সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপরিকল্পিত বাঁধে হাওরে সর্বনাশ জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত লক্ষাধিক হেক্টর জমির ফসল শনিবার সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিসি ব্লক চুরির অভিযোগ উন্নয়ন প্রকল্পে বদলাচ্ছে ৫ বিদ্যালয়ের অবয়ব দিরাইয়ে ৬ দোকান পুড়ে ছাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল আজ মহান মে দিবস তাহিরপুরে ভাঙারখাল নদীর উপর টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে ৬৪৭৬ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে, থাকছে ৪৯৮ প্রস্তাব সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপিত জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল ছায়ার হাওর কাটা ধানে গজাচ্ছে চারা জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের ধান, অসহায় কৃষক হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিরাইয়ে পৃথক দুই সংঘর্ষে আহত ৪০ হাওর বাঁচাতে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়

নদী কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়

  • আপলোড সময় : ০৬-০৩-২০২৫ ১২:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০৩-২০২৫ ১২:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন
নদী কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়
গত সোমবার (৩ মার্চ ২০২৫) তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে নদীর জায়গা দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন ১০ জন। এমন হলে বলাই যায় যে, সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই এবং বিরোধটা যেহেতু জায়গা দখলে, সুতরাং বিরোধের নিরসন না হলে কী হবে সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কীছু বলা যায় না। ঘটনা যেকোনও মুহূর্তে তা রক্তারক্তি থেকে হতাহতের ঘটনায় পর্যবসিত হতে পারে। নদী কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। ইচ্ছে করলেই যে কেউ নদীর জায়গা দখল করে নিতে পারেন না। সরকার নদী থেকে মৎস্য অহরণ কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে বালু-পাথর উত্তোলনের জন্যে আইন অনুসারে ইজারা দিয়ে থাকেন। সুনামগঞ্জের উত্তরাঞ্চলে নদীর তলদেশের বালু-পাথর আহরণের তাগিদে বালুপাথর মহাল সৃষ্টির পর থেকে নদী ইজারা দেওয়ার প্রচলন হয়েছে। ফলে ইজারা ও ইজারাবিহীনতার ফাঁকতালে আজকাল লোকেরা নদীর জায়গা দখল নিয়ে প্রতিযোগিতায় নামতে কসুর করেন না এবং সেটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে গিয়ে সাধারণ ঝগড়াঝাটির সীমানা ছাড়িয়ে মামলা-মোকদ্দমা হয়ে রক্তারক্তি কা-কারখানা হয়ে যাওয়া পর্যন্ত গড়ায়। এইসব পুরনো কাসুন্ধি আপাতত ঘাঁটতে চাই না। নদীর জায়গা বলে কথা। নদী কারও ব্যক্তিগত মালিকানার জায়গা হতেই পারে না। নদীর মালিক রাষ্ট্র অর্থাৎ সরকার। এই দিক থেকে বিবেচনায় সরকারি অনুমোদন ব্যতীত কোনও ব্যক্তিবিশেষ নদীর বালুপাথর আহরণ কিংবা উত্তোলন করার অধিকারী নন। আইন অনুসারে সরকার ব্যক্তিকে মৎস্য-আহরণ অথবা বালুপাথর সংগ্রহের জন্যে ইজারা দিয়ে থাকেন। আইনের এই নীতি মেনে চললে ইজারা দেওয়ার পর এখন যেমন দখল নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বিবাদ হচ্ছ তা হবার কথা নয়। নদীর বালুপাথর লুটের প্রসঙ্গ তোলছি না, এতো ঘুরপ্যাচের দরকার নেই। নদীদখলের বিবাদের নিরসন চাই। সোজা কথায় বলি, নদী ‘ইজারা দেওয়া হয়ে থাকলে’ সরকারের উচিত ইজারাদারকে সুরক্ষা দেওয়া, বিপরীতে ‘ইজারা দেওয়া না-হয়ে থাকলে’ অথবা বালুপাথর উত্তোলনের কোনও সরকারি অনুমোদন না থাকলে নদীর বর্তমান দখলদারকে উচ্ছেদ করাসহ দখল করতে প্রত্যাশীকে কঠোর হস্তে দমন করা উচিত, সরকারি প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বলে দিতে হবে যে, নদী কারও বাপের জায়গা নয়, নদী রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি, যার ইচ্ছে সেই দখল করে নিয়ে বালুপাথর লুট করে নিতে পারে না। রাষ্ট্রের প্রতি এটি একটি অপরাধ, প্রশাসনকে তা দমন করতেই হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স