সুনামগঞ্জ , শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এক মামলায় চিন্ময়কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীর জামিন হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে ইরানের প্রতি চীনের আহ্বান হাওরের ফসল রক্ষায় প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান তুমি সব বোঝো মানি, যতটুকু বোঝো না ততটুকুই আমি দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন কৃষকেরা : এমপি কয়ছর আহমদ হাওরে ‘নয়া দুর্যোগ’ জলাবদ্ধতা জনজীবনে শান্তি-নিরাপত্তা ফেরানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার সুনামগঞ্জের নতুন ডিসি মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান প্রাণের উচ্ছ্বাসে বর্ষবরণ শিক্ষা ক্ষেত্রেও সিলেটকে এগিয়ে নিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী দ্রোহে-প্রতিবাদে উদীচী’র বর্ষবরণ আসমানে মেঘ দেখলেই কৃষকের মনে শঙ্কা জেলা শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলমকে বিদায় সংবর্ধনা রেললাইন, শুল্ক স্টেশনসহ একগুচ্ছ দাবি সংসদে তুলে ধরলেন এমপি নূরুল ইসলাম আজ পহেলা বৈশাখ আগামী সপ্তাহে চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক ভিসা চালু করছে ভারত ভাঙন রোধ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা মইনপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত ১ নববর্ষ হাওরবাসীর জন্য বয়ে আনুক মঙ্গলবার্তা সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার ফসল উৎপন্নের আশা

ন’মণ ঘিও হবে না, রাধাও নাচবে না

  • আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৪ ০১:০৩:৪৫ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৪ ০১:০৩:৪৫ অপরাহ্ন
ন’মণ ঘিও হবে না, রাধাও নাচবে না
গতকালের (১ আগস্ট ২০২৪) দৈনিক সুনামকণ্ঠে সুনামগঞ্জের একজন সাংবাদিক লিখেছেন, “ছোট বড় ১৩৭টি হাওর এবং ২৬টি নদীবেষ্টিত জলেভাসা অনগ্রসর জনপদের ক’জন বাবা-মায়ের আর্থিক সামর্থ্য আছে যে নিজের সন্তানকে শহরে বা বড় শহরে বা মহানগরে খ্যাতনামা স্কুল-কলেজে পড়ালেখা শেখানোর। নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাওয়া পরিবারের লোকজন ঠিক মতো তিন বেলা পেটপুরে খেতে পারে না।” ভাটি বাংলার এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, দেশের মেধাবীরা চাকরি পাওয়ার জন্যে চাকরিতে বৈষম্যনিরোধের আওয়াজ তোলে যে-আন্দোলনে নেমে সরকারের অবস্থা টালমাটাল করে তোলেছেন তাঁরা (মেধাভিত্তিক চাকরি প্রার্থী আন্দোলকরা) আসলে কারা? তাঁদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ভেতরে আসলে কি বৈষম্য লুকিয়ে নেই? তাতে নুন 

আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাওয়া মানুষদের কী পরিমাণ স্বার্থ আছে?

একটু ভেবে দেখলেই বুঝতে পারা যায় যে, এই চাকরিতে বৈষম্যবিরোধী এই আন্দোলনের ভেতরে বৈষম্য লুকিয়ে আছে। জানা কথা, এই আন্দোলনের সফলতা মুষ্ঠিমেয় মেধাবীদের চাকরি নিশ্চিত করবে, যারা ধনী পরিবার থেকে আগত। কারণ দেশের ভেতরে নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যায় যে-বিপুল সংখ্যক পরিবারের তাঁরা ঠিক মতো তিন বেলা পেটপুরে খেতে পারে না পর্যন্ত, সেইসব পরিবারের সন্তানরা মেধা তালিকায় নাম লেখানোর আগেই শিক্ষার সকল সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। তারা চাকরিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাফল্যের ফল ভোগ করতে গিয়ে মেধা তালিকায় কোনও দিনই অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। তাই  বলে কি তাঁদের কোনও মেধা নেই বলে ধরে নিত হবে? এতে দেশের সকল মানুষের শিক্ষার্জনের ক্ষেত্রে কি বৈষম্য বাড়ছে না? এই পরিপ্রেক্ষিতে বুঝতে কষ্ট হয় না যে, অপেক্ষাকৃত অনুন্নত ও বিভিন্ন সুবিধাবঞ্চিত জেলা-উপজেলার শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হয়ে (চাকরি পাওয়া থেকে) প্রকারান্তরে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য বাড়িয়ে তোলছে। জেলা ও নারী কোটা সমৃদ্ধ নিয়োগ পদ্ধতি কীছুটা হলেও বৈষম্য দূর করার পক্ষে অনুকূল ছিল। আদালতের আদেশানুসারে হালে বহাল করা নারী ও জেলা কোটা বর্জিত নিয়োগ পদ্ধতি বরং বৈষম্যকে আর বাড়িয়ে তোলবে, কেবল সুবিধাভোগী ধনীর সন্তানেরা চাকরি পাবে। সুতরাং কোটা বহাল রাখার ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে, না হলে ধনীর সন্তান শিক্ষাসুবিধাসহ অন্যান্য প্রকারের যে-সকল সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকে গরিবের সন্তানকেও সেসব-সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। রাজধানী বা অন্য কটি বিভাগীয় শহরে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার যে- সুযোগ-সুবিধা দেওয়া আছে সে সুযোগ-সুবিধা প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের জেলা-উপজেলাগুলোতেও সমানভাবে দিতে হবে। পুঁজিবাদের দৈত্যকে ঘাড়ে তোলে রেখে তেমন সমান সুযোগ-সুবিধা কেউ দিতে পারবেন কি? পথে নেমে আন্দোলন করে সরকার পতনে হয়তো সফল হওয়া যাবে কিন্তু চাকরিতে বৈষম্য নিরসন কীছুতেই নয়। ন’মণ (৯ মণ) ঘিও হবে না, রাধাও নাচবে না।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য

হাওরে ‘নয়া দুর্যোগ’ জলাবদ্ধতা

হাওরে ‘নয়া দুর্যোগ’ জলাবদ্ধতা