সুনামগঞ্জ , রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ , ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শ্রীরামচন্দ্রের বিগ্রহের অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ আমবাড়িতে ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন মাদক কারবারি সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে : ওসি রতন শেখ যাদুকাটা নদীতে ড্রেজার বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে জনসাধারণের ভূমিকা থাকতে হবে : এমপি কলিম উদ্দিন মিলন দোয়ারাবাজারে ‘স্কুল সেফটি মেলা’ অনুষ্ঠিত টাঙ্গুয়ার হাওর বাঁচানোর পরীক্ষাটা এখনই দিতে হবে সুনামকণ্ঠ সাহিত্য পরিষদের নতুন কার্যকরী কমিটি গঠিত প্রিয়াছন্দ সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের যাত্রা শুরু দোয়ারাবাজারের বাজিতপুর গ্রাম কথিত পীরের আস্তানায় মাদকের আসর বিশ্বম্ভরপুরে মাদকবিরোধী র‌্যালি অনুষ্ঠিত তাহিরপুরে গাঁজাসহ আটক ১ ইয়াবার চালানসহ জুলাইযোদ্ধা হিমেল জনতার হাতে আটক ভুয়া প্রেগন্যান্সি রিপোর্ট দিয়ে কিশোরকে ফাঁসানোর চেষ্টা, থানায় অভিযোগ দিরাইয়ে নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌরসভার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী খুন নির্মাণ হচ্ছে জয়কলস হাইওয়ে পুলিশের নিজস্ব ভবন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি কার্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন জামালগঞ্জে ৬৭ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার

শিশু মুনতাহা হত্যা : গৃহশিক্ষিকাসহ চার জন রিমান্ডে

  • আপলোড সময় : ১২-১১-২০২৪ ১২:৪৩:১৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১২-১১-২০২৪ ১২:৪৩:১৮ অপরাহ্ন
শিশু মুনতাহা হত্যা : গৃহশিক্ষিকাসহ চার জন রিমান্ডে
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক :: সিলেটের কানাইঘাটে শিশু মুনতাহা আক্তার জেরিন (৫) হত্যায় মামলায় সাবেক গৃহশিক্ষিকাসহ চার জনের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (১১ নভেম্বর) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কানাইঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুল আরেফিন জিহাদ আদালতে আসামিদের হাজির করে ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে সিলেট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী মো. আবু জাহের বাদল ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এ ছাড়া মুনতাহা নিখোঁজ হওয়ার পর তার বাবা শামীম আহমদ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ মামলা করেন। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) এ মামলায় হত্যার ধারা সংযুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে শুনানি শেষে বিচারক মামলায় হত্যার ধারা সংযুক্ত করেন। এসব তথ্য নিশ্চিত করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কানাইঘাট থানার এসআই শামসুল আরেফিন জিহাদ। তিনি বলেন, আসামিদের প্রত্যেকের রিমান্ড মঞ্জুর হওয়ায় তাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। আসামিদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। নিহত মুনতাহা কানাইঘাট সদরের বীরদল ভাড়ারিফৌদ গ্রামের শামীম আহমদের মেয়ে। রিমান্ডে নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন, কানাইঘাট থানার বীরদল ভাড়ারিফৌদ গ্রামের আলিফজান (৫৫), তার মেয়ে শামীমা বেগম মার্জিয়া (২৫), একই এলাকায় ইসলাম উদ্দিন (৪০) ও নাজমা বেগম (৩৫)। মুনতাহার চাচা কয়ছর আহমদ বলেন, যাদের পুলিশ ধরেছে তারা সবাই প্রতিবেশী। মুনতাহার বাবা আগে সৌদিপ্রবাসী ছিলেন। কয়েক বছর আগে দেশে ফিরে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালান। তার পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে। মুনতাহা তার পঞ্চম সন্তান। কারও সঙ্গে আমার ভাইয়ের বিরোধ নেই। তবে শামীমার কাছে প্রাইভেট পড়াতে না দেওয়ার ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকা- ঘটতে পারে বলে আমার ধারণা। জানা যায়, মুনতাহার নিখোঁজের বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলোচনা চলছিল। শিশুটি উদ্ধারে পুরস্কারও ঘোষণা করেছিল পরিবারসহ কয়েকজন প্রবাসী। এর মধ্যে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ৩ নভেম্বর থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। রবিবার (১০ নভেম্বর) দুপুরে শিশু মুনতাহার মরদেহ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরে নিজ গ্রামে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। পুলিশ জানায়, মুনতাহার বাবা শামীম আহমদ শনিবার কানাইঘাট থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপহরণ মামলা করেন। মামলার পর শনিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুনতাহার প্রতিবেশী শামীমা বেগমকে থানায় আনে পুলিশ। মুনতাহাকে প্রাইভেট পড়াতেন শামীমা। সম্প্রতি শামীমার কাছে মেয়েকে আর পড়াতে দেননি মুনতাহার বাবা। শামীমাকে আটকের পরই নিখোঁজের ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। শনিবার রাতে শামীমার মা ডোবা থেকে লাশ নিয়ে পুকুরে ফেলতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন। থানায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে হত্যায় স¤পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন গৃহশিক্ষিকা শামীমা। তিনি জানান, ৩ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাদের ঘরে মুনতাহাকে গলা টিপে ও বস্তাচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। লাশ গুমের জন্য ডোবায় রাখা হয়েছিল। পরে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে ডোবা থেকে লাশ তুলে পুকুরে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ৩ নভেম্বর মুনতাহার বাবা মেয়েকে খুঁজে পাচ্ছেন না মর্মে থানায় জিডি করেন। পরবর্তীতে মামলার এজাহার দায়ের করলে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে শামীমাকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করে শামীমা বলেছেন, ওই দিন সন্ধ্যায় তাদের ঘরে মুনতাহাকে গলা টিপে ও বস্তাচাপা দিয়ে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। আমরা তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছি। পুলিশ আরও জানায়, লাশ উদ্ধারের সময় মুনতাহার শরীরে কাদামাটি লেগে ছিল। গলায় রশিজাতীয় কিছু পেঁচানো ছিল। এতে ধারণা করা হচ্ছে, শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে, ৩ নভেম্বর সকালে বাবার সঙ্গে স্থানীয় একটি ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফিরে প্রতিবেশী শিশুদের সঙ্গে খেলতে গিয়েছিল মুনতাহা। কিন্তু বিকাল হলেও বাড়িতে না ফেরায় খোঁজ নিতে গিয়ে মুনতাহার আর সন্ধান পাওয়া যায়নি। শিশুটি নিখোঁজের পর থেকে পরিবার দাবি করে আসছিল, পরিকল্পিতভাবে তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
মাদক কারবারি সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে : ওসি রতন শেখ

মাদক কারবারি সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে : ওসি রতন শেখ