সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬ , ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অপরিকল্পিত বাঁধে হাওরে সর্বনাশ জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত লক্ষাধিক হেক্টর জমির ফসল শনিবার সিলেট আসছেন প্রধানমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সিসি ব্লক চুরির অভিযোগ উন্নয়ন প্রকল্পে বদলাচ্ছে ৫ বিদ্যালয়ের অবয়ব দিরাইয়ে ৬ দোকান পুড়ে ছাই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন এমপি কামরুজ্জামান কামরুল আজ মহান মে দিবস তাহিরপুরে ভাঙারখাল নদীর উপর টোল-ফ্রি বাঁশের সেতু নির্মাণ, স্বস্তি ফিরেছে জনজীবনে ৬৪৭৬ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল ডিসি সম্মেলন শুরু ৩ মে, থাকছে ৪৯৮ প্রস্তাব সুনামগঞ্জসহ ৫ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস আন্তর্জাতিক নৃত্য দিবস উদযাপিত জলাবদ্ধতায় তলিয়ে গেল ছায়ার হাওর কাটা ধানে গজাচ্ছে চারা জলাবদ্ধতায় ডুবছে হাওরের ধান, অসহায় কৃষক হাওরাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিরাইয়ে পৃথক দুই সংঘর্ষে আহত ৪০ হাওর বাঁচাতে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব সংসদে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে তোলপাড়

জনবল সংকটে ধুঁকছে দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

  • আপলোড সময় : ১৪-১১-২০২৪ ১০:০৫:০০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৪-১১-২০২৪ ১০:০৫:০০ পূর্বাহ্ন
জনবল সংকটে ধুঁকছে দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
মুহাম্মদ হাবীবুল্লাহ হেলালী :: দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রুগ্ণ দশা কাটছে না। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। সরকারি এই হাসপাতাল চলে এখন কমিউনিটি মেডিকেল কর্মকর্তাদের দিয়ে। অনেককে তলব করেও আনা যাচ্ছে না হাসপাতালে। হাওর অধ্যুষিত এই উপজেলায় আড়াই লাখেরও বেশি মানুষের বেশি। ৯টি ইউনিয়নে গঠিত উপজেলার বেশিরভাগ মানুষ মধ্য ও নি¤œবিত্ত। যে কোন রোগে আক্রান্ত হলে ছুটতে হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে জনবল ও ওষুধ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে এখানকার চিকিৎসাসেবা। উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ৩১ শয্যাবিশিষ্ট দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জনবল সংকটের কারণে খুড়িয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা। ২০২৩ সালে হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও তা এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। যার কারণে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে ডাক্তারের পদগুলোও শূন্য রয়েছে। নামেমাত্র ৫০ শয্যার হাসপাতালটি কার্যত এখনো ৩১ শয্যার হাসপাতালই রয়েগেছে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে এখানে অপারেশন থিয়েটার প্রস্তুত থাকলেও কোন গাইনি কনসালটেন্ট নেই। এ কারণে ওই হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দুর্গম ওই উপজেলার গর্ভবতী নারীদের প্রসব কার্যক্রম বিভাগীয় শহর কিংবা জেলা সদরে গিয়ে করাতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তির শেষ নেই মানুষের। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় যে কোন রোগী আসলেই রেফার করা হয় জেলা বা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে। এছাড়া দীর্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ধরে অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার নেই। প্রয়োজনের চেয়ে অপ্রতুল ওষুধ বরাদ্দের ফলে এখানে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাচ্ছে না রোগীরা। জানা গেছে, প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি হাসপাতালের কর্মচারীও সংকট রয়েছে। বাবুর্চি পদে দীর্ঘদিন কেউ নেই। সুইপারের ৫টি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র একজন। মিড ওয়াইফ ৭ জনের মধ্যে আছেন ৪জন, অফিস সহায়ক ৭ জনের মধ্যে একজনও নেই। এছাড়া এক্সরে মেশিন থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে টেকনোলজিস্ট নেই। নার্স ২৫ জনের মধ্যে মাত্র ১৫ জন কর্মরত আছেন। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ডেন্টাল নেই। আল্ট্রাসোনোগ্রাম মেশিন থাকলেও পরিচালনার জন্য কোন ডাক্তার নেই। এছাড়া সম্প্রতি আরএমওসহ একসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের ৪ জন ডাক্তার বদলি হওয়ার ফলে কার্যত ডাক্তার শূন্য হয়ে পড়েছে ওই হাসপাতাল। এতে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। সরেজমিনে, দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ ওয়ার্ডে বেশ কয়েকজন রোগী ভর্তি রয়েছেন। নার্স থাকলেও সেখানে কোনও চিকিৎসক নেই। উপজেলার পেশকারগাঁও গ্রামের আয়েশা বেগম নামে এক রোগী জানান, প্রায় সব ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়। সবসময় ডাক্তার পাওয়া যায় না। একই মন্তব্য করেন আরও কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজনরা। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো.আবু সালেহীন খাঁন বলেন, হাসপাতালে জনবল সংকট প্রকট। এ ব্যাপারে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স