স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত
- আপলোড সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০১:৩৬:০৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৩-১১-২০২৬ ০১:৪৭:১৪ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :: এক ব্যাগ রক্ত যেমন বাঁচাতে পারে মুমূর্ষু রোগীর জীবন, তেমনি মৃত্যুর পর মরণোত্তর চক্ষুদানের মাধ্যমে একজন অন্ধ মানুষের পৃথিবী দেখার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে। জীবন বাঁচানো ও দৃষ্টিহীন মানুষের জীবনে আলো ফিরিয়ে দেওয়ার এই মানবিক বার্তা নিয়ে সুনামগঞ্জে জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) দিবসটি উপলক্ষে সুনামগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি, আলোচনা সভা ও স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সুমন বণিক। এছাড়া সিভিল সার্জন কার্যালয় ও জেলা সদর হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী রক্তদানকারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। আলোচনা সভায় বক্তারা স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানের প্রয়োজনীয়তা এবং মানবিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তারা বলেন, রক্তের অভাবে কোনো রোগীর চিকিৎসা যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য স্বেচ্ছায় ও নিয়মিত রক্তদানে সক্ষম ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তি, জটিল অস্ত্রোপচারের রোগী, প্রসূতি মা ও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসায় নিরাপদ রক্তের প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় রক্তদাতারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বক্তারা আরও বলেন, রক্তদান শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সহমর্মিতার অনন্য প্রকাশ। রক্তদানের বিষয়ে প্রচলিত ভয়, ভুল ধারণা ও অজ্ঞতা দূর করে তরুণ প্রজন্মকে স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি রক্তদাতা সংগঠনগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। মরণোত্তর চক্ষুদানের বিষয়ে বক্তারা বলেন, একজন মানুষের মৃত্যুর পর তার দান করা কর্নিয়া অন্য একজন দৃষ্টিহীন মানুষের পৃথিবী দেখার সুযোগ তৈরি করতে পারে। মৃত্যুর পরও অন্যের জীবনে আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এমন সুযোগ মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাই মরণোত্তর চক্ষুদান সম্পর্কে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ বিষয়ে মানুষের ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানের মতো মহৎ মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। আয়োজকদের মতে, একজন মানুষের সামান্য উদ্যোগ অন্য একজনের জীবন বাঁচাতে কিংবা দৃষ্টিহীন মানুষের জীবনে নতুন আলো ফিরিয়ে দিতে পারে। তাই রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে ব্যক্তি, পরিবার ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ