চেলা ও মরা চেলা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন : পাউবো’র চিঠি, টাস্কফোর্সের অভিযানে জরিমানা
- আপলোড সময় : ০৬-১০-২০২৬ ১২:৫৮:৪১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৬-১০-২০২৬ ১২:৫৮:৪১ পূর্বাহ্ন
দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি ::
ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার চেলা এবং মরা চেলা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। নদী রক্ষা ও পরিবেশ বিপর্যয় এড়াতে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারকে লিখিত চিঠি দিয়ে আইনি ব্যবস্থার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি। এর পরই নদী দুটি ও সংশ্লিষ্ট বালুমহালে টাস্কফোর্স অভিযান পরিচালনা করে ৩টি মামলায় মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বিভাগ-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে চেলা ও মরা চেলা নদীর কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিস্তারিত তথ্য সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপারকে (এসপি) জানানো হয়। চিঠিতে ছাতক উপজেলার চৈলতার ঢালা ও সোনালী চেলা এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার সোনাপুর, মরাগাঙ্গ ও কলাবাগান এলাকার কথা উল্লেখ করা হয়। পাউবো জানায়, এসব এলাকায় কতিপয় অসাধু চক্র ড্রেজার ও মেশিনের সাহায্যে নিয়মিত বালু উত্তোলন করছে।
অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, অনিয়ন্ত্রিত খননের ফলে নদীর তলদেশের স্বাভাবিক গঠন ও নদীতীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে তীব্র ভাঙন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি সরকারি স¤পদ, নদীর পরিবেশ ও নৌ-চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘিœত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাউবোর পক্ষ থেকে নদী রক্ষায় চিহ্নিত স্থানে ড্রেজার অপসারণ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর তাগিদ দেওয়া হয়।
মধ্যরাতের টাস্কফোর্স অভিযান :
পাউবোর এ পদক্ষেপের পর গত ১ অক্টোবর মধ্যরাতে দোয়ারাবাজার উপজেলার চেলা ও মরা চেলা নদীর বালুমহালে যৌথ টাস্কফোর্স অভিযান চালানো হয়। দোয়ারাবাজারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাশেদুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ, সোনালী চেলা বিজিবি বিওপি, আনসার-ভিডিপি এবং ছাতক নৌপুলিশের যৌথ দল অংশ নেয়।
অভিযানকালে ইজারার শর্ত ও অনুমোদিত সীমানা লংঘন করে বালু তোলার অপরাধে তিনটি মামলা করা হয় এবং ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে ও নদী সুরক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এদিকে স্থানীয় সূত্র ও এলাকাটি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সোনাপুর এলাকায় নির্ধারিত বালুমহালের বাইরে প্রায় ৪০ একর জায়গা থেকে দীর্ঘদিন ধরে বালু তোলা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪টি গ্রুপে ভাগ হয়ে দুই শতাধিক ব্যক্তি এই বেআইনি প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত। এছাড়া বালু উত্তোলন ও পরিবহন নির্বিঘœ রাখতে নির্দিষ্ট কয়েকটি পয়েন্টে অবৈধ অর্থ আদায়েরও অভিযোগ করছেন নদীপাড়ের মানুষ।
ইজারার নির্ধারিত সীমানার বাইরে অতিরিক্ত জমি থেকে বালু তোলার তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পাউবোর চিঠি এবং প্রশাসনের জরিমানা নদী সুরক্ষায় আশার আলো দেখালেও, চিহ্নিত পয়েন্টগুলোতে স্থায়ী নজরদারি ও সোনাপুরের অভিযোগে দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দোয়ারাবাজার প্রতিনিধি