উদ্বোধনের পর থেকেই তালাবদ্ধ, বিনোদনবঞ্চিত শিশুরা
তাহিরপুরে নামমাত্র শিশু পার্ক, দুই বছরেও চালু হয়নি কার্যক্রম
- আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৬ ১১:৩১:১০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-১১-২০২৬ ১১:৩১:১০ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
পর্যটন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য দেশজুড়ে পরিচিত তাহিরপুর উপজেলা। হাওর, নদী ও পাহাড়ের অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই এখানে ছুটে আসেন পর্যটকেরা। অথচ এই উপজেলার শিশুদের জন্য নেই পর্যাপ্ত বিনোদনকেন্দ্র। শিশুদের বিনোদনের কথা বিবেচনা করে প্রায় দুই বছর আগে উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কার্যালয় ও শনির হাওরসংলগ্ন এলাকায় নির্মাণ করা হয় একটি শিশু পার্ক। ঘটা করে উদ্বোধনও করা হয় পার্কটি। কিন্তু উদ্বোধনের পর থেকেই কার্যত তালাবদ্ধ পার্কটি। দুই বছরেও সেখানে শুরু হয়নি কোনো কার্যক্রম। ফলে শিশুদের বিনোদনের স্বপ্ন পূরণ না হয়ে পার্কটি এখন অবহেলা আর অযত্নের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদরে শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের কোনো নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় পার্কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পার্কে শিশুদের বিনোদনের জন্য কয়েকটি উপকরণ স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি টবে সাজানো হয় প্লাস্টিকের ফুল। এরপর তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে জেলা প্রশাসকসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দকে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পার্কটির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন ঘিরে শিশু ও অভিভাবকদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও বাস্তবে সেই আশা পূরণ হয়নি।
উদ্বোধনের পরপরই পার্কটির কার্যক্রম থেমে যায়। বর্তমানে এর প্রবেশদ্বারে ২৪ ঘণ্টাই তালা ঝুলতে দেখা যায়। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণ না করায় পার্কের ভেতরে স্থাপিত বিনোদনের উপকরণগুলোও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। চারপাশে ঘাস বেড়ে জঙ্গলের মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের জন্য নির্মিত পার্কটি এখন কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।
পার্কটি নির্মাণে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কোন প্রক্রিয়ায় কাজটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং কারা এর নির্মাণকাজ করেছে - স্পষ্ট ধারণা নেই। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য সরকারি উদ্যোগে একটি স্থাপনা নির্মাণের পরও সেটি কেন ব্যবহার উপযোগী করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা বলেন, উপজেলা সদরে শিশুদের জন্য কোনো পার্ক না থাকায় এটি নির্মাণের উদ্যোগকে সবাই ইতিবাচকভাবে দেখেছিলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন, শিশুরা এখানে খেলাধুলা করবে, আনন্দে সময় কাটাবে। কিন্তু উদ্বোধনের পর পার্কটি আর চালু হয়নি। এখন গেট বন্ধ থাকে, ভেতরে অযত্নে পড়ে আছে বিনোদনের উপকরণ। পার্ক নির্মাণে কত টাকা ব্যয় হয়েছে, কারা কাজ করেছে - এসব তথ্যও তাঁদের জানা নেই। তাঁদের অভিযোগ, শিশুদের প্রকৃত বিনোদনের ব্যবস্থা করার চেয়ে উদ্বোধনকেন্দ্রিক আনুষ্ঠানিকতাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
স্থানীয় যুবদল নেতা তোজাম্মিল হক নাসরুমসহ বাসিন্দারা বলেন, পার্কটি চালু হলে উপজেলা সদরের শিশুদের জন্য বিনোদনের একটি জায়গা তৈরি হবে। হাওরবেষ্টিত এ উপজেলায় শিশুদের অবসর কাটানোর সুযোগ সীমিত। তাই পার্কটি দ্রুত চালু করে শিশুদের খেলাধুলা ও বিনোদনের উপযোগী করে তোলার দাবি জানান তাঁরা।
উপজেলা বিএনপি নেতা এমদাদুল হক বলেন, শিশু পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে, ঘটা করে উদ্বোধনও করা হয়েছে - এগুলো ভালো উদ্যোগ। কিন্তু দুঃখের বিষয়, উদ্বোধনের পর একদিনের জন্যও শিশুরা পার্কটি ব্যবহার করতে পারেনি। তাহলে এতো আয়োজন করে পার্ক নির্মাণ ও উদ্বোধনের উদ্দেশ্য কী? এটি নির্মাণে কত টাকা খরচ হয়েছে, কারা কাজ করেছে, সে সম্পর্কেও আমরা কিছু জানি না। ব্যয়ের হিসাব ও নির্মাণকাজের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের পাশাপাশি দ্রুত পার্কটি চালুর দাবি জানাই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। কারা, কীভাবে শিশু পার্কটি তৈরি করেছেন এবং এটি এভাবে পড়ে আছে কেন, তা খোঁজ নিয়ে জানব। তাহিরপুর হাওরবেষ্টিত উপজেলা হওয়ায় এখানে শিশুদের বিনোদনকেন্দ্রের অভাব রয়েছে। পার্কটি চালু হলে শিশুদের বিনোদনের ভালো একটি মাধ্যম হবে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ