সংগীতশিল্পী মঞ্জুর আলীর ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত
- আপলোড সময় : ০৬-১১-২০২৬ ১০:২৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৬-১১-২০২৬ ১০:২৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
সুনামগঞ্জ শহরের নতুনপাড়ার বিশিষ্ট সংস্কৃতিপ্রেমী, সংগীতশিল্পী ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি তহশিলদার মঞ্জুর আলীর ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেলে পরিবারের উদ্যোগে স্থানীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মঞ্জুর আলী সুনামগঞ্জ শহরের উত্তর আরপিননগরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫০ সালে এসএসসি পাসের পর তিনি সরকারি তহশিলদার পদে চাকরিতে যোগ দেন। কর্মজীবনে তিনি তাহিরপুর ও ডিভার্টি ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় সরাসরি যুদ্ধে অংশ নিতে না পারলেও পাকিস্তানি বাহিনীর বিভিন্ন গোপন তথ্য তাহিরপুর সীমান্তবর্তী মুক্তিবাহিনীর ক্যা¤েপ পৌঁছে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেন। পাকিস্তান আমলেই তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাবিদ্যায় ডিপ্লোমা স¤পন্ন করেন। চাকরির পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা দিতেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করতেন।
মঞ্জুর আলী ছিলেন সংস্কৃতিমনা, স্বাধীনচেতা ও বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তৎকালীন রেডিও পাকিস্তান, পূর্ব পাকিস্তানের সিলেট কেন্দ্রের প্রথম দিকের তালিকাভুক্ত সংগীতশিল্পীদের একজন ছিলেন তিনি। সেখানে ভাওয়াইয়া গান ও নজরুলসংগীত পরিবেশন করতেন। সংগীতচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সংগঠক হিসেবেও ভূমিকা রাখেন। খেলাধুলার প্রতিও ছিল তাঁর বিশেষ আগ্রহ। তিনি সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী আজাদী ফুটবল দলের নিয়মিত গোলরক্ষক ছিলেন।
চাকরি থেকে অবসরের পর সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী কল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন।
২০০৪ সালে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যান। তাঁর বড় ছেলে প্রয়াত শাহনেওয়াজ জাহান সুনামগঞ্জের একজন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রের পার্শ্ব অভিনেতা ছিলেন। মেজ ছেলে শাহাবুদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত আধুনিক গানের শিল্পী। তিনি সংগীত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সাংবাদিকতার সঙ্গেও যুক্ত। একমাত্র মেয়ে কোহিনূর বেগম বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত কণ্ঠশিল্পী। তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মজীবন শেষে অবসরে রয়েছেন। ছোট ছেলে মো. জসিম উদ্দিন জগন্নাথপুর-২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে গেছেন।
সংগীত, সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মানবসেবায় নিবেদিত মঞ্জুর আলী ছিলেন পরিবারের সবার কাছে বটবৃক্ষের মতো আশ্রয়। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার হারিয়েছে অভিভাবক, আর সুনামগঞ্জ হারিয়েছে একজন সংস্কৃতিপ্রেমী ও বহুমুখী প্রতিভার মানুষ। সময়ের পরিক্রমায় তিনি আজ স্মৃতির মানুষ হলেও তাঁর কর্ম ও অবদান স্বজনদের কাছে আজও অমলিন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ