সুনামগঞ্জ , শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫ , ১৪ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ তাহিরপুরে দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ ৬ রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি রিভলবার জব্দ ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরলে কবে থেকে কার্যকর হবে? একটি মহল চেষ্টা করছে গণতান্ত্রিক শক্তি যেন ক্ষমতায় না আসে : মির্জা ফখরুল বর্জ্যে ভুগছে টাঙ্গুয়ার হাওর হাওরের ফসল রক্ষায় প্রায় চূড়ান্ত ২,২৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প সুনামগঞ্জ মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র বরাদ্দের অভাবে বন্ধ নির্মাণকাজ ইশতেহার তৈরি করছে বিএনপি, গোপনে চলছে প্রার্থী যাচাই সভাপতি ও সম্পাদক পদে লড়ছেন চারজন জন্মদিনে শুভেচ্ছায় সিক্ত কবি ইকবাল কাগজী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ আর নেই প্রাথমিকে এক হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম শৃঙ্খলা ফিরছে না টাঙ্গুয়ার হাওরে গ্রাম আদালতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে : জেলা প্রশাসক শুভ জন্মদিন কবি ইকবাল কাগজী ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুলেন্সের আকৃতি দিয়ে চলছে রোগী পরিবহন

দিরাই-শাল্লায় বাঁধ নির্মাণকাজের বেহাল দশা

  • আপলোড সময় : ০২-০৩-২০২৫ ০৫:৫৬:২২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৩-২০২৫ ০৫:৫৬:২২ পূর্বাহ্ন
দিরাই-শাল্লায় বাঁধ নির্মাণকাজের বেহাল দশা
স্টাফ রিপোর্টার :: হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণ ও সংস্কার কাজের নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে বেঁধে দেওয়ার সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ সম্পন্ন হয় নি। এ কারণে অকাল বন্যায় ফসল হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে। গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখাযায়, দিরাই ও শাল্লা উপজেলার হাওরে এখনও কয়েকটি বাঁধ এবং ক্লোজারে মাটির কাজ শেষ হয়নি। শাল্লা উপজেলার ভান্ডা বিল হাওরের ৭২নং পিআইসিতে গিয়ে দেখা যায় মাত্র মাটির কাজ চলছে। ৬০-৬৫ ভাগ মাটির কাজ হয়েছে। এ প্রকল্পের সভাপতি হারাধন দাস। প্রকল্প এলাকায় কয়েকটি মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। মনে হচ্ছে বাঁধ দেখতে লোক যাবে এমন সংবাদে ওইদিন কাজ চলছে। এ প্রকল্পে বাজেট রয়েছে ১৭ লাখ ৯২ হাজার ৮শ ত্রিশ টাকা। এখনো মাটির কাজই শেষ হয়নি। কবে কমপেকশন এবং ঘাসের কাজ হবে কেউ জানে না। সংশ্লিষ্ট পিআইসি’র সভাপতির কাছে পরিদর্শন খাতা চাইলে তিনি বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। খাতায় কেউ কিছু লিখেননি। তার মানে এই বাঁধ কেউ পরিদর্শন করেননি। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ সদস্য নূরুল হক আফিন্দী ২৮ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ অনুযায়ী বাঁধের কাজের শেষ দিনে দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন বাঁধ পরিদর্শন করে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বাঁধ পরিদর্শনে আসলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কর্মকর্তাকে তার সাথে বা বাঁধে দেখা যায়নি। নূরুল হক আফিন্দী বলেন, আজকে কাজ দেখে আমি হতাশ। কাজের যেমন ধীরগতি, তেমনি গুণগত মানও অনেক খারাপ। বিষয়টি নিয়ে আমি আমাদের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মহোদয়কে অবহিত করবো। পিআইসির লোকদের কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি তবে আমার সাথে পাউবো কর্মকর্তারা থাকলে কাজের এমন অবস্থা কেন তাদের কাছে জানতে পারতাম। শাল্লা উপজেলার ফয়জুল্লাপুর ৮৫ ও ৮৬ নং বাঁধে গিয়ে দেখা যায়, কিছু শ্রমিক ঘাস লাগানোর কাজ করছেন। তবে এ বাঁধের সামনে গত বছরের যে বাঁধ ছিল তার মাটি কেটে বাঁধে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি নদীর পার কেটে বাঁধে মাটি দেয়ায় বাঁধ দুটি হুমকির মুখে আছে। নদীতে পানি আসলে এই বাঁধে চাপ বেশি পড়বে। দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ৫৮নং পিআইসি দায়িত্বে রয়েছে শাল্লা পাউবো। এ বাঁধের কাজের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। এই বাঁধটিতে মাত্র মাটির কাজ শুরু হয়েছে। এই ৫৮নং পিআইসি’র সভাপতি মজনু মিয়া। এ বাঁধে বাজেট রাখা হয়েছে ২৪ লাখ ৮৪ হাজার ২১৬ টাকা। পিআইসি এলাকায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। কোন শ্রমিক বা মেশিন কাজ করছে না। নামেমাত্র কিছু মাটি ফেলে রাখা হয়েছে বাঁধে। কৃষকরা জানিয়েছেন, বরাম হাওরের খরাপার ক্লোজারটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু এখনো কাজ শেষ না করায় আশঙ্কায় আছেন কৃষকরা। সংশ্লিষ্ট পিআইসি সভাপতির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি নামাজে আছেন। বাঁধ এলাকায় শ্রমিকরা কাজ করছে। আমরা বাঁধে আছি জানালে তিনি বলেন, শ্রমিকরা হয়তো খাইতে গেছে। উনার বাড়ি থেকে বাঁধ অনেকটা দূর হওয়ায় তিনি পরিদর্শন খাতা নিয়ে দিরাই উপজেলার ধল বাজারে আসেন। খাতা খোলে দেখাযায়, পরিদর্শন নোটের অভাব নেই। কিন্তু বাস্তবে বাঁধে সে পরিমাণ কাজ হয়নি। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ সদস্য নূরুল হক আফিন্দী তার নোটে লিখেন, অদ্য ২৮ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ অনুযায়ী বাঁধের কাজের শেষ দিনে পিআইসি নং ৫৮ সাইটে গিয়ে পরির্দশন করি। দেখা যায় ৫০% মাটির কাজ হয়েছে। কিন্তু সাইটে শ্রমিক নেই। পিআইসি এলাকায় কোন শ্রমিক বা পিআইসি সভাপতি বা স¤পাদক সাইটে নেই। ক্লোজারটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাঁধটিতে দায়সারা মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। যেভাবে মাটি ফেলে রাখা হয়েছে একটু বৃষ্টি হলেই মাটি নদীতে নেমে যাবে। বাঁধে মাটির কাজ শেখ করতে আরো ৭-৮ দিন প্রয়োজন। রেজিস্ট্রারে দেখা যায় অনেকে বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন, সে পরিমাণ কাজ হইনি। মনিটরিং কমিটির গাফিলতির কারণে এ কাজের এ অবস্থা। তিনি বলেন, আজ পাউবো’র কোন কর্মকর্তা বাঁধে থাকলে তার কাছে আসল কারণ জানতে পারতাম। তিনি এ বাঁধ পরিদর্শন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ

অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ