সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের হুঁশিয়ারি ‎পটিয়া থেকে ৫১৪৮, এস আলমের সময়ে ইসলামী ব্যাংকে নিয়োগের চিত্র জেলায় ৫১ নদী-খালের ২০০ কি.মি. খননের পরিকল্পনা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে ‘প্রতিষ্ঠা প্রকল্পে’র অবহিতকরণ কর্মশালা দোয়ারাবাজারে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অপপ্রচারের প্রতিবাদে ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যানের সংবাদ সম্মেলন সুনামগঞ্জ শহরে মারামারি, নিরপেক্ষ তদন্ত চায় শ্রাবণের পরিবার দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ, সুনামগঞ্জে যুবদলের মিছিল সমাবেশ ‎বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে হাওরের সড়কজুড়ে শতাধিক তালগাছের চারা রোপণ ‎জাতিসংঘে তারেকের প্রথম ভাষণ, সামনে বাংলাদেশের নতুন বার্তা ‎বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতবিনিময় সভা ও র‍্যালি রাজউকের নকশা অনুমোদনে ওয়ানস্টপ, প্রকল্পে জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনসাধারণের ক্ষোভ তাহিরপুরে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি বহিষ্কার সোনালী চেলা নদীতে ড্রেজারের তান্ডব থামেনি সাদাসিধে জীবন, আলোকিত কর্মযাত্রা নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সুনামগঞ্জ সদরে উপজেলা পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত বিএনপি নেতা জালাল উদ্দিন ফারুকীকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ে ফুটবল উৎসব উদ্বোধন প্রকল্পের অপেক্ষায় ভাগাড়ে পরিণত পুরাতন পৌরসভা চত্বর

দিরাই-শাল্লায় বাঁধ নির্মাণকাজের বেহাল দশা

  • আপলোড সময় : ০২-০৩-২০২৫ ০৫:৫৬:২২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৩-২০২৫ ০৫:৫৬:২২ পূর্বাহ্ন
দিরাই-শাল্লায় বাঁধ নির্মাণকাজের বেহাল দশা
স্টাফ রিপোর্টার :: হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধের নির্মাণ ও সংস্কার কাজের নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে বেঁধে দেওয়ার সময়ের মধ্যে বাঁধের কাজ সম্পন্ন হয় নি। এ কারণে অকাল বন্যায় ফসল হারানোর শঙ্কা দেখা দিয়েছে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে। গত শুক্রবার সরেজমিনে দেখাযায়, দিরাই ও শাল্লা উপজেলার হাওরে এখনও কয়েকটি বাঁধ এবং ক্লোজারে মাটির কাজ শেষ হয়নি। শাল্লা উপজেলার ভান্ডা বিল হাওরের ৭২নং পিআইসিতে গিয়ে দেখা যায় মাত্র মাটির কাজ চলছে। ৬০-৬৫ ভাগ মাটির কাজ হয়েছে। এ প্রকল্পের সভাপতি হারাধন দাস। প্রকল্প এলাকায় কয়েকটি মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। মনে হচ্ছে বাঁধ দেখতে লোক যাবে এমন সংবাদে ওইদিন কাজ চলছে। এ প্রকল্পে বাজেট রয়েছে ১৭ লাখ ৯২ হাজার ৮শ ত্রিশ টাকা। এখনো মাটির কাজই শেষ হয়নি। কবে কমপেকশন এবং ঘাসের কাজ হবে কেউ জানে না। সংশ্লিষ্ট পিআইসি’র সভাপতির কাছে পরিদর্শন খাতা চাইলে তিনি বাড়ি থেকে নিয়ে আসেন। খাতায় কেউ কিছু লিখেননি। তার মানে এই বাঁধ কেউ পরিদর্শন করেননি। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ সদস্য নূরুল হক আফিন্দী ২৮ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ অনুযায়ী বাঁধের কাজের শেষ দিনে দিরাই ও শাল্লা উপজেলার বিভিন্ন বাঁধ পরিদর্শন করে হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বাঁধ পরিদর্শনে আসলেও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোন কর্মকর্তাকে তার সাথে বা বাঁধে দেখা যায়নি। নূরুল হক আফিন্দী বলেন, আজকে কাজ দেখে আমি হতাশ। কাজের যেমন ধীরগতি, তেমনি গুণগত মানও অনেক খারাপ। বিষয়টি নিয়ে আমি আমাদের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মহোদয়কে অবহিত করবো। পিআইসির লোকদের কাজ শেষ করার জন্য নির্দেশ দিয়েছি তবে আমার সাথে পাউবো কর্মকর্তারা থাকলে কাজের এমন অবস্থা কেন তাদের কাছে জানতে পারতাম। শাল্লা উপজেলার ফয়জুল্লাপুর ৮৫ ও ৮৬ নং বাঁধে গিয়ে দেখা যায়, কিছু শ্রমিক ঘাস লাগানোর কাজ করছেন। তবে এ বাঁধের সামনে গত বছরের যে বাঁধ ছিল তার মাটি কেটে বাঁধে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি নদীর পার কেটে বাঁধে মাটি দেয়ায় বাঁধ দুটি হুমকির মুখে আছে। নদীতে পানি আসলে এই বাঁধে চাপ বেশি পড়বে। দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের ৫৮নং পিআইসি দায়িত্বে রয়েছে শাল্লা পাউবো। এ বাঁধের কাজের অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। এই বাঁধটিতে মাত্র মাটির কাজ শুরু হয়েছে। এই ৫৮নং পিআইসি’র সভাপতি মজনু মিয়া। এ বাঁধে বাজেট রাখা হয়েছে ২৪ লাখ ৮৪ হাজার ২১৬ টাকা। পিআইসি এলাকায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। কোন শ্রমিক বা মেশিন কাজ করছে না। নামেমাত্র কিছু মাটি ফেলে রাখা হয়েছে বাঁধে। কৃষকরা জানিয়েছেন, বরাম হাওরের খরাপার ক্লোজারটি অনেক ঝুঁকিপূর্ণ কিন্তু এখনো কাজ শেষ না করায় আশঙ্কায় আছেন কৃষকরা। সংশ্লিষ্ট পিআইসি সভাপতির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি নামাজে আছেন। বাঁধ এলাকায় শ্রমিকরা কাজ করছে। আমরা বাঁধে আছি জানালে তিনি বলেন, শ্রমিকরা হয়তো খাইতে গেছে। উনার বাড়ি থেকে বাঁধ অনেকটা দূর হওয়ায় তিনি পরিদর্শন খাতা নিয়ে দিরাই উপজেলার ধল বাজারে আসেন। খাতা খোলে দেখাযায়, পরিদর্শন নোটের অভাব নেই। কিন্তু বাস্তবে বাঁধে সে পরিমাণ কাজ হয়নি। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিচালনা পরিষদ সদস্য নূরুল হক আফিন্দী তার নোটে লিখেন, অদ্য ২৮ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ অনুযায়ী বাঁধের কাজের শেষ দিনে পিআইসি নং ৫৮ সাইটে গিয়ে পরির্দশন করি। দেখা যায় ৫০% মাটির কাজ হয়েছে। কিন্তু সাইটে শ্রমিক নেই। পিআইসি এলাকায় কোন শ্রমিক বা পিআইসি সভাপতি বা স¤পাদক সাইটে নেই। ক্লোজারটি ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাঁধটিতে দায়সারা মাটি ফেলে রাখা হয়েছে। যেভাবে মাটি ফেলে রাখা হয়েছে একটু বৃষ্টি হলেই মাটি নদীতে নেমে যাবে। বাঁধে মাটির কাজ শেখ করতে আরো ৭-৮ দিন প্রয়োজন। রেজিস্ট্রারে দেখা যায় অনেকে বাঁধ এলাকা পরিদর্শন করেছেন, সে পরিমাণ কাজ হইনি। মনিটরিং কমিটির গাফিলতির কারণে এ কাজের এ অবস্থা। তিনি বলেন, আজ পাউবো’র কোন কর্মকর্তা বাঁধে থাকলে তার কাছে আসল কারণ জানতে পারতাম। তিনি এ বাঁধ পরিদর্শন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের হুঁশিয়ারি

পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুনামগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের হুঁশিয়ারি