সুনামগঞ্জ , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ , ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‎জামালগঞ্জে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, গ্যাসের অতিরিক্ত দাম নেওয়ায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা সুনামকণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর দুই প্রতিবন্ধী সন্তান পেল হুইলচেয়ার সুনামগঞ্জে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, মাদকাসক্ত চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার আহ্বান আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর, আমাদের ভাবিয়ে তুলছে: রিজভী বর্ণাঢ্য আয়োজনে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত ছাতকে বন বিটের ৩০ হাজার চারা উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা দুর্গম হাওরে ব্যাহত প্রসূতিসেবা, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও ভাসমান হাসপাতালের দাবি জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৫ ‘বায়োগ্যাস উৎপাদন করুন, জ্বালানি খরচ সাশ্রয় করুন’-জেলা প্রশাসক মিনহাজুর রহমান সমাজের প্রতিটি সমস্যা মোকাবেলায় সবাইকে কাজ করতে হবে : জেলা প্রশাসক ‘ভুয়া আইডি খুলে ধর্মীয় উসকানির’ অভিযোগে করেছিলেন জিডি, বিক্ষোভের মধ্যে পুলিশ নিল হেফাজতে বিকাশ ডিস্ট্রিবিউশনে ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার গরমিলের অভিযোগ, প্রধান আসামি আটক ব্রিটিশ বাংলাদেশি মিডিয়াতে অবদান রাখায় ‘মিডিয়া এক্সিলেন্স’ সম্মাননা পেলেন সুনামগঞ্জের সাংবাদিক আ স ম মাসুম ‘গ্রাম সরকার’ গঠনের উদ্যোগ ছাতকে সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ আহত ৫ এসিল্যান্ডের আচরণে আকস্মিক পরিবর্তন, নেপথ্যে কী? ‎‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ পোস্ট দেওয়া সেই এসিল্যান্ড প্রত্যাহার দুই মাসে দুই নির্বাহী প্রকৌশলী, দু’জনই বদলি! ৯ মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশিরা তাহিরপুরে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ

শাল্লায় মাদারিয়া বাঁধে ফাটল, জয়পুরে নেই পিআইসি, ঝুঁকির মুখে ছায়ার হাওর

  • আপলোড সময় : ১৭-০২-২০২৫ ০৮:১৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৭-০২-২০২৫ ০৮:১৭:৩৫ পূর্বাহ্ন
শাল্লায় মাদারিয়া বাঁধে ফাটল, জয়পুরে নেই পিআইসি, ঝুঁকির মুখে ছায়ার হাওর
জয়ন্ত সেন :: দাঁড়াইন নদীর তলদেশ অনেকটাই ভরাট হয়ে গেছে। তার উপর নদীর দু’পাড়ও হয়ে গেছে সংকুচিত। ফলে পাহাড়ি ঢলের পানি ধারণ করার সক্ষমতাও দিন দিন হারিয়ে ফেলতে বসেছে নদীটি। ওই নদীর পাড়ঘেঁষেই হাঁ করে বসে আছে রাক্ষসী মাদারিয়া বাঁধ। একসময়ের আতঙ্কের নামই ছিল এই মাদারিয়া। বাঁধ রক্ষা করতে করা হতো মাইকিং। উপজেলাবাসী উড়া-কোদাল নিয়ে আসত এই বাঁধ রক্ষা করতে। রাতদিন মাটি কাটতে হতো হাজারো কৃষকদেরকে। এগুলো ২০১৭সালের পূর্বের কথা। সেই ছায়ার হাওরের অন্তর্গত মাদারিয়া বাঁধের গোড়ায় এবার বড়ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। নদীর পানি ধীরেধীরে কমতে শুরু করায় ফাটল ক্রমেই বড় হচ্ছে। বৃষ্টি হলে এই ফাটল ধসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ফলে বাঁধের গোড়া আরও দুর্বল হয়ে ভেঙে যেতে পারে বাঁধ। বাঁধে ভাঙার আরেক কারণ বাঁধের পশ্চিম অংশের গোড়া রয়েছে ৬০ফুট গভীরতা। একই অবস্থা বাঁধের পূর্বদিকেও। স্থানীয়রা কৃষকরা বলছেন, এখনই বাঁধের দু’পাশে নতুন করে বাঁশের আড় ও ফাটলের জায়গায় মাটি ফেলে ভরাট না করলে এ বাঁধের উপর ভরসা করা যায় না বলে অভিযোগ তাদের। অন্যদিকে উদগল হাওর ডুবে গেলেই ছায়ার হাওরকে আর বাঁচানো যাবে। ফলে ছায়ার হাওরেকে রক্ষা করতে উদগলবিল হাওরে প্রায় কোটি টাকার বিকল্প বাঁধ দিতো পাউবো। কিন্তু এবছর দিরাই উপজেলার জয়পুর গ্রামের ক্লোজারে কোন প্রকল্প দেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে এদিকেও ঝুঁকিতে রয়েছে ছায়ার হাওর। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের যুক্তি প্রকল্পের ব্যয় কমানোর জন্যই জয়পুরে পিআইসি দেয়া হয়নি। এটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তেই বাদ দেয়া হয়েছে। এদিকে মাদারিয়া বাঁধের ৫৭নং পিআইসির সভাপতি আব্দুল আজিজ তালুকদার বলেন, মাদারিয়া বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ এটি এলাকার সবাই জানে। বাঁধের পূর্ব পশ্চিমে ডুয়ার। এরমাঝে বাঁধের পূর্বদিকে ফাটল দেখা দিয়েছে। আমার পিআইসির বরাদ্দ দিছে মাত্র ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এরমধ্যে আমি আনন্দপুর খেলার মাঠ থেকে হাইওয়ে সড়ক পর্যন্ত ২০০ মিটার বাঁধের কাজ করেছি। সুখলাইন গ্রামের বাঁধেও কাজ করেছি। এখন ফাটল বন্ধ করতে ও বাঁশের আড়ি দিতে গেলে এখন আমার জমি বিক্রি করতে হবে। অথচ মাদারিয়া বাঁধে অন্যান্য বছর ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হত। বাঁধের উভয়পাশে গত বছরের বাঁশের আড়ির গোড়া পচে গিয়ে ভেঙে গেছে বাঁশের আড়ি। আমি কী করব বলুন। জানা যায়, ছায়ার হাওর উপ-প্রকল্পের ৫৭নং পিআইসির ১৭৬ মিটার বাঁধ মেরামতের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের শাখা কর্মকর্তা (এসও) রিপন আলী বলেন, তাদের বাঁধে ১ ফুট মাটি ধরা হয়েছে। আজকালের মধ্যে গিয়ে আমি দেখে আসব। প্রয়োজনে নতুন বাঁশের আড়ি ও ফাটলকৃত জায়গায় টেকসই করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন বলে জানান তিনি। জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ হলে বাঁধকে টেকসই করার জন্য কাজ করা হবে বলে জানান তিনি। পাউবো’র তথ্য মতে এখন পর্যন্ত উপজেলায় প্রায় ৭০ভাগ মাটি কাজ শেষ হয়েছে বলে জানান তিনি। দ্বিমত পোষণ করে হাওর বাঁচাও আন্দোলন উপজেলা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস বলেন, আমাদের সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিয়নের সদস্যদের নিকট থেকে প্রাপ্ত তথ্য মতে কাজ হয়েছে মাত্র ৫০ ভাগ। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। মাদারিয়া বাঁধকে টেকসই করার জন্য যা যা প্রয়োজন তা না করলে যেকোন দুর্ঘটনার দায় পানি উন্নয়ন বোর্ডকেই নিতে হবে। উল্লেখ্য, ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে ফসলরক্ষায় ৮৪ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতে ১১৫টি পিআইসি’র বিপরীতে বরাদ্দ প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
দুর্গম হাওরে ব্যাহত প্রসূতিসেবা, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও ভাসমান হাসপাতালের দাবি

দুর্গম হাওরে ব্যাহত প্রসূতিসেবা, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ, নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও ভাসমান হাসপাতালের দাবি