ্জে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন প্রত্যয় স্কুলে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উদযাপন জগন্নাথপুরে সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ২, গ্রেফতার ৪ জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ‎জামালগঞ্জে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, গ্যাসের অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সুনামকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর দুই প্রতিবন্ধী সন্তান পেল হুইলচেয়ার সুনামগঞ্জে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, মাদকাসক্ত চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আহ্বান আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর, আমাদের ভাবিয়ে তুলছে: রিজভী বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত ছাতকে বন বিটের ৩০ হাজার চারা উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা দুর্গম হাওরে ব্যাহত প্রসূতিসেবা, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও ভাসমান হাসপাতালের দাবি জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫ ‘বায়োগ্যাস উৎপাদন করুন, জ্বালানি খরচ সাশ্রয় করুন’-জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান সমাজের প্রতিটি সমস্যা মোকাবেলায় সবাইকে কাজ করতে হবে : জেলা প্রশাসক ‘ভুয়া আইডি খুলে ধর্মীয় উসকানির’ অভিযোগে করেছিলেন জিডি, বিক্ষোভের মধ্যে পুলিশ নিল হেফাজতে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশনে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার গরমিলের অভিযোগ, প্রধান আসামি আটক ব্রিটিশ বাংলাদেশি মিডিয়াতে অবদান রাখায় ‘মিডিয়া এক্সিলেন্স’ সম্মাননা পেলেন সুনামগঞ্জের সাংবাদিক আ স ম মাসুম ‘গ্রাম সরকার’ গঠনের উদ্যোগ ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ আহত ৫
স্ম র ণ

গরিবের ডাক্তার ছিলেন রাশেন্দ্র তালুকদার

  • আপলোড সময় : ২৩-০৪-২০২৫ ০৮:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-০৪-২০২৫ ০৮:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
গরিবের ডাক্তার ছিলেন রাশেন্দ্র তালুকদার
রনেন্দ্র তালুকদার পিংকু ডা. রাশেন্দ্র কুমার তালুকদার সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস (চৌকা) গ্রামে ১৯৪৬ সালের পহেলা এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সিলেটে লেখাপড়া করেন। সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ থেকে এমএমবিএস পাস করেন এবং প্রথম দিকে তিনি সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তার হিসেবে যোগদান করেন। বছর দুয়েক পরে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ হাসপাতালে বদলি হন। সেখান থেকে তিনি দিরাই হাসপাতালে ডাক্তার হিসেবে যোগদান করেন এবং দিরাই হাসপাতালের সরকারি চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি দিরাই-শাল্লার জনগণকেও সেবা দিতে থাকেন। অল্প কিছু দিনের ভেতরেই তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। এক পর্যায়ে তিনি দিরাই শহরেই বাসাবাড়ি তৈরি করেন এবং বসবাস শুরু করেন। দিরাই হাসপাতালের আরএমও পদ থেকে সিভিল সার্জন হয়ে মাদারীপুরে বদলি হলে দিরাই-শাল্লার লোকজনের ভালোবাসার কাছে হেরে গিয়ে চাকরি থেকে তিনি অব্যাহতি নেন এবং দিরাইয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস শুরু করেন। আশির দশকের দিকে দিরাইয়ে তখন কোনো ধরনের কোনো প্যাথলজিক্যাল সুবিধা ছিলো না। অর্থাৎ কোনো ধরনের ব্লাড, ইউরিন, এক্স-রেসহ কোনো ধরনের কোনো সুবিধাই ছিল না। জটিল রোগে আক্রান্ত রোগীদেরকে সিলেট পাঠানো হতো। এই অবস্থায় ডাক্তার রাশেন্দ্র তালুকদার নিজের হাতযশ বলে রোগীদের চিকিৎসা করে সুস্থ করে ফেলতেন। ফলে দিরাই-শাল্লার শতশত গ্রামের হাজার হাজার লোকজন ডাক্তার রাশেন্দ্র তালুকদারের কাছেই চলে আসতেন চিকিৎসার জন্য। দূর-দূরান্ত থেকে রোগীরা নৌকা করে বর্ষার দিনে রাশেন্দ্র তালুকদারের বাড়ির পাশেই সুবিধাজনক স্থানে নৌকা নোঙ্গর করে রোগীরা চেম্বারে চলে আসতেন। কোনো কোনো রোগী রাসেন্দ্র ডাক্তারের ফি বাবদ ২০/৩০ টাকা দিলে তিনি সানন্দেই তা গ্রহণ করতেন। একজন এমএমবিবিএস ডাক্তার হয়ে কখনো কোনো রোগীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা নিতেন না। যে যখন যা দেয় তাই তিনি সাদরে গ্রহণ করতেন। প্রায় ২৫ ভাগ রোগীদেরকে তিনি ফ্রি চিকিৎসা দিতেন। অনেকদিন ডাক্তার রাসেন্দ্র তালুকদারের চেম্বারের সামনে রোগীদেরকে জিজ্ঞাসা করতাম দিরাই-শাল্লায় আরো অনেক ডাক্তার আছেন আপনারা এখানে কেনো ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে আছেন। জবাবে রোগীরা বলতেন আমাদের বিশ্বাস আমাদের ভগবানের পরেই ডাক্তার রাশেন্দ্র তালুকদার। সেই রাশেন্দ্র তালুকদারকে যদি একবার দেখাতে পারি তাহলে আমাদের রোগবালাই ভালো হয়ে যাবে। এই বিশ্বাসের ওপরেই ভর করে আমরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন করে দাঁড়িয়ে থাকি। অনেক রোগী ৩০ মাইল ৪০ মাইল দূর শুকনো মৌসুমে পায়ে হেটে, বর্ষার দিনে নৌকায় করে রাশেন্দ্র ডাক্তারকে এক নজর দেখানোর জন্য চলে আসতেন। প্রায় ৩ যুগ ধরে ডাক্তার রাশেন্দ্র তালুকদার দিরাই-শাল্লার লোকজনদেরকে এই সেবা দিয়েছেন। তিনি সুনামগঞ্জের জামাইপাড়ার কাঠুরিয়া বাসার নৃপ্রেন্দ্র ভূষণ তালুকদারের মেয়ে নমীতা রানী তালুকদার কৃষ্ণার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি দিরাই শহরে নিজ অর্থায়নে রামকৃষ্ণ আশ্রম স্থাপন করেন। বহু গুণের অধিকারী গরীবের ডাক্তার কিংবদন্তী কীর্তিমানের মহাপ্রয়াণ হলো ২১ এপ্রিল সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচ টার দিকে দিরাই পৌরশহরের কলেজ রোডের নিজ বাসায়। চার ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন মেজো। নিঃসন্তান রাশেন্দ্র তালুকদারের স্ত্রী আগেই প্রয়াত। ডা. রাশেন্দ্র তালুকদারের মৃত্যুতে দিরাইবাসী হারালো তাদের ভালোবাসার মানুষকে। শাল্লাবাসী হারালো তাদের প্রিয়জনকে। আমরা তার প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
দুর্গম হাওরে ব্যাহত প্রসূতিসেবা, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও ভাসমান হাসপাতালের দাবি

দুর্গম হাওরে ব্যাহত প্রসূতিসেবা, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও ভাসমান হাসপাতালের দাবি