দুই মাসে দুই নির্বাহী প্রকৌশলীর বদলি, জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে
- আপলোড সময় : ২৭-১০-২০২৬ ০৮:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৭-১০-২০২৬ ০৮:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের প্রস্তুতির সময় ঘনিয়ে আসছে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পওর বিভাগ-১ এখন নির্বাহী প্রকৌশলীশূন্য। গত দুই মাসে এ পদে দুজন প্রকৌশলীকে পদায়ন করা হলেও তাঁরা যোগদানের পরপরই বদলি হয়ে গেছেন। এর আগে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারও বদলি হয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি বিভাগের এমন নেতৃত্বশূন্যতা নিছক প্রশাসনিক ঘটনা নয়; এটি হাওরের কৃষি ও কৃষকের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা।
সুনামগঞ্জের অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকা অনেকাংশেই বোরো ফসলের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ, উজানের ঢল ও পাহাড়ি পানির তোড়ে হাওরের ফসলহানির আশঙ্কা থাকে। সময়মতো এবং যথাযথভাবে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার করা গেলে এই ঝুঁকি অনেকটাই মোকাবিলা করা সম্ভব। এ কারণে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা, প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন ও অনুমোদন এবং কাজের মান যাচাই - সবকিছুতেই সময়ানুবর্তিতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা জরুরি।
এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা কেন সুনামগঞ্জে থাকতে চাইছেন না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্গম কর্মপরিবেশ, পর্যাপ্ত বরাদ্দের অনিশ্চয়তা, নতুন প্রকল্পের অভাব এবং বাঁধ নির্মাণকালে নানা ধরনের চাপের কারণে প্রকৌশলীদের মধ্যে অনীহা তৈরি হয়েছে। অতীতে বাঁধের কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ঘটনাও রয়েছে। ফলে দায়িত্ব পালনে জবাবদিহির চাপ যেমন আছে, তেমনি প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও পেশাগত সক্ষমতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জও রয়েছে।
তবে এসব কারণ কোনোভাবেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ফেলে চলে যাওয়ার সংস্কৃতিকে স্বাভাবিক করে তুলতে পারে না। একই সঙ্গে সমস্যার দায় শুধু প্রকৌশলীদের ওপর চাপিয়েও সমাধান পাওয়া যাবে না। দুর্গম এলাকায় দায়িত্ব পালনের উপযোগী পরিবেশ, প্রয়োজনীয় জনবল, পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ এবং প্রশাসনিক সহায়তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আবার পদায়নের পরপরই কেউ বদলি হয়ে গেলে তার কারণ ও প্রক্রিয়া নিয়েও স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। তদবিরের মাধ্যমে বদলি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ সত্য হলে, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত।
পাউবো’র সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। পওর বিভাগ-১-এ দ্রুত একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও দায়িত্বশীল নির্বাহী প্রকৌশলী নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে প্রকল্প প্রণয়ন, পিআইসি অনুমোদন ও বাঁধের কাজ শুরুর সময়সূচি নির্ধারণ করে তা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি নিতে হবে। শুধু পদায়ন করলেই হবে না, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান তদারকির জন্য কার্যকর নজরদারিও জরুরি।
মনে রাখতে হবে, হাওরের বাঁধ কোনো সাধারণ অবকাঠামো নয়; এটি লাখো কৃষকের সারা বছরের শ্রম, বিনিয়োগ ও জীবিকার সুরক্ষাব্যবস্থা। বাঁধ নির্মাণে বিলম্ব বা অব্যবস্থাপনার মাশুল দিতে হয় কৃষককে, ক্ষতিগ্রস্ত হয় সামগ্রিক অর্থনীতি। তাই প্রশাসনিক বদলি, পদায়ন কিংবা দায়িত্ব এড়ানোর জটিলতায় হাওরের ফসলরক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়। সময় থাকতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে। হাওরের বাঁধ নিয়ে অবহেলা কিংবা গাফিলতির কোনো সুযোগ নেই।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়