সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬ , ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জামালগঞ্জে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রস্তুতিমূলক সভা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির দাফনে বাধা, সুনামগঞ্জে তীব্র ক্ষোভ সুরমা নদীতে টোল আদায় করতে না পেরে বিপাকে ইজারাদার ফুটবল খেলা নিয়ে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে অর্ধশতাধিক আহত তরুণ-তরুণীর বিয়েকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ : আহত ২০ হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ নির্মাণকাজে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে, বন্ধ ঠিকাদারের বিল শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৪৬৯ পোশাক কারখানা প্রতি মাসে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ ডিলারের লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি কার্যালয়ে বীজের মজুত ও বিক্রির অভিযোগ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মওসুমের এক মাস আগেই শুকিয়েছে বীজতলা, বিপাকে হাওরের কৃষক সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি আড়াল করতেই এমপি’র বিরুদ্ধে অপপ্রচার, লুটপাটকারীদের বিচারের দাবি জন্মান্ধ স্বামী, এক চোখে দেখেন স্ত্রী, মানুষের সাহায্যে চলে সংসার শঙ্কা মাথায় নিয়ে বোরো আবাদের প্রস্তুতি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপনে প্রস্তুতি সভা পোশাক কারখানা সচল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাবা-মা-ভাইবোনসহ ছাত্রলীগ নেতার পুরো পরিবার গ্রেফতার, সঙ্গে ৩ বন্ধুও শীতকালীন সবজি চাষে নেই প্রণোদনা, ভালো দাম, প্রকৃতি ভরসা কৃষকের জাতীয় যুব দিবস পালিত ছাতকে আমন ধান কাটা উৎসব

শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামায় সুঁই-সুতো হাতে প্রধান শিক্ষিকা

  • আপলোড সময় : ০১-১১-২০২৬ ০৮:৫৮:৪০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০১-১১-২০২৬ ০৯:০০:৩১ পূর্বাহ্ন
শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামায় সুঁই-সুতো হাতে প্রধান শিক্ষিকা
একে কুদরত পাশা::
এক হাতে সুঁই, অন্য হাতে সুতো। মনোযোগ দিয়ে সেলাই করছেন শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামা। তাঁর কাছে এটি কেবল একটি জামা মেরামত নয়, বরং বিদ্যালয়ে আসা ছোট্ট শিশুটির প্রতি মমতা, দায়িত্ববোধ আর ভালোবাসার প্রকাশ। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের এমন ছোট ছোট সমস্যায় পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন ধর্মপাশা উপজেলার বেরীকান্দী বড়খলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাইলা বেগম। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি শুধু একজন শিক্ষক নন, যেন মমতাময়ী মা। নিজের সন্তানদের যেভাবে আগলে রাখেন, বিদ্যালয়ের শিশুদের প্রতিও তাঁর আচরণ ঠিক তেমনই। কারও জামা ছিঁড়ে গেলে সেলাই করে দেওয়া, লেখার খাতা না থাকলে কাগজ কিনে খাতা তৈরি করে দেওয়া - এমন কাজ দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছেন তিনি। প্রচারের জন্য নয়, বরং নিজের স্বভাবের অংশ হিসেবেই এসব করেন বলে জানিয়েছেন এই শিক্ষক। সম্প্রতি এক শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামা নিজ হাতে সেলাই করে দেওয়ার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের কথা সামনে আসে। প্রশংসায় ভাসতে থাকেন নাইলা বেগম। অনেকেই মনে করছেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের এমন দৃষ্টান্ত শিক্ষকতার প্রকৃত সৌন্দর্যকে তুলে ধরে। গত বৃহ¯পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খাইরুন নাহার লিপি নিজের ফেসবুক আইডিতে নাইলা বেগমের এই কাজের বর্ণনা ও ছবি প্রকাশ করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। বিদ্যালয়ের আরেক সহকারী শিক্ষক মরিয়ম মালা লেখেন, তাঁর প্রধান শিক্ষক প্রায়ই এমন কাজ করেন। কোনো শিক্ষার্থীর লেখার খাতা না থাকলে নিজেই কাগজ কিনে সেলাই করে খাতা তৈরি করে দেন। ফারুক জাহাঙ্গীর নামের একজন লেখেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বই-খাতা সেলাই করে দেওয়া, বৃত্তি পরীক্ষার ফি দেওয়া, জাতীয় দিবসে পোশাক ইস্ত্রি করে দেওয়া কিংবা অসুস্থ শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার মতো কাজ করেন। কোনো শিশু না খেয়ে বিদ্যালয়ে এলে নিজের টিফিন ভাগ করে দেওয়া বা টাকা দিয়ে খাবার কিনে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। তাঁর মতে, এসব কাজের মধ্য দিয়ে শিক্ষকেরা পাঠদানের বাইরেও শিশুদের প্রতি দায়িত্ব পালন করেন। রাকিবুল আলমের মন্তব্যেও উঠে আসে ভালো কাজের প্রশংসার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জবাবদিহির গুরুত্ব। তিনি লেখেন, একজন শিক্ষকের মহানুভবতা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি মমত্ববোধের প্রশংসা করতে হবে। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না বা যথাযথভাবে পাঠদান করেন না, তাঁদের অনিয়মের গঠনমূলক সমালোচনাও জরুরি। প্রশংসা ও সমালোচনা - দুটিই সুস্থ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থার অংশ। নিজের কাজ নিয়ে নাইলা বেগম বলেন, আমি এগুলো সব সময়ই করি। কাউকে দেখানোর জন্য কিংবা প্রকাশ করার উদ্দেশ্যে এসব করি না। এগুলো আমার স্বভাবের অংশ। আমার এক সহকর্মী ছবিটি তুলে ফেসবুকে দিয়েছেন। কখনো চাইনি এসব কাজ গণমাধ্যমে প্রকাশ হোক। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকতা একটি নৈতিকতার পেশা। দোয়া করবেন, যেন চাকরিজীবনের বাকি সময়টুকুও শিক্ষার্থীদের মায়ের মমতায় এভাবেই পাশে থেকে শিক্ষা দিতে পারি। নাইলা বেগমের ব্যক্তিজীবনেও রয়েছে পরিবার ও সন্তানদের ঘিরে নানা ব্যস্ততা। তিনি তিন সন্তানের জননী। তাঁর স্বামী খয়েরদিরচর আলীম মাদ্রাসার সহকারী সুপার হিসেবে কর্মরত। বড় ছেলে অনার্সে পড়ছেন। ছোট ছেলে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। এসএসসি পরীক্ষায় সে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। তাঁদের একমাত্র মেয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) অধ্যয়নরত। তবে পরিবার সামলানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতি এই মমত্ববোধই তাঁকে আলাদা করে চিনিয়েছে। ১৯৯৭ সালে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি শিশুদের বই-খাতা সেলাই করে দেওয়া, ছেঁড়া জামা মেরামত করাসহ নানা প্রয়োজনে পাশে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেছেন নাইলা বেগম। কর্মজীবনের শুরুতে বাদশাগঞ্জ পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ে চার বছর শিক্ষকতা করেন। এরপর ভাটাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দুই বছর এবং নিজের শৈশবের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫ বছর শিক্ষকতা করেন। পরে বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে প্রায় পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বেরীকান্দী বড়খলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, একটি জামা সেলাই করে দেওয়া হয়তো খুব বড় কোনো কাজ নয়। কিন্তু একটি শিশুর কাছে এই ছোট্ট উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে ভালোবাসা ও আপনত্বের গভীর অনুভূতি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা শুধু বইয়ের পাতায় লেখা পাঠ থেকেই নয়, শিক্ষকদের এমন আচরণ থেকেও সহমর্মিতা, মানবিকতা ও অন্যের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পায়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ

হাওরে বোরোর মনগড়া লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্ষোভ