সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর পাহাড়ি ঢলের তান্ডবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত, চরম দুর্ভোগে সীমান্তবাসী একদিনেই দুই শিশুর মৃত্যু, জেলায় মৃতের সংখ্যা ৪৭ মধ্যনগরের ১৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমপি কামরুলের অর্থায়নে নৌকা বিতরণ পথে যেতে যেতে: পথচারী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে সওজকে আদালতের নির্দেশ ‎আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন পাঁচ মিনিটের বক্তব্যে মুগ্ধ করেছিলেন হুমায়ূন আহমেদ বর্ষায় নজরুল : শিল্পকলা একাডেমিতে প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা মৃত্যুর শীর্ষে সুনামগঞ্জ, ৭ মাসে প্রাণ গেল ৪৫ শিশুর মধ্যনগরে শিশু ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১ শান্তিগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ‎জামালগঞ্জে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা কারাগারে সাজাপ্রাপ্ত আসামির মৃত্যু সংবাদ সম্মেলনে এমরান হোসেন রুবেলের দাবি রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই মাদক মামলায় জড়ানো হয়েছে ৫ গুণীজন পেলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল জনগণকে বিভ্রান্ত করছে : মির্জা ফখরুল হেফাজতের উদ্যোগে এক হচ্ছে ৭ ইসলামি দল শান্তিগঞ্জে রুস্তম আলী হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হাওর-নদী হারাচ্ছে পানি ধারণ ক্ষমতা, বাড়ছে অকাল বন্যার শঙ্কা

স্মৃতিপট : মাটি ঘেঁষে চলা আর নেই মোহাম্মদ আব্দুল হক

  • আপলোড সময় : ১৩-১১-২০২৪ ০৯:৩১:০২ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৩-১১-২০২৪ ০৯:৩১:০২ পূর্বাহ্ন
স্মৃতিপট : মাটি ঘেঁষে চলা আর নেই মোহাম্মদ আব্দুল হক
আমি বেড়ে উঠেছি পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে হাঁসের ছানার সাঁতার দেখতে দেখতে। আমি বেড়ে উঠেছি বড়শিতে ভাত গেঁথে পুকুর থেকে পুঁটি মাছ ধরতে ধরতে। আমি বৃষ্টির দিনে জাম্বুরাকে ফুটবল বানিয়ে খেলেছি। আমি কৈশোরে ঘরের বারান্দায় কিংবা বিছানায় লুডু খেলেছি। উঠোনে বা বারান্দায় ইটের টুকরো দিয়ে দাগ কেটে ঘর বানিয়ে ষোলোগুটি খেলা খেলেছি। আমরা গোল্লাছুট, দাড়িয়াবান্ধা, হাডুডু খেলতে খেলতে পরে ব্যাডমিন্টন খেলার জগতে পৌঁছেছি। আমরা বেড়ে উঠেছি গরুর গাড়িতে চড়ে নীল আকাশে উড়োজাহাজ উড়ে যেতে দেখে দেখে। আমরা চড়–ই পাখির বাসায় হাত দিয়ে চড়–ই পাখির ছানা ধরেছি। আমরা শৈশব থেকে কৈশোরে গাঁয়ের পথে পথে এবং ছোট্ট শহর সুনামগঞ্জের ছোটো ছোটো রাস্তায় পায়ে হেঁটে, কখনও রিকসায় চড়ে বড়ো একটু একটু করে বড়ো হয়েছি। ওইটুকু সময় পাড়ি দিতে দিতে আমরা গ্রামে গেছি সুরমা নদীর উপর লঞ্চে চড়ে, কখনও নৌকায় চড়ে। আমি আমার গ্রামের বাড়িতে গেলে মাটির মেঠোপথে গরুর গাড়ি বা বইসের গাড়ি (মহিষের গাড়ি) চড়ে আমার চৌদ্দ পুরুষের গ্রাম হরিনাপাটি থেকে লক্ষ্মীপুরের পথে ‘হিংগিদাইড়’ নামক একটি জায়গা পর্যন্ত গেছি। তখন ‘হিংগিদাইড়’ ছিলো একটি ছোটোখাটো নদীর মতো এবং সবসময় কাদাজল থাকতো। ওই ‘হিংগিদাইড়’ পারি দেওয়ার সময় গরুর গাড়ির কাঠের চাকা প্রায় সময়ই এটেল মাটির কাদাজলে আটকে যেতো। দুর্বল গরুর পক্ষে ওই কাদাজল থেকে আমাদেরসহ গরুর গাড়ি টেনে তোলা সম্ভব হতো না। আমরা ছেলের দল তখন গরুর গাড়ি থেকে লাফিয়ে নেমে যেতাম। এরপর আমরা আর এগোতে সাহস করতাম না। আমরা ‘হিংগিদাইড়’ থেকে পায়ে হেঁটে হেঁটে দুষ্টুমি করতে করতে বাড়ি ফিরে প্রথমে আমাদের দিঘির পাড়ের সিঁড়িতে শরীর থেকে জামা প্যান্ট বিসর্জন দিয়ে দিঘির জলে সাঁতার কেটে গোসল করে ডুব দিয়ে খেলতে খেলতে চোখ লাল করেছি। এরপর পুকুরের পানিকে বিদায় দিয়ে উপরে উঠে মিষ্টি রোদে গা শুকিয়ে বাড়িতে গেছি। আমরা জাম গাছে চড়ে জাম পেড়ে জামায় মুছে মুখে পুরে খেয়েছি কবি জসীম উদ্দীনের কবিতার মতো- ‘পাকা জামের মধুর রসে / রঙিন করি মুখ।’ আমাদের ছোটোবেলায় গরুর গাড়িতে চড়ে হঠাৎ সামনে আসা ছোটো ছোটো পানি পূর্ণ নালা বা ছোটো নদী পার হওয়ার বিষয়টি ছিলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার মতো- “আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে / বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে। / পার হয়ে যায় গরু, পার হয় গাড়ি / দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি।’ এখনকার শহরে বেড়ে উঠা মানুষের গরুর গাড়ি চড়ার অভিজ্ঞতা নেই। এখন অবশ্য গ্রামেও আর গরুর গাড়ির দেখা মিলে না। সেইসব মাটি ঘেঁষে চলা সতেজ সময় আর নাই। বিজ্ঞানের গতিময়তা ও উন্নত প্রযুক্তির কাছে আমাদের দেখা কতোকিছু আমাদের হাত ধরেই অতীত স্মৃতি হয়ে গেছে। লেখক : কলামিস্ট ও সাহিত্যিক

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স