দুই দিনব্যাপী মহালয়া উৎসব শুরু
- আপলোড সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৭:২৯:১৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১০-১০-২০২৬ ০৭:২৯:১৯ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
শরতের নীল আকাশে দেবীর আগমনী বার্তা, আর ভক্তদের হৃদয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আবাহন। পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনাকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী মহালয়া উৎসব। মাতৃসংগীত, নৃত্য ও ধর্মীয় নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার আগমন ও মহালয়ার মাহাত্ম্য উদযাপন করছে সনাতনী ঐক্য পরিষদ।
শুক্রবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘরস্থ রামকৃষ্ণ আশ্রম প্রাঙ্গণে এ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে উৎসবের উদ্বোধন করেন সুনামগঞ্জ রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী হৃদয়ানন্দ মহারাজ। পরে দেবীর আগমনী সংগীতে অংশ নেয় শিশু-কিশোররা। ধর্মীয় আবহে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।
সনাতনী ঐক্য পরিষদের সভাপতি সন্তোষ কুমার চন্দের সভাপতিত্বে এবং পরিষদের সাংস্কৃতিক স¤পাদক দেবাশীষ তালুকদার শুভ্রের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর পরিমল কান্তি দে। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি অ্যাড. বিমান কান্তি রায়, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা বাদল চন্দ্র বর্মণ, রামকৃষ্ণ আশ্রম পরিচালনা কমিটির সাধারণ স¤পাদক চন্দন কুমার রায় এবং সনাতনী ঐক্য পরিষদের সাধারণ স¤পাদক মানস কান্তি তালুকদার।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন পরিষদের সহসভাপতি পপি ভৌমিক, নবেন্দু তালুকদার, স্বপন কুমার রায়, যুগ্ম সাধারণ স¤পাদক সমীর কান্তি দে সহ সংগঠনের নেতাকর্মী, ভক্ত ও সুধীজন।
প্রধান অতিথি প্রফেসর পরিমল কান্তি দে বলেন, মহালয়া উৎসব মানুষের মধ্যে জাগরণ ও আনন্দের প্রতীক। দেবী দুর্গার আগমন যেন সবার জীবনে সত্যিকারের আনন্দ বয়ে আনে, সেই প্রত্যাশা করেন তিনি। একই সঙ্গে মহালয়ার তাৎপর্য তুলে ধরে প্রয়াত মা-বাবা ও পূর্বপুরুষদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার আহ্বান জানান।
রামকৃষ্ণ আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী হৃদয়ানন্দ মহারাজ বলেন, মহালয়া পিতৃপক্ষের অবসান ও দেবীপক্ষের সূচনার এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। চ-ীতে বর্ণিত অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভ শক্তির জাগরণের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষের ভেতরেও শুভ ও অশুভ প্রবৃত্তির লড়াই চলে। মহাশক্তির আরাধনার মধ্য দিয়ে শুভ শক্তির জাগরণ ঘটুক-এটাই মহালয়ার শিক্ষা। এ সময় তিনি সবার ওপর দেবীর কৃপা বর্ষিত হওয়ার প্রার্থনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সন্তোষ কুমার চন্দ বলেন, পিতৃপক্ষের সমাপ্তি ও দেবীপক্ষের আগমনের এই মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে সনাতনী ঐক্য পরিষদ ২০২৪ সাল থেকে মহালয়া উৎসব আয়োজন করে আসছে। বাংলাদেশে দুর্গাপূজার আয়োজন ব্যাপক হলেও দেবীর আগমনী উৎসব আলাদাভাবে আয়োজন করা হয় তুলনামূলক কম। এ কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে মহালয়ার তাৎপর্য ছড়িয়ে দিতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে দেবীর আগমনকে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি অশুভ শক্তির বিনাশ ও ভক্তদের কল্যাণ কামনা করা হচ্ছে। দেবী দুর্গার আশীর্বাদে সবার মঙ্গল ও মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হোক - এ প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
দুই দিনব্যাপী এ উৎসবে মাতৃসংগীত, উদ্বোধনী সংগীতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন রয়েছে। উৎসবের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ও আগমনী আবহ ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা আয়োজকদের।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ