সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ , ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর বাজেট প্রত্যাখ্যান করে এনডিএফ’র বিক্ষোভ পাটের বস্তা সংকটে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম বন্ধ, ভোগান্তিতে কৃষক চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ধস, ঝুঁকিতে অর্ধশত গ্রাম দিল্লিতে প্রবেশে বাধা, ঢাকায় ফিরে এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ বিদ্যালয়ে ক্লাস নিলেন ইউএনও : ইংরেজিভীতি দূর করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সদর হাসপাতালে ১০ শয্যার আইসিইউ কার্যক্রম উদ্বোধন অবৈধভাবে তিন কালভার্ট বন্ধের অভিযোগ, জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণ, যুবক গ্রেফতার বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শিশুশ্রমকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর আহ্বান কাজের তথ্য দিতে অপারগতা! সাংবাদিককে হুমকি-ধমকি এআই ক্যামেরা ‘কাল’ হলো বেনজীরের গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের ‘হাওর সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা’ মডেল সেরা প্রস্তাবিত বাজেট অধিক ঋণনির্ভর, অবাস্তবায়নযোগ্য ও লুটপাটের : জামায়াত সুবিপ্রবি উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে ১০ দিনের আল্টিমেটাম কারা নির্যাতিত নেতাকর্মীদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে এমপি কামরুলের আনন্দ ভ্রমণ কালো টাকা সাদা করার সুযোগ নেই, ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে : এনবিআর চেয়ারম্যান হাঁটু সমান কাদা, চলাচলে চরম দুর্ভোগ : পশ্চিম টিলাগাঁও সড়ক সংস্কারের দাবি হাসপাতাল থেকে চুরি হওয়া নবজাতক উদ্ধার, দম্পতি আটক ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নে দোয়ারাবাজারে গণশুনানি
জেলা প্রশাসকের কাছে স্থানীয়দের আবেদন

লঞ্চঘাট এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও যাত্রীছাউনি নির্মাণের দাবি

  • আপলোড সময় : ০৯-০৪-২০২৫ ০৬:২৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৯-০৪-২০২৫ ০৬:২৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
লঞ্চঘাট এলাকার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও যাত্রীছাউনি নির্মাণের দাবি
স্টাফ রিপোর্টার :: সুনামগঞ্জ পৌর শহরের লঞ্চঘাট-পূর্ব ইব্রাহীমপুর খেয়াঘাটের পূর্বদিকে সুরমা নদীরপাড়ে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে যাত্রীছাউনি নির্মাণের দাবি উঠেছে। ৩০৬ স্থানীয় বাসিন্দা স্বাক্ষরিত আবেদনপত্র মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসক বরাবর প্রদান করা হয়। এর আগে স্থানীয়রা র‌্যালি সহকারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে এই আবেদন দেন। এ সময় জেলা প্রশাসক আশ্বস্ত করে বলেন, যদি সরকারি জায়গা হয়, তবে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের জায়গার ব্যবস্থা হবে। এই বিষয়টি দেখার জন্য এডিসি রাজস্বকে দিচ্ছি। পরে এডিসি (রাজস্ব) সাথে দেখা করেন পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামবাসী। তিনিও তাদের একইভাবে আশ্বস্ত করেন। এ সময় জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। আবেদনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল এবং ব্যবসায়ীদের স্বাক্ষর ও মোবাইল নম্বর রয়েছে। আবেদনে তারা খেয়াঘাটে অপেক্ষমাণ হাজারো শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের রোদ-বৃষ্টিতে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে নদীর তীরে অবৈধ হোটেলসহ অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করে যাত্রীছাউনি নির্মাণের দাবি জানান। জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদনে উল্লেখ করা হয়, লঞ্চঘাট এলাকায় বেঙ্গল ওয়াটার নামের লঞ্চ সার্ভিস অফিসের কার্যক্রম চলতো ছোট্ট একটি পাকা ঘরে। ১৯৫৯-১৯৬১ সালের দিকে তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক (এসডিও) বি. আর নিজাম জনস্বার্থে এই অফিস ঘর নির্মাণের জন্য অনুমোদন দেন। তখন অনুমান ৩ শতাংশ জায়গার উপর এই অফিস ঘর নির্মাণ করা হয়। এই জায়গার শ্রেণী লায়েক পতিত। যার জেএল নং-১৪৪, মৌজা-তেঘরিয়া। সরকারি ১ খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত এস.এ দাগ নং-১৬০১, জায়গার পরিমাণ ৩১ শতাংশ। স্থানীয়রা জানান, তৎকালীন পাকিস্তান আমলে পাক ওয়াটার ওয়েজ কোং লিমিটেড বিলুপ্ত হলে বাংলাদেশ আমলে বেঙ্গল ওয়াটার ওয়েজ লিমিটেড নামকরণ হয়। সেই পাকিস্তান আমল থেকে অফিসের সামনের দিকে ছিল জেলা বন বিভাগের চলাচল রাস্তা। এখনও বন বিভাগের এই অফিস বিদ্যমান আছে। যাহার জেএল নং- ১৪৪, মৌজা- তেঘরিয়া। সরকারি ১ খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত এস.এ দাগ নং- ১৬০২, জায়গার পরিমাণ ৪৬ শতাংশ, শ্রেণী-বাড়ি। বন বিভাগে আসা-যাওয়া করতে ১৬০১ দাগের নদীরপাড় দিয়ে রাস্তা ছিল। এখন অফিসের কর্মচারী কর্মকর্তাদের চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ আছে। বর্তমানে সরকারি ১নং খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ১৬০১ দাগের ৩১ শতক জায়গায় বিলুপ্ত বেঙ্গল ওয়াটারের অফিস, বন বিভাগের রাস্তা, নদীর তীরসহ অন্যান্য জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ করে মাসে লক্ষ টাকা আয় করে আসছেন বেঙ্গল ওয়াটার অফিস দখল করে থাকা বসতিরা। স্থানীয় একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, দীর্ঘ ৭০ বছর যাবত শহরের সাথে যোগাযোগ রক্ষায় এই খেয়াঘাটের নৌকায় পারাপার হয়ে আসছেন। সদর উপজেলার সুরমা নদীর উত্তরপাড়ের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার হাজারো শিক্ষার্থীসহ বয়স্ক মহিলা পুরুষ, রোগী, বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ প্রতিদিন খেয়া নৌকায় পারাপার হয়ে শহরে আসা-যাওয়া করছেন। কিন্তু সুনামগঞ্জ পৌর শহরের এই লঞ্চঘাট এলাকায় শহর ও পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামে যোগাযোগ খেয়াঘাট সংলগ্ন পূর্বদিকে প্রায় ১৭ বছর আগে থেকে সুরমা নদীরপাড় দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এতে নারী, মেয়ে শিক্ষার্থীরা খেয়া পারাপারের অপেক্ষায় দাঁড়ানোর জায়গার সংকট দেখা দিয়েছে। এমনকি নদীর তীরের অবৈধ স্থাপনা (হোটেল) থাকায় ইভটিজিংসহ হোটেলের ময়লা-আবর্জনা ফেলা, সিঁড়ির উপর দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের গায়ে রান্না করা চুলার গরম তেল ছিটকে পড়া, ছাইয়ের গুড়া উড়িয়ে ফেলা, নোংরা পানি ফেলা প্রভৃতি সমস্যার কারণে প্রতিনিয়ত ঝামেলা সৃষ্টি হয়ে আসছে। এছাড়াও হোটেলের রান্নার চুলা ও লাকড়ি রোডের উপর স্তূপ করে রাখায় পুলিশ ফাঁড়ির গাড়ি ও যাত্রী সাধারণের চলাচলে ঝুঁকি বেড়েছে। হোটেলের নোংরা পানি সিঁড়ির পাশে ফেলায় চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এসব সমস্যা নিরসনে অবৈধ স্থাপনা দ্রুত উচ্ছেদ করে যাত্রী ছাউনি নির্মাণের দাবি জানান স্থানীয়রা। জেলা প্রশাসক বরাবরে আবেদন দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন পূর্ব ইব্রাহীমপুর গ্রামের বাসিন্দা ও সিনিয়র সাংবাদিক আকরাম উদ্দিন, সুরমা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিন, পূর্ব ইব্রাহীমপুর জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, সমাজসেবক জগলুল আহমদ, নুরুল ইসলাম, রাজা মিয়া, রাসেল আহমদ, কমর উদ্দিন, দেলোয়ার মিয়া, কমলা মিয়া, বাবু মিয়া, দুলাল মিয়া, বকুল মিয়া, জহুর উদ্দিন, আব্দুল হান্নান, কুটি মিয়া, নাজিম উদ্দিন, আব্দুল মন্নান, মিয়াধন, কালা মিয়া, ইসলাম উদ্দিনসহ অনেকে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

সরকারের তোষামোদ নয়, গণমাধ্যমকে সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর