সুনামগঞ্জ , শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫ , ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে আ.লীগের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ তাহিরপুরে দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ ৬ রাউন্ড গুলিসহ বিদেশি রিভলবার জব্দ ছাতকে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরলে কবে থেকে কার্যকর হবে? একটি মহল চেষ্টা করছে গণতান্ত্রিক শক্তি যেন ক্ষমতায় না আসে : মির্জা ফখরুল বর্জ্যে ভুগছে টাঙ্গুয়ার হাওর হাওরের ফসল রক্ষায় প্রায় চূড়ান্ত ২,২৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প সুনামগঞ্জ মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র বরাদ্দের অভাবে বন্ধ নির্মাণকাজ ইশতেহার তৈরি করছে বিএনপি, গোপনে চলছে প্রার্থী যাচাই সভাপতি ও সম্পাদক পদে লড়ছেন চারজন জন্মদিনে শুভেচ্ছায় সিক্ত কবি ইকবাল কাগজী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াদুদ আর নেই প্রাথমিকে এক হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম শৃঙ্খলা ফিরছে না টাঙ্গুয়ার হাওরে গ্রাম আদালতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে : জেলা প্রশাসক শুভ জন্মদিন কবি ইকবাল কাগজী ফিটনেসবিহীন মাইক্রোবাসকে অ্যাম্বুলেন্সের আকৃতি দিয়ে চলছে রোগী পরিবহন

পরিবারের আক্ষেপ : ভাষা দিবসেও স্মরণ করা হয়না ভাষাসৈনিক দেওয়ান আজরফকে

  • আপলোড সময় : ২৪-০২-২০২৫ ১২:৫৩:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৪-০২-২০২৫ ০১:০৬:৪২ পূর্বাহ্ন
পরিবারের আক্ষেপ : ভাষা দিবসেও স্মরণ করা হয়না ভাষাসৈনিক দেওয়ান আজরফকে
আশিস রহমান :: ভাষা আন্দোলনের প্রায় সাত দশক পেরিয়ে গেলেও দার্শনিক ও অধ্যাপক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফের স্মৃতি সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে সে সময় সুনামগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। সেই কলেজে তার নামে নেই কোনো স্মৃতিফলক। প্রতিবছর ভাষা দিবস এলেও তাকে স্মরণ করা হয় না। দোয়ারাবাজার উপজেলার পনাইল গ্রামে ১৯০৬ সালের ২৫ অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। বাবা ছিলেন দোহালিয়ার জমিদার দেওয়ান মোহাম্মদ আসফ। মা রওশন হুসেইন বানু মরমি কবি দেওয়ান হাছন রাজা চৌধুরীর মেয়ে। ইতিহাস থেকে জানাযায়, ভাষা আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোয় দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ছিলেন সিলেট থেকে রাজনীতিবিদ মাহমুদ আলী কর্তৃক প্রকাশিত ‘নওবেলাল’ পত্রিকার সম্পাদক। নওবেলাল পত্রিকায় গণপরিষদে রাষ্ট্র ভাষা প্রসঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খানের বক্তব্যসহ জিন্নাহর ঘোষণার তীব্র প্রতিবাদ করা হয়। এর ফলে সিলেটের উর্দুভাষী সমর্থক এক বৃহৎ জনগোষ্ঠী নওবেলাল তথা দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ এবং মাহমুদ আলীর ওপর ক্ষেপে যায়। উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদে দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ও মাহমুদ আলী সিলেটের তৎকালীন গোবিন্দ চরণ পার্কে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। সভায় উর্দু ভাষার সমর্থকরা মকসুদ আহমদকে মারধর করে। মানিক পীরের টিলাসংলগ্ন ‘নওবেলাল’ অফিসে উপস্থিত হয়ে উর্দু ভাষার সমর্থকরা মিছিল করে। এ সময় দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ বা মাহমুদ আলীর পক্ষে সিলেটে চলাফেরা করা ভীষণ সংকটজনক ছিল। প্রায়ই সংবাদ আসত তারা যেকোনো সময় আক্রান্ত হতে পারেন। তা সত্ত্বেও তারা বাংলা ভাষার পক্ষে আন্দোলন চালিয়ে যান। আমাদের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন সর্বপ্রথম শুরু করে যে সংগঠন তার নাম ‘তমদ্দুন মজলিস’। এই তমদ্দুন মজলিসের প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ছিলেন অন্যতম। তিনি তমদ্দুন মজলিসের সভাপতিও ছিলেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অসামান্য অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৩ সালের ৪ নভেম্বর তাকে জাতীয় অধ্যাপক পদ দেয়। ১৯৯৯ সালের ১ নভেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি। পরে তাকে পনাইল গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। দোয়ারাবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কবি মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী বলেন, দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ ভারতের আসাম ব্যবস্থাপনা পরিষদের সদস্য এবং পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্যও ছিলেন। সারাজীবন নীরবে-নিভৃতে তিনি জ্ঞানের অন্বেষণ করেছেন। ওনার অপ্রকাশিত বইগুলো প্রকাশ করা উচিত। ওনার বর্ণাঢ্য জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা উচিত। ভাষাসৈনিক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফের মেয়ে লেখক ও প্রাবন্ধিক সাদিয়া চৌধুরী পরাগ বলেন, পাকিস্তান আন্দোলনের পর আমার বাবা রাজনীতি থেকে সরে আসেন। কারণ, তিনি মনে করতেন প্রচলিত রাজনীতিতে রাসুল (সা.)-এর আদর্শের ওপর পুরোপুরি টিকে থাকা যায় না। আজ পর্যন্ত কোনো সরকারই তার স্মৃতি সংরক্ষণে উদ্যোগ নেয়নি। তার জমানো টাকায় ঢাকার আবুজর গিফারী কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সেখানেও তাকে স্মরণ করা হয়নি। আমি আমার বাবার স্মৃতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ

অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব হচ্ছে মানুষ