সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

পথে যেতে যেতে: পথচারী

  • আপলোড সময় : ২২-০৪-২০২৫ ১২:০৮:৫৪ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০৪-২০২৫ ১২:১৪:০৫ পূর্বাহ্ন
পথে যেতে যেতে: পথচারী ছবি: পথচারী।
পথচারী::
সত্যজিৎ রায় একটি নাম, একটি ইতিহাস। ভারত তথা এশীয় মহাদেশে চলচ্চিত্র জগতে একটি অনন্য নাম। পূর্ব পুরুষের জন্মভিটা বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার মসুয়া গ্রামে হলেও জন্ম ভারতের কোলকাতায়। পিতা- সুকুমার রায়, মাতা- সুপ্রভাত রায়, স্ত্রী- বিজয়ী রায় চৌধুরী (১৯৪৯-১৯৯২)। সত্যজিৎ রায় একাধারে চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্র নাট্যকার, লেখক, সংগীত পরিচালক, ক্যালিওগ্রাফার, শিল্প নির্দেশক।

ছোটবেলায় সংগীতের প্রতি তার বেশ ঝোক ছিল। স্থানীয় বিদ্যালয়ে প্রাথমিক পড়াশোনা শেষে ভর্তি হন প্রেসিডেন্সি কলেজে। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েট, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন। সত্যজিৎ রায় প্রথমে ছবি নির্মাণ করেন ‘পথের পাঁচালী’। অবাক করা বিষয় হল এই ছবিটিই পরপর ১১টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করে। ছবিটি বাংলা চলচ্চিত্রকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যায়। দেশে-বিদেশে ছবিটি বহু প্রশংসিত হয়। বাঙালি মাত্রই ছবিটি দেখেননি এমন দর্শক কম আছেন। ‘পথের পাঁচালী’-এর পর নির্মাণ করেন ‘অপুর সংসার’ (১৯৫৫-১৯৫৯), ‘চারুলতা’ (১৯৬৪), দ্য মিউজিক রুম (১৯৫৮), গোপী গাইন বাঘাবাইন (১৯৬৩) ইত্যাদি। পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র সব মিলিয়ে তিনি মোট ৩৭টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।
বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে প্রথম সারির একজন হচ্ছেন সত্যজিৎ রায়। ভাল চলচ্চিত্র নির্মাণের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ভারতের সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘ভারত রতœ’ লাভ করেন ১৯৯২ সালে। এছাড়াও তিনি অর্জন করে ‘একাডেমি অনারারি এডওয়ার্ড’, ‘লেজিও দলরের পদক (ফ্রান্স) ফ্রান্স সরকারের সর্বোচ্চ সম্মাননা, ‘দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার (১৯৮৪), পদ্মশ্রী (১৯৫৮), পদ্মভূষণ (১৯৬৫), কমান্ডার অব দি লিজিয়ন অনার (১৯৮৭) ইত্যাদি। সত্যজিৎ রায় ছিলেন বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী। সত্যজিৎ রায়ের কর্মজীবন শুরু কমার্শিয়াল আর্টিস্ট হিসেবে। পাশাপাশি লেখালেখি করতে থাকেন স্থানীয় পত্র-পত্রিকায়।
তার রচিত বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ‘ফেলুদা’ পাঠকমহলে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তার রচিত অপর একটি কাল্পনিক চরিত্র প্রফেসর শংকু, তারিনী খুড়ো প্রভৃতি। বেশকিছু উপন্যাস ও ছোটগল্প তিনি রচনা করেন যা বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ‘মোল্লা নাসির উদ্দিন’ গল্পের সংকলন সংগ্রহ করে তিনি প্রকাশ করে যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এ সমস্ত রচনা তিনি স্থানীয় বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ করেন তারই বন্ধু নির্মাল্য আচার্য্যরে মাধ্যমে। নির্মাল্য আচার্য্য ‘এক্ষণ’ নামে একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন। সত্যজিৎ রায় চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখা লিখতেন এবং অনেক ছোটগল্প লিখতেন যা বাংলা সাহিত্যে কালজয়ী হয়ে আছে।
তার অনেক গল্প ও উপন্যাস ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে যা পাঠক সমাজে সমাদৃত হয়েছে। সত্যজিৎ রায় এমনই বহুমাত্রিক লেখক যিনি কাল্পনিক চরিত্র চরনা করে পাঠকমহলে সমধিক পরিচিত লাভ করেছেন। যেমন, ফেলুদা, তারিনী খুড়ো, প্রফেসর শংকু প্রভৃতি। এ সকল চরিত্র দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া পায়। তার
ছেলে সন্দীপ রায়ও চলচ্চিত্র পরিচালনা করেছেন। সত্যজিৎ রায়ের অধিকাংশ রচনাই স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে। এগুলো এতই জনপ্রিয়তা পেয়েছে যে, তা অন্য ভাষায় অনূদিত হয়ে প্রকাশ পেয়েছে। এ সকল রচনা ‘আনন্দ প্রকাশ’ নামে একটি প্রকাশনা সংস্থা প্রকাশ করে ছড়িয়ে দিয়েছে পাঠকমহলে। বাংলা ভাষা-ভাষী মানুষ চিরদিন মনে রাখবে সত্যজিৎ রায়কে। সত্যজিৎ রায়ের জন্ম ১৯২১ সালের ২ মে এবং মৃত্যু ১৯৯২ সালের ২৩ এপ্রিল। আমরা এই অমর চলচ্চিত্র প্রতিভার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। বাঙালি জাতি চিরদিন তাকে স্মরণ করবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স