সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

“হাওরে বাঁধ নির্মাণ পুরোনো বৃত্তেই আটকে আছে”

  • আপলোড সময় : ১৭-০৩-২০২৫ ০১:০৪:২১ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৭-০৩-২০২৫ ০১:০৪:২১ পূর্বাহ্ন
“হাওরে বাঁধ নির্মাণ পুরোনো বৃত্তেই আটকে আছে”
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: সুনামগঞ্জে হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি; কিন্তু কাজ শেষ না হওয়ায় সময় আরও ১০ দিন বাড়ানো হয়। বর্তমানে জেলার হাওরগুলোতে বাঁধ নির্মাণের সব প্রকল্পের কাজ শেষ বলে ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে এসব কাজকে অসম্পূর্ণ উল্লেখ করে এতে অসংগতি, অবহেলা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন ‘হাওর বাঁচাও আন্দোলন’-এর নেতারা। তারা বলছেন, হাওরে বাঁধ নির্মাণ পুরোনো বৃত্তেই আটকে আছে। গত বুধবার দুপুরে শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসন ও পাউবোর ওই ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেন কৃষকদের পক্ষে সোচ্চার হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতারা। বিষয়টি তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। পরে জেলা প্রশাসকের কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন উপজেলায় অসমাপ্ত, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের নম্বরসহ সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলার হাওর বাঁচাও আন্দোলন কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত। সংগঠনটির নেতাদের ভাষ্য, এবারও কাজের শুরু থেকেই একধরনের ঢিলেমি ছিল। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি, পাউবো ও প্রশাসনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে নানা অনিয়ম হয়েছে। এ কারণে কাজে বিলম্ব হয়েছে। এখনো বিভিন্ন বাঁধে মাটি ফেলা হচ্ছে। অথচ বৃষ্টি শুরু হয়ে যাবে। এতে বাঁধ দুর্বল হবে। তবে পাউবো সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ও হাওরে বাঁধ নির্মাণ-সংক্রান্ত জেলা কমিটির সদস্যসচিব মামুন হাওলাদার দাবি করেন, সব প্রকল্পের মাটির কাজ শেষ। এখন বাঁধের ঢালে ঘাস লাগানো, মাটি শক্তকরণ এসব আনুষঙ্গিক কাজ হচ্ছে। অনেক জায়গায় ঘাস পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ফসলের কোনো ঝুঁকি নেই। জেলার পাউবো সূত্রে জানা গেছে, সুনামগঞ্জের হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণের নির্ধারিত সময়সীমা ছিল গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি। এবার ১২টি উপজেলার ৫৩টি হাওরে ৬৮৭ প্রকল্পে বাঁধের কাজ হচ্ছে। এ জন্য প্রাক্কলন ধরা হয় ১২৭ কোটি টাকা। এখন পর্যন্ত বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৮৭ কোটি টাকা। নীতিমালা অনুযায়ী, একটি প্রকল্পে স্থানীয়ভাবে কৃষক ও সুবিধাভোগীদের নিয়ে গঠিত পাঁচ থেকে সাত সদস্যের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) কাজ করে। একটি পিআইসি সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার কাজ করতে পারে। তবে পিআইসিতে কৃষকদের কথা বলা হলেও নামে-বেনামে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ঢুকে পড়েন। তাঁরাই মূলত কাজে গাফিলতি করেন। এবারও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ১০ মার্চ পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারও ১৫ ডিসেম্বর নিয়ম রক্ষার্থে লোক দেখানো কিছু প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। শুরু থেকেই এসব কাজে ঢিলেমি ছিল। গণশুনানি করে প্রকল্প নির্ধারণ ও পিআইসি গঠন হয়নি। অক্ষত বাঁধে পাউবো ও প্রশাসনের কর্মকর্তা মিলে অতিরিক্ত বরাদ্দ দিয়েছেন। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ স¤পাদক বিজন সেন রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাওরে বাঁধ নির্মাণ পুরোনো বৃত্তেই আটকে আছে। শুরুতে দায়সারা আর শেষে তাড়াহুড়া এভাবেই কাজ চলছে। কাজ এখনো শেষ হয়নি। কৃষকেরা চিন্তায় আছেন। বাঁধের কাজে কারও গাফিলতি বা অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে যদি হাওরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে এর দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিতে হবে। জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার জানান, কাজ নীতিমালা অনুযায়ী হয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়ম হয়নি। হাওরের ফসল না তোলা পর্যন্ত প্রতিটি বাঁধ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। - প্রথম আলো

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স