সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ , ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি আড়াল করতেই এমপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার, লুটপাটকারীদের বিচারের দাবি জন্মান্ধ স্বামী, এক চোখে দেখেন স্ত্রী, মানুষের সাহায্যে চলে সংসার শঙ্কা মাথায় নিয়ে বোরো আবাদের প্রস্তুতি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা পোশাক কারখানা সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাবা-মা-ভাইবোনসহ ছাত্রলীগ নেতার পুরো পরিবার গ্রেফতার, সঙ্গে ৩ বন্ধুও শীতকালীন সবজি চাষে নেই প্রণোদনা, ভালো দাম, প্রকৃতি ভরসা কৃষকের জাতীয় যুব দিবস পালিত ছাতকে আমন ধান কাটা উৎসব তাহিরপুরে নামমাত্র শিশু পার্ক, দুই বছরেও চালু হয়নি কার্যক্রম জমকালো আয়োজনে পর্দা উঠল গাগলী সুপার লীগ সিজন-৪ এর এইচএসসিতে সুনামগঞ্জের দুই কলেজে পাস করেনি কেউ শাল্লায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১ তাহিরপুরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার পানি সরবরাহ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন এইচএসসিতে ফল বিপর্যয়, অর্ধেকই ফেল, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪৬ জন এমপি নূরুলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, প্রতিবাদে সোচ্চার বিএনপি নেতাকর্মীরা ফ্যামিলি কার্ডে টাকা দাবি বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ, মাঠে তথ্য সংগ্রহকারী কর্মী স্ত্রী আটকের পর অসুস্থ ছাত্রলীগ নেতা, পরিবারের দাবি নির্যাতন, পুলিশের অস্বীকার ঐতিহাসিক বাঁশতলায় নান্দনিক স্থাপনার নামকরণ নিয়ে ক্ষোভ
ভালো নেই শহীদ সোহাগের পরিবার

স্বজনদের কান্না থামছে না, অভাব-অনটনে কাটছে দিন

  • আপলোড সময় : ১৯-১০-২০২৪ ০৮:৪৭:০৬ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৯-১০-২০২৪ ০৮:৪৭:০৬ পূর্বাহ্ন
স্বজনদের কান্না থামছে না, অভাব-অনটনে কাটছে দিন
শহীদনূর আহমেদ :: বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের ডাকে সরকার পতনের আন্দোলনে যোগ দেন একই পরিবারের তিন ভাই। ৫ আগস্ট পুলিশের গুলিতে নিহত হন এক ভাই, গুরুতর আহত হন আরেক জন। ভাই হত্যার বিচার পেতে মামলা করায় হুমকির মুখে অপর ভাই। বলছিলাম, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনে যোগ দেয়া জামালগঞ্জ উপজেলা ভীমখালি ইউনিয়নের হতদরিদ্র পরিবারের নিহত সন্তান সোহাগ ও আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত অপর দুই ভাই বিল্লাল ও শুভ’র কথা। একটি ঘটনায় তছনছ হয়েগেছে পরিবারটির স্বপ্ন। ব্যয়বহুল চিকিৎসা আর পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্য হারিয়ে অভাব-অনটনের সংসারে মানবেতর দিন কাটছে তাদের। জানা যায়, উপজেলার ভীমখালি ইউনিয়নের গোলামীপুর গ্রামে হতদরিদ্র এক পরিবারে বেড়ে ওঠা তিন ভাই সোহাগ, বিল্লাল ও শুভ। ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনের মধ্যে দিনাতিপাত করতে হতো তাদের। একপর্যায়ে পরিবারের হাল ধরতে সোহাগ বিদেশে পাড়ি জমাতে চাইলেও দালালের খপ্পরে পড়ে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে জীবিকা নির্বাহের আশায় ঢাকা শহরের একটি গার্মেন্টেন্সে শ্রমিক হিসাবে কাজে যোগদান করেন। জীবিকার তাগিদে তিন ভাইকে নিয়ে বসবাস করতেন ঢাকার বাড্ডা এলাকায়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সাথে আন্দোলনে যোগ দেন সোহাগসহ তিন ভাই। আন্দোলন চলাকালে গত ৫ আগস্ট বাড্ডা থানা এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সোহাগ। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় তার ছোটভাই শুভ। এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে ১৭৯ জনের নামে বাড্ডা থানায় নিহতের ভাই বিল্লাল মিয়া বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে মামলা তুলে নিতে মুঠোফোনে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয় তাকে। প্রাণ ভয়ে গ্রামের বাড়িতে চলে আসলেও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বিল্লাল ও তার পরিবারের সদস্যরা। নিহত সোহাগের ছোট ভাই শুভ বলেন, আমরা তিনভাই ঢাকায় গার্মেন্টেন্সে চাকরি করতাম। ছাত্র আন্দোলনের সময় গার্মেন্টস বন্ধ হওয়ার পর থেকে নিয়মিত আন্দোলনে যোগ দিয়েছি আমরা। ৫ আগস্ট বাসা থেকে এক সাথে বের হয়েছিলাম আমরা। বাড্ডা থানা এলাকায় আসলে হঠাৎ পুলিশ গুলি ছুড়লে আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাই। আমি নিজেও পুলিশের গুলিতে আহত হই। হাসপাতালে গিয়ে আমার ভাইয়ের লাশ পাই। নিহত সোহাগের বড়ভাই বিল্লাল মিয়া বলেন, ছাত্র আন্দোলনে আমাদের পরিবার তছনছ হয়ে গেছে। পুলিশের গুলিতে আমার ভাই হারিয়েছি। আরেক ভাই আহত অবস্থায় রয়েছে। পরিবারও আর্থিক টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সেই দিনের ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ভয়ে ঢাকায় থাকতে পারিনি। গ্রামে এসেও রক্ষা নেই। মামলা তুলে নিতে মুঠোফোনে হুমকি আসছে। আমরা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। এদিকে পরিবারের অন্যতম উপাজনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা সোহাগের মা ও বাবা। সন্তানের কথা স্মরণ হলেই আহাজারি করতে থাকেন সন্তানহারা রোকেয়া বেগম। আহত সন্তানদের চিকিৎসা ব্যয় ও কর্মহীন অবস্থায় দুশ্চিন্তা কাটছে না বৃদ্ধা কালাম মিয়ার। নিহত সোহাগের বাবা কালাম মিয়া বলেন, সোহাগ ছিল আমার পরিবারের মুকুট। তাঁর আয়ের টাকায় সংসার চলতো। আহত ছেলের চিকিৎসা ও আর পরিবার চালানো কষ্ট হয়েগেছে। দেশের জন্য ছেলে হারিয়েছি। এখন আমি ন্যায্য বিচার চাই। এদিকে অসহায় পরিবারটিকে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার কথা জানিয়ে স্থানীয় ভীমখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আক্তার হোসেন বলেন, পরিবারটি অনেক অসহায়। আমরা স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করছি তাদের পাশে দাঁড়াতে। সরকারি-বেসরকারিভাবে পরিবারটির পাশে এগিয়ে আসলে তারা আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে। এদিকে শহীদ পরিবারের অবস্থা সরেজমিনে দেখে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা করেছেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। ভবিষ্যতে শহীদ পরিবারটিকে সকল ধরনের সহযোগিতা করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে, দেশের ক্রান্তিলগ্নে অবদান রাখা অসহায় পরিবাটির পুনবার্সনে সরকার এগিয়ে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক