সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সংবর্ধনা প্রদান জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

নদী কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়

  • আপলোড সময় : ০৬-০৩-২০২৫ ১২:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০৩-২০২৫ ১২:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন
নদী কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়
গত সোমবার (৩ মার্চ ২০২৫) তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে নদীর জায়গা দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন ১০ জন। এমন হলে বলাই যায় যে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই এবং বিরোধটা যেহেতু জায়গা দখলে, সুতরাং বিরোধের নিরসন না হলে কী হবে সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কীছু বলা যায় না। ঘটনা যেকোনও মুহূর্তে তা রক্তারক্তি থেকে হতাহতের ঘটনায় পর্যবসিত হতে পারে। নদী কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। ইচ্ছে করলেই যে কেউ নদীর জায়গা দখল করে নিতে পারেন না। সরকার নদী থেকে মৎস্য অহরণ কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে বালু-পাথর উত্তোলনের জন্যে আইন অনুসারে ইজারা দিয়ে থাকেন। সুনামগঞ্জের উত্তরাঞ্চলে নদীর তলদেশের বালু-পাথর আহরণের তাগিদে বালুপাথর মহাল সৃষ্টির পর থেকে নদী ইজারা দেওয়ার প্রচলন হয়েছে। ফলে ইজারা ও ইজারাবিহীনতার ফাঁকতালে আজকাল লোকেরা নদীর জায়গা দখল নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামতে কসুর করেন না এবং সেটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গিয়ে সাধারণ ঝগড়াঝাটির সীমানা ছাড়িয়ে মামলা-মোকদ্দমা হয়ে রক্তারক্তি কা-কারখানা হয়ে যাওয়া পর্যন্ত গড়ায়। এইসব পুরনো কাসুন্ধি আপাতত ঘাঁটতে চাই না। নদীর জায়গা বলে কথা। নদী কারও ব্যক্তিগত মালিকানার জায়গা হতেই পারে না। নদীর মালিক রাষ্ট্র অর্থাৎ সরকার। এই দিক থেকে বিবেচনায় সরকারি অনুমোদন ব্যতীত কোনও ব্যক্তিবিশেষ নদীর বালুপাথর আহরণ কিংবা উত্তোলন করার অধিকারী নন। আইন অনুসারে সরকার ব্যক্তিকে মৎস্য-আহরণ অথবা বালুপাথর সংগ্রহের জন্যে ইজারা দিয়ে থাকেন। আইনের এই নীতি মেনে চললে ইজারা দেওয়ার পর এখন যেমন দখল নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিবাদ হচ্ছ তা হবার কথা নয়। নদীর বালুপাথর লুটের প্রসঙ্গ তোলছি না, এতো ঘুরপ্যাচের দরকার নেই। নদীদখলের বিবাদের নিরসন চাই। সোজা কথায় বলি, নদী ‘ইজারা দেওয়া হয়ে থাকলে’ সরকারের উচিত ইজারাদারকে সুরক্ষা দেওয়া, বিপরীতে ‘ইজারা দেওয়া না-হয়ে থাকলে’ অথবা বালুপাথর উত্তোলনের কোনও সরকারি অনুমোদন না থাকলে নদীর বর্তমান দখলদারকে উচ্ছেদ করাসহ দখল করতে প্রত্যাশীকে কঠোর হস্তে দমন করা উচিত, সরকারি প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বলে দিতে হবে যে, নদী কারও বাপের জায়গা নয়, নদী রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি, যার ইচ্ছে সেই দখল করে নিয়ে বালুপাথর লুট করে নিতে পারে না। রাষ্ট্রের প্রতি এটি একটি অপরাধ, প্রশাসনকে তা দমন করতেই হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স