মাদকাসক্ত চালক, অনিরাপদ সড়ক
- আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৮:৪০:২১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৬ ০৮:৪০:২১ পূর্বাহ্ন
সড়ক দুর্ঘটনা কেবল একটি পরিবারের কান্না নয়, এটি জাতীয় জীবনের এক গভীর সংকট। প্রতিদিন সড়কে প্রাণহানি, পঙ্গুত্ব ও স¤পদের ক্ষতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নিরাপদ সড়ক এখনো অধরা। অথচ একটু সচেতনতা, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা গেলে অনেক দুর্ঘটনাই প্রতিরোধ করা সম্ভব। সুনামগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসের আলোচনা সভায় মাদকাসক্ত চালকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের যে আহ্বান জানানো হয়েছে, তা সময়োপযোগী ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ - এই প্রতিপাদ্য তখনই সার্থক হবে, যখন সড়কে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। একজন চালকের হাতে থাকে অসংখ্য যাত্রীর জীবন। সেই চালক যদি মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ি চালান, তাহলে তা কেবল ব্যক্তিগত দায়িত্বহীনতা নয়, অন্যের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলার শামিল। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় চালকের বিচার-বিবেচনা, মনোযোগ ও প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। ফলে একটি মুহূর্তের অসতর্কতায় ঝরে যেতে পারে বহু প্রাণ।
তাই মাদকাসক্ত চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিকল্প নেই। তবে শুধু বক্তব্য কিংবা দিবসকেন্দ্রিক আহ্বানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। যানবাহন চালানোর আগে চালকদের মাদক গ্রহণ শনাক্তে কার্যকর পরীক্ষাব্যবস্থা, নিয়মিত তদারকি এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যাচাই, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।
সড়ক নিরাপত্তার দায় অবশ্য শুধু চালকদের একার নয়। যাত্রী, পথচারী, পরিবহনমালিক, শ্রমিক সংগঠন, ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান - সব পক্ষেরই দায়িত্ব রয়েছে। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা, ওভারটেকিংয়ের প্রবণতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পথচারীদেরও নির্ধারিত স্থান দিয়ে রাস্তা পারাপার এবং সড়কের নিয়ম মেনে চলতে হবে। পরিবহনমালিকদের নিশ্চিত করতে হবে, চালকেরা পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছেন এবং নির্ধারিত সময়ের চাপে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে গাড়ি চালাতে বাধ্য হচ্ছেন না।
সুনামগঞ্জের মতো হাওরবেষ্টিত জেলায় সড়ক যোগাযোগ ও পরিবহনব্যবস্থার নিরাপত্তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। এ অঞ্চলের সড়কগুলোতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিতকরণ, প্রয়োজনীয় সংকেত স্থাপন এবং নিয়মিত অভিযান পরিচালনা জরুরি।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবসে চারজন শ্রেষ্ঠ চালককে সম্মাননা দেওয়া প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে এ সম্মাননা যেন আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং দক্ষ, প্রশিক্ষিত ও দায়িত্বশীল চালক তৈরির প্রেরণা হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, সড়ক কারও একার নয়; সড়কের নিরাপত্তাও একক কোনো পক্ষের দায়িত্ব নয়। প্রতিটি প্রাণ অমূল্য। তাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সচেতনতা, জবাবদিহি ও আইনের কঠোর প্রয়োগ - এই তিনের সমন্বয় অপরিহার্য। মাদকাসক্ত চালকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণসহ সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগই হোক নিরাপদ সড়ক দিবসের অঙ্গীকার।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়