ঐতিহাসিক বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ
- আপলোড সময় : ০৭-১১-২০২৬ ০৬:৩৯:২৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-১১-২০২৬ ০৬:৩৯:২৪ পূর্বাহ্ন
সুনামকণ্ঠ ডেস্ক ::
আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হবে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ ৭ নভেম্বর সারা দেশে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এবং বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব দূতাবাস ও মিশনেও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত পরিপত্রে বলা হয়েছে, দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করতে হবে।
এছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব মিশন ও দূতাবাসেও একইভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ ৭ নভেম্বর দেশে সাধারণ ছুটি থাকবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপন সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকায় দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে প্রতি বছর নিয়ম মেনে ৭ নভেম্বর জাতীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হবে।
এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এ ছুটির আওতায় থাকবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব তফশিলি ব্যাংকও ওই দিন বন্ধ থাকবে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ ৭ নভেম্বর দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। সংগঠনটির প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে আজ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির র্যালি উদ্বোধন করবেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতিমধ্যে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে; যেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী এই শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ইতিমধ্যে বিএনপি সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস স্মরণ করে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ স¤পাদক বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর এক ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনটিতে দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার মিলিত এক বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল। ওই মহান বিপ্লবে আধিপত্যবাদী শক্তির সব ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে গিয়েছিল। সুসংহত হয়েছিল দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব। ফলে ৭ নভেম্বরের দিনটি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে জাতির ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
তিনি বলেন, পঁচাত্তরের পটপরিবর্তনের পর ৩, ৪ ও ৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ছিল কার্যত সরকারবিহীন। এ সময় কুচক্রীরা সেনাবাহিনী প্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ক্যান্টনমেন্টে তার বাসভবনে বন্দি করে রেখেছিল। কিন্তু ৬ নভেম্বর রাতে সংঘটিত সিপাহি-জনতার বিপ্লবে নস্যাৎ হয়ে যায় সব ষড়যন্ত্র। চার দিন বন্দি থাকার পর মুক্তি পান জিয়া। রেডিওতে ভেসে আসে তার কণ্ঠ- ‘আমি জিয়া বলছি’। ভাষণে তিনি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ এবং কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানান। ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের সংক্ষিপ্ত, আবেগপূর্ণ এবং সময়োচিত ভাষণ দেশের জনগণকে উদ্দীপ্ত করে।
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট মারুফ কামাল খান বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিনটি ছিলো ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর। সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে এই তারিখটি আমাদের জাতীয় ইতিহাসে উজ্জ্বল ও ভাস্মর হয়ে আছে।
বিশিষ্ট সাংবাদিক ও কলামিস্ট গাজীউল হাসান খান বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সেনা অধিনায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের জীবন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির ইতিহাসে ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। ৭ নভেম্বর সংগঠিত সিপাহি-জনতার বিপ্লবই মুক্তিযুদ্ধের অগ্রনায়ক জিয়াউর রহমানকে দেশের রাজনীতিতে টেনে এনেছিল, এক কঠিন সময়ে তাঁকে জাতির মহান কাণ্ডারীর ভূমিকায় বসিয়েছিল।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক