স্থায়ী ঠিকানা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কতদিন?
- আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৬ ১১:৪৮:২৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-১০-২০২৬ ১১:৪৮:২৩ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেছে। অথচ এখনো বিশ্ববিদ্যালয়টি নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা পায়নি। ভাড়া করা আটটি পৃথক ভবনে চলছে শ্রেণিকক্ষ, প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের আবাসন ও গেস্ট হাউস। একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এর চেয়ে হতাশাজনক বাস্তবতা আর কী হতে পারে?
২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস হয়। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর ১২৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় শিক্ষা কার্যক্রম। প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছরেও স্থায়ী ক্যা¤পাস নির্মাণের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়া শুধু প্রশাসনিক ধীরগতির উদাহরণ নয়; এটি উচ্চশিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নে আমাদের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল ভবনের নাম নয় - এ কথা যেমন সত্য, তেমনি এটাও সত্য যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা, ব্যবহারিক জ্ঞানচর্চা ও উদ্ভাবনের জন্য প্রয়োজন পরিকল্পিত ও স্থায়ী অবকাঠামো। বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে আধুনিক ল্যাবরেটরি, গবেষণাগার, গ্রন্থাগার, পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আবাসিক সুবিধা, খেলার মাঠ ও শিক্ষার্থীদের মুক্ত জ্ঞানচর্চার পরিবেশ অপরিহার্য। ভাড়া করা বিচ্ছিন্ন ভবনে এসব সুবিধা পূর্ণাঙ্গভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
বর্তমানে চারটি বিভাগে তিনটি ব্যাচের ৪৮০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ১৫ জন। আগামী দিনে শিক্ষার্থী ও বিভাগ বাড়লে বিদ্যমান অবকাঠামোগত সংকট যে আরও তীব্র হবে, তা সহজেই অনুমেয়। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন ও বিক্ষোভের মাধ্যমে স্থায়ী ক্যা¤পাসের দাবি জানিয়েছেন। ল্যাব ও ব্যবহারিক শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা নিয়েও তাদের অসন্তোষ রয়েছে। এসব অভিযোগকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করানোই দায়িত্বের শেষ নয়। বরং এরপরই শুরু হয় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার প্রকৃত কাজ। শিক্ষার্থীদের পাঁচ বছর ধরে অস্থায়ী ব্যবস্থার মধ্যে রেখে তাদের কাছ থেকে বিশ্বমানের শিক্ষা ও গবেষণার প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। এতে শিক্ষার্থীদের সময় ও মেধার ক্ষতি হচ্ছে, একই সঙ্গে পিছিয়ে পড়ছে একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চলের উচ্চশিক্ষার অগ্রযাত্রা।
উপাচার্য বলেছেন, সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাসের ব্যবস্থা করবে। আমরা এই আশ্বাসকে স্বাগত জানাই। তবে এখন শুধু আশ্বাস নয় - প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, সময়সীমা ও দৃশ্যমান অগ্রগতি। জমি, প্রকল্প অনুমোদন, অর্থ বরাদ্দ ও নির্মাণকাজ - প্রতিটি ধাপের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ জনসমক্ষে তুলে ধরা উচিত।
সুনামগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার ফসল এই বিশ্ববিদ্যালয়। তাই আর অস্থায়ী ব্যবস্থার দীর্ঘায়ন নয়। শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং জেলার উচ্চশিক্ষার স্বার্থে দ্রুত স্থায়ী ক্যা¤পাস নির্মাণে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাঁচ বছর অপেক্ষা যথেষ্ট - এবার সুবিপ্রবিকে তার স্থায়ী ঠিকানা দিতেই হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়