জালাল উদ্দিন নাসিম::
সুনামগঞ্জ শহরের যানজট নিরসন ও সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নে ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে হাসন তোরণ পর্যন্ত চারলেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবি উঠেছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শহরের যানজট কমার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগব্যবস্থায় আসবে ইতিবাচক পরিবর্তন। বদলে যাবে শহরের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের চিত্র। তবে নির্মাণকাজ চলমান থাকায় বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি, ধুলাবালি, কাদাপানি ও যানজটের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কোথাও সড়কের কাজ চলায় যানবাহনের গতি কমে যাচ্ছে, কোথাও আবার দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চলাচলে ভোগান্তি বেশি। এ অবস্থায় দ্রুত ও নিয়মিত কাজ চালিয়ে জনদুর্ভোগ কমানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও পরিবহনচালকেরা। দীর্ঘদিনের জনদাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের শেষ দিকে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে হাসন তোরণ পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার সড়ক চারলেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জনজেবি। ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। সওজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি প্রায় ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ। শুরুতে গাছ অপসারণ, বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থানান্তর, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন সেবা লাইন নিয়ে জটিলতার কারণে কাজের অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি হয়। বর্ষাকালেও নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতে হয়েছে। বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু অংশ পুনরায় মেরামত করতে হওয়ায় কাজের ক্ষেত্রে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, এসব প্রতিবন্ধকতা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে, চারলেন সড়কের নির্মাণকাজ চলমান থাকায় শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে দিনের বেশির ভাগ সময় যানজট লেগে থাকছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে খোঁড়াখুঁড়ি ও ভাঙাচোরা অবস্থার কারণে যানবাহন চলাচলে বিঘœ ঘটছে। ধুলাবালি ও কাদাপানিতে পথচারীদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নির্মাণকাজের কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ছোটখাটো দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। চাকরিজীবী বিপ্লব দাস বলেন, এখানে কাজ শুরু হয়েছে অনেক দিন আগে। কিন্তু কিছুদিন কাজ চলার পর আবার বন্ধ হয়ে যায়। এভাবে কাজ চলতে থাকলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে না। আমরা চাই, সড়কের কাজ নিয়মিত ও দ্রুতগতিতে চলুক এবং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শেষ হোক। হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মাহমুদুল হাসান তোহা বলেন, মাঝেমধ্যে চারলেনের কাজ খুব ধীরগতিতে চলতে দেখা যায়। এই সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকতে হয়। কোথাও কাদাপানি, কোথাও ধুলাবালি। এ ছাড়া ছোটখাটো দুর্ঘটনাও বেড়েছে। বিশেষ করে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অটোরিকশাচালক হাসান বলেন, সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে দুই দিন পরপর অটোরিকশার চাকা নষ্ট হয়, বা¤পারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যে রাস্তা পাঁচ মিনিটে পার হওয়ার কথা, সেখানে আধা ঘণ্টা লেগে যায়। দ্রুত কাজ শেষ করে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হলে আমাদেরও কিছুটা স্বস্তি ফিরবে। রিকশাচালক রকিবুল মিয়া বলেন, নির্মাণকাজের জন্য একটু পরপর রাস্তা খোঁড়া হচ্ছে। কোথাও গর্ত, কোথাও ভাঙা সড়ক। যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে খুব কষ্ট হয়। কাজ দ্রুত শেষ হলে দুর্ঘটনা ও যানজট - দুটিই কমবে। এদিকে, প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সাজেদুর রহমান বলেন, চারলেন প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি প্রায় ৬৮ থেকে ৭০ শতাংশ। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কাজ শেষ করতে পারব। আমাদের প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল মূল সড়কের কাজ। তবে সেটির অগ্রগতিও ইতিমধ্যে অনেক হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বর্ষাকালেও কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে কিছু কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো আবার মেরামত করতে হয়েছে। এছাড়া শহরের ভেতরে বৈদ্যুতিক লাইন, গ্যাসলাইনসহ বিভিন্ন সেবা লাইন এবং গাছ অপসারণের মতো কিছু জটিলতা ছিল। শুরুতে এসব প্রতিবন্ধকতা থাকলেও এখন সেগুলো অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। কিছু কাজ বাকি থাকলেও দ্রুত সেগুলো সমাধান করা যাবে বলে আশা করছি। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। প্রকল্পের কাজ সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে সুনামগঞ্জ শহরের যানজট কমার পাশাপাশি সড়ক যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, যানবাহন চলাচলে গতি বৃদ্ধি এবং শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি হবে বলে জানান এই প্রকৌশলী।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে চারলেন সড়কের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। নির্মাণকাজের সময়সীমা ও মান বজায় রেখে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা গেলে সুনামগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের যানজট কমানোর পাশাপাশি নাগরিকদের যাতায়াত আরও সহজ ও নিরাপদ হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
চারলেন প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্নের দাবি, নির্মাণকাজের অগ্রগতি ৭০ শতাংশ
- আপলোড সময় : ১৪-১০-২০২৬ ১২:২১:৫১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৪-১০-২০২৬ ১২:২৩:০৬ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ