বালু লুটেরাদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিন
- আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৯:৩৯:১৪ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৯:৩৯:১৪ পূর্বাহ্ন
বিশ্বম্ভরপুরে ইজারাবিহীন নদী, খাল ও ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং সড়কপথে পরিবহনের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা উদ্বেগজনক। রাতের আঁধারে অর্ধশতাধিক যানবাহনে বালু পরিবহনের অভিযোগ, প্রতিটি যান থেকে টাকা আদায়ের তথ্য এবং বালু লুটের দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকের হেনস্তার ঘটনা কেবল পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকা-ের ইঙ্গিত দেয় না, বরং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি ও আইনের প্রয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলে। প্রভাবশালী কোনো চক্রের দাপটে জনস্বার্থ এভাবে উপেক্ষিত হতে পারে না।
নদী, খাল ও ছড়া প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এসব জলাধার থেকে অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ, নদীতীরের স্থিতিশীলতা এবং আশপাশের ভূমির ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে কৃষিজমি, বসতবাড়ি ও যোগাযোগব্যবস্থার ওপর। বিশ্বম্ভরপুরের মথুরকান্দি ও কাপনা এলাকায় খাল এবং আশপাশের জমির ভূপ্রকৃতি বদলে যাওয়া, গুচ্ছগ্রামের ঘরবাড়ি ও সড়ক ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ার অভিযোগ তাই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আজ বালু লুটের কারণে যে ক্ষতি হচ্ছে, আগামী দিনে তা স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা ও সরকারি অবকাঠামোর জন্য বড় সংকট হয়ে দেখা দিতে পারে।
আরও উদ্বেগজনক হলো, অবৈধ বালু উত্তোলন ও পরিবহনের বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি এবং সাংবাদিককে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গণমাধ্যমকর্মীর কাজ অনিয়ম তুলে ধরা, আর নাগরিকের অধিকার অন্যায়ের প্রতিবাদ করা। তাদের বাধা দেওয়া বা ভয় দেখানোর মাধ্যমে কোনো অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা হলে তা আইনের শাসনের পরিপন্থী। সাংবাদিককে হেনস্তার অভিযোগটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। কিন্তু সতর্কতা শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; তার প্রতিফলন থাকতে হবে মাঠপর্যায়ের কার্যকর অভিযানে। অপরদিকে, থানায় তথ্য নেই বলে পুলিশের দায়িত্ব শেষ হতে পারে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুবাহী যানবাহনের চলাচল এবং নির্দিষ্ট কয়েকটি সড়ক ব্যবহারের তথ্য সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত তদন্ত জরুরি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে বালু পরিবহনের নামে টাকা আদায়ের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে হবে। এ কর্মকা-ের পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহল বা প্রশাসনের কারও যোগসাজশ রয়েছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
আমরা মনে করি, বিশ্বম্ভরপুরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত নজরদারি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অভিযান, বালুবাহী যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং অভিযোগ জানানোর নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। নদী-খাল রক্ষা করা মানে শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়; মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখা। তাই বালু লুটের বিরুদ্ধে কথার চেয়ে কার্যকর পদক্ষেপই এখন বেশি প্রয়োজন। প্রভাবশালী চক্র যত শক্তিশালীই হোক, জনস্বার্থ ও আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয় - বিশ্বম্ভরপুরে এই সত্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়