বিশেষ প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পওর বিভাগ-১) এ নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের বদলির পর এই পদে কেউ যোগ দিতে চাচ্ছেন না। মামুন হাওলাদারকে কর্তৃপক্ষ ‘জোর করে’ দীর্ঘদিন এখানে কাজ করানোর পর প্রায় দুই মাস আগে তিনি বদলি হন। এখন হাওরাঞ্চলে বড়ো কোন প্রকল্প না থাকায় এবং সরকারের বাজেট কৃচ্ছ্রতার জন্য দুর্যোগপ্রবণ হাওরে পাউবো’র প্রকৌশলীরা কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন বলে জানা গেছে। তাই তার বদলির পর সরকার দুজনকে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ দিলেও সাথে সাথেই তদবির করে তারা বদলি হয়ে গেছেন। এখন হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের সময় ঘনিয়ে আসায় তাই বাঁধের কাজ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে মামুন হাওলাদারের বদলি হয়। তার বদলির পর আহসান হাবিব নামের একজনকে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়। তিনি পদায়ন আদেশের সপ্তাহ খানেক পর যোগ দিয়েই চলে যান। কাগজে কলমে তিনি ১০ দিন দায়িত্ব পালনের কথা বলা হলেও বাস্তবে তিনি অফিসেই বসেননি। আদেশের পরেই তিনি বদলির জন্য তদবির শুরু করেন। পরে তিনি ঢাকায় বদলির আদেশ করিয়ে নেন। তার বদলির পর মেহেদি হাসান মিশুক নামের আরেকজনকে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়ন করা হয়। তার আদেশের দুইদিনের মাথায় তিনি আদেশ বাতিল করিয়ে অন্য এক জেলায় যোগদান করেছেন। বিশ্বস্ত একটি সূত্র জানায়, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধের কাজের প্রতি রাষ্ট্র ও সরকারের নজর থাকে। স্থানীয় রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, কৃষক আন্দোলনের নেতাকর্মীরা বাঁধের কাজ নিয়ে সোচ্চার থাকেন। ফসল প্রকৃতির খেয়ালের উপর নির্ভরশীল হলেও কাজে ধাপে ধাপে দুর্নীতি-অনিয়মও হয়। অতীতে হাওরের বাঁধের কাজে দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে পাউবো’র শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার পাশাপাশি শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়। বিশেষ করে প্রতি বছর বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের সময় ‘ঘুম হারাম’ হয়ে যায় পাউবো’র। এতে প্রকৌশলীরা ভড়কে যান। তাই এমন প্রতিক‚ল অবস্থার কথা শুনে বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের মওসুমে চাপ নিতে অপারগ প্রকৌশলীরা এখানে আসতে চান না। তাছাড়া বর্তমানে সরকারের বাজেট ঘাটতির কারণে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় এবং নতুন করে প্রকল্প না থাকার কারণেও দুর্যোগপূর্ণ অঞ্চলে বদলি হতে চাচ্ছেন না প্রকৌশলীরা। এদিকে বোরো ফসলরক্ষার মওসুম চলে আসায় বাঁধের কাজের একাধিক মিটিং সামনে ঘোষণার পরও পওর বিভাগ-১ প্রকৌশলীবিহীন থাকায় উদ্বেগ জানিয়েছেন হাওর আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। এতে বাঁধের কাজের প্রাক্কলন, বাস্তবায়ন, পিআইসি অনুমোদন, গ্রহণেও বিলম্ব হবে বলে মনে করছেন তারা। সুনামগঞ্জের কৃষক আন্দোলনের নেতা সাইফুল আলম সদরুল বলেন, পওর বিভাগ-১ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। এখন হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণের আসল সময়। এই সময় কর্মকর্তাদের উপস্থিতি জরুরি। সুনামগঞ্জে জরুরি কাজ সমাধানের জন্য দুই মাসের ব্যবধানে দুইজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তারা বদলি হয়ে চলে গেছেন। শুনেছি তারা তদবির করে দ্রæত বদলি হয়েছেন। সরকারের উচিত এখানে দক্ষ প্রকৌশলী নিয়োগ দেওয়া। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক পাউবো’র সিলেট বিভাগীয় অফিসের এক প্রকৌশলী বলেন, ঝুঁকি, বরাদ্দ না থাকাসহ নানা কারণে এই দুর্গম হাওরে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন প্রকৌশলীরা। সুনামগঞ্জে বদলি আদেশের পরপরই দুজন বদলি হয়ে গেছেন। এখন আরেকজন খোঁজা হচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড
দুই মাসে দুই নির্বাহী প্রকৌশলী, দু’জনই বদলি!
- আপলোড সময় : ২৬-১০-২০২৬ ১২:৪৮:০০ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৬-১০-২০২৬ ১২:৪৮:২৪ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি