সুনামগঞ্জ , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল এমপি কলিম উদ্দিন মিলনকে সংবর্ধনা প্রদান জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

পল্লী বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ গ্রাহক

  • আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৪ ১০:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৮-১০-২০২৪ ১০:০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন
পল্লী বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলে অতিষ্ঠ গ্রাহক
শহীদনূর আহমেদ :: ভূতুড়ে বিল নিয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা। জেলার শান্তিগঞ্জ, দিরাই, শাল্লাসহ বিভিন্ন উপজেলার অনেক গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের হিসাব মিলছে না। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিটি বিলে অতিরিক্ত টাকা যোগ করে দেয়া হয়েছে। বার বার বললেও মিলছে না প্রতিকার, বরং বাড়ছেই বিল। ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ মিটার না দেখেই অফিসে বসেই বিল তৈরি করছেন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মীরা। গ্রাহকরা অভিযোগ করে জানান, চলতি সেপ্টেম্বরসহ বকেয়া মাসের বিদ্যুৎ বিলের কাগজে হিসাব মিলছে না অধিকাংশ গ্রাহকের। প্রতিটি বিলে অতিরিক্ত টাকা যোগ করে দেওয়া হয়েছে। বিলের কপিতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে ভ্যাট, বিলম্ব মাশুল যোগ করেও চূড়ান্ত বিলের সঙ্গে গড়মিল পাওয়া গেছে। একাধিক বিলেই অতিরিক্ত ৫০ থেকে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ বেশি যোগ করা হয়েছে। বিল নিয়ে অফিসে ধরনা দেয়ার পরও কোনো সমাধান দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা। পরবর্তী মাসে সমন্বয় করে দেয়ার আশ্বাস দিলেও তা শুধু কথাতেই সীমাবদ্ধ। পরের বার গেলে বরং অফিসের েোকজন দুর্ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক কালু মিয়ার গত দিন মাসের বিদ্যুৎ বিল পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতি মাসে শতভাগের চেয়েও বেশি বিদ্যুৎ বিল বৃদ্ধি করা হচ্ছে। বিগত জুলাই মাসের ৮০ ইউনিট ব্যবহারে জন্য ৩৮৮ টাকা বিল আসলেও পরবর্তী আগস্ট দ্বিগুণের চেয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়েছে। এই মাসে ১৭৫ ইউনিটের জন্য ১২০৯ টাকা বিল দেখানো হয়েছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে শতভাগ বিদ্যুৎ ইউনিট ও বিল বৃদ্ধি করা হয়েছে। ৩৬০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়েছে দেখিয়ে যার বিল আসছে ২৫৩৫ টাকা। বিদ্যুৎ বিলের এমন দিনরাত পার্থক্য দেখে বিস্মিত কালু মিয়া। তিনি জানান, আমার ঘরে দুইটি লাইট, দুইটি ফ্যান আর একটি ফ্রিজ চলে। কিন্তু প্রতিমাসে পাল্লা দিয়ে বাড়ানো হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল। এটি যেন গায়েবি বিল। একই অবস্থা গ্রামের দিলোয়ার হোসেনের। সেপ্টেম্বর মাসে ২০০ ইউনিট ব্যবহারের জন্য ১৪৫৮ টাকা বিল দেখানোর হয়েছে। অথচ আগস্ট মাসে ১০০ ইউনিট ব্যবহারের জন্য ৫৭৫ টাকা এবং জুন ও জুলাই মাসে ৮০ ইউনিটি ব্যবহার করায় প্রতি মাসে ৪৮৩ টাকা বিল। গ্রামের আমানুর রহমানের আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়েছে ৫০০ ইউনিট অথচ এর আগের জুন মাসে ২০০ ইউনিট ও জুলাই মাসে ৩০০ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়েছে বিলের কাগজে। রইস উদ্দিনের সেপ্টেম্বর মাসে বিদ্যুৎ ব্যবহার দেখানো হয়েছে ২৫০ ইউনিট। যার জন্যে বিল আসছে ১৮৫৬ টাকা। অথচ আগস্ট মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহার ছিল ১৬০ ইউনিট। ভুক্তভোগী পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহক বলেন, আমি গরিব মানুষ। আমার ঘরে লাইট আর ফ্যান চলে। গত মাসে ১৬০ ইউনিট বিল আসায় আমি অফিসে গিয়ে অভিযোগ করে আসছি। কিন্তু এবার আরও দ্বিগুণ বিল আসছে। মনগড়া ঘরে বসে বিদ্যুৎ বিল করছে অফিসের লোকেরা। সরেজমিনে মিটার চেক না করেই ঘরে এসে বিল ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আমরা যাবো কই। কার কাছে যাবো। এভাবে শান্তিগঞ্জ উপজেলা ছাড়াও দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জসহ একাধিক উপজেলায় খোঁজ নিয়ে পল্লী বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিলের সত্যতা পাওয়াগেছে। পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের এমন ভূতুড়ে বিলে বিপাকে সাধারণ গ্রাহকরা। প্রতি মাসে বর্ধিত বিল পরিশোধ করতে গিয়ে দিশেহারা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিয়ে সমাধান পাওয়া যাচ্ছেনা বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ভূতুড়ে বিলের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার মিলন কুমার কুন্ডু বলেন, মিটারের সাথে বিলের মিল না হলে সেটি ভূতুড়ে বিল। এমন বেশকিছু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। আমাদের লোকরা যারা সরেজমিনে মিটার চেক করছে না, তাদের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিছু কর্মী আমরা ছাটাইও করছি। যাদের বিলে এমনটা হচ্ছে আমাদের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য