বাজারে স্বস্তি ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি
- আপলোড সময় : ২৪-১০-২০২৬ ০৯:৫৯:০৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৪-১০-২০২৬ ০৯:৫৯:০৬ অপরাহ্ন
নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই। চাল, ডাল, মাছ, সবজিসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামে দিশেহারা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নি¤œ আয়ের পরিবারগুলো। আয় না বাড়লেও প্রতিদিন বাড়ছে সংসারের ব্যয়। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের কাছে বাজার করা এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে আরও দুর্বিষহ।
সুনামগঞ্জের বাজারের চিত্রও এর ব্যতিক্রম নয়। মাছ ও সবজির চড়া দাম ক্রেতাদের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। রুই ও কাতলা মাছ কেজিপ্রতি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাঙ্গাস ১৭০ টাকা। ফুলকপি ও শিম ১২০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা এবং কাঁচামরিচ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অধিকাংশ সবজির দামও সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। কিছু পণ্যের দাম কমলেও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতিতে স্বস্তি ফেরেনি।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, বাজারের এই চাপ সামলানোর সক্ষমতা সবার সমান নয়। একজন দিনমজুরের দৈনিক আয় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। তাও প্রতিদিন কাজ মেলে না। এই আয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারের খাবার, বাসাভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও অন্যান্য খরচ মেটানো কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়। বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম শুনে অনেককে পরিমাণ কমাতে হচ্ছে, আবার কাউকে ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। অর্থাৎ মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত শুধু বাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; তা মানুষের পুষ্টি, জীবনযাত্রার মান ও ভবিষ্যৎকেও প্রভাবিত করছে।
সুনামগঞ্জ হাওরাঞ্চলের জেলা। নদী ও হাওরবেষ্টিত এই অঞ্চলের বাজারে দেশীয় মাছের সংকট এবং চাষের মাছের উচ্চমূল্য স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি করে। মাছ বিক্রেতাদের ভাষ্য, নদী ও হাওর থেকে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় আড়তে বেশি দামে মাছ কিনতে হচ্ছে। সবজি বিক্রেতারাও পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কথা বলছেন। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। তবে সরবরাহের ঘাটতি কিংবা পরিবহন ব্যয়ের অজুহাতে কেউ যাতে অযৌক্তিক মুনাফা করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করাও প্রশাসনের দায়িত্ব।
আমরা চাই, বাজার নিয়ন্ত্রণে শুধু আশ্বাস নয়, নিয়মিত ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যের ক্রয়মূল্য, বিক্রয়মূল্য এবং সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, কারসাজি, মজুতদারি কিংবা কৃত্রিম সংকটের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, পরিবহনব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং কৃষক ও উৎপাদক পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যন্ত বিপণনব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ ক্ষেত্রে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে। তবে বাজার মনিটরিং যেন কেবল সাময়িক অভিযানেই সীমাবদ্ধ না থাকে। নিয়মিত তদারকি, স্বচ্ছ মূল্যতালিকা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নি¤œ আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য সরবরাহের ব্যবস্থাও জোরদার করা প্রয়োজন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়