বিশেষ প্রতিনিধি ::
একটি বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু কয়েকটি শ্রেণিকক্ষ, অফিস কিংবা ভাড়া করা ভবন নয়; বিশ্ববিদ্যালয় মানে শিক্ষা, গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও স্বপ্ন পূরণের একটি পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ। অথচ প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই স্থায়ী ঠিকানাই পায়নি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সুবিপ্রবি)। বর্তমানে শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভাড়া করা আটটি পৃথক ভবনে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, প্রশাসনিক কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের আবাসন ও গেস্ট হাউসসহ নানা কার্যক্রম। স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা ও গবেষণার স্বাভাবিক পরিবেশ; বাড়ছে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিও। ২০২০ সালের ১৮ নভেম্বর জাতীয় সংসদে ‘সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল- ২০২০’ পাস হয়। এর চার বছর পর ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরে অস্থায়ী ক্যা¤পাসে ১২৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো নির্মাণ হয়নি স্থায়ী ক্যা¤পাস। বর্তমানে শান্তিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভাড়া করা ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ক্লাসরুম, প্রশাসনিক অফিস, শিক্ষার্থীদের হল ও গেস্ট হাউসসহ মোট আটটি পৃথক স্থানে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভাড়া করা ভবনগুলোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। রয়েছে শ্রেণিকক্ষের সংকট। আধুনিক ল্যাব স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি রাখার পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। ফলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক অংশ ব্যাহত হচ্ছে। সুবিপ্রবি’র পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিনহাজুল আবেদিন মিনাল বলেন, স্থায়ী ক্যা¤পাস না থাকায় আমাদের নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে ল্যাব ও ব্যবহারিক শিক্ষার ক্ষেত্রে আমরা প্রত্যাশিত সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছি না। বর্তমানে তিনটি ভাড়া করা ভবনে আমাদের ক্লাস হচ্ছে। অথচ এখন পর্যন্ত স্থায়ী ক্যা¤পাস নির্মাণের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি বা আশার খবর পাইনি। আমরা আশা করি, দ্রুত স্থায়ী ক্যা¤পাস নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে। গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী গোলাম মাওলা তামিম বলেন, আমরা একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। কিন্তু এখনো আমাদের নিজস্ব ক্যা¤পাস নেই। ভাড়া করা ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে না। আমরা দ্রুত স্থায়ী ক্যা¤পাস চাই। স্থায়ী ক্যা¤পাস নির্মাণের দাবিতে এরই মধ্যে একাধিকবার ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, দ্রুত ক্যা¤পাস নির্মাণ করা না হলে শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টি পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টির তিনটি ব্যাচের চারটি বিভাগে মোট ৪৮০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানে রয়েছেন মাত্র ১৫ জন শিক্ষক। শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অবকাঠামোগত সংকটও আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত স্থায়ী ক্যা¤পাস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠার সুযোগ পাবে। স্থায়ী ক্যা¤পাস নির্মাণের অগ্রগতি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাসের ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, সরকার দ্রুত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যা¤পাসের ব্যবস্থা করে দেবে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
৫ বছরেও স্থায়ী ঠিকানা পায়নি সুবিপ্রবি, ভাড়া ভবনে চলছে কার্যক্রম
- আপলোড সময় : ০৮-১০-২০২৬ ১০:৫৩:১৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৮-১০-২০২৬ ১০:৫৩:৩০ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি