যাদুকাটায় খাস কালেকশনের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করুন
- আপলোড সময় : ০২-১০-২০২৬ ০৯:১৭:০৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০২-১০-২০২৬ ০৯:১৭:০৭ পূর্বাহ্ন
নদী বাংলাদেশের প্রাণ, আর হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। নদীপথে পণ্য পরিবহন শুধু ব্যবসা-বাণিজ্যের চাকা সচল রাখে না, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ সেই নদীপথেই যদি অবৈধ অর্থ আদায়, জবরদস্তি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজত্ব চলে, তবে তা শুধু নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের জন্য নয়, সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও উদ্বেগজনক।
তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুর সীমান্তবর্তী যাদুকাটা নদীতে ‘খাস কালেকশনের’ নামে নৌযান থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজির অভিযোগ সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে টেকেরঘাট থেকে কয়লা নিয়ে সুনামগঞ্জের দিকে যাত্রা করা একটি বাল্কহেড আটকে ৯০ হাজার টাকা দাবি এবং টাকা না দেওয়ায় রাতভর আটকে রাখার ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। নৌযানটির সুকানির দাবি, যাত্রার আগেই বিআইডব্লিউটিএসহ নির্ধারিত খাতে টাকা পরিশোধ করে রশিদ নেওয়া হয়েছিল। এরপরও নদীর মধ্যে নৌযান আটকে নতুন করে বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করার বৈধতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে।
খাস কালেকশন যদি সরকারি অনুমোদিত কোনো রাজস্ব আদায়ের ব্যবস্থা হয়ে থাকে, তাহলে তার নির্ধারিত হার, আদায়ের স্থান, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও অর্থ জমার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া জরুরি। সরকারি রাজস্ব আদায়ের নামে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থে অর্থ আদায় করলে তা সরাসরি আইনের শাসন ও প্রশাসনিক জবাবদিহিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি অভিযোগ উপেক্ষা করে পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক ভাবারও সুযোগ নেই।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, নৌযান আটকে রাখা, শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখানো এবং নির্ধারিত অর্থ না দিলে নির্যাতনের অভিযোগ। নদীপথে এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে পণ্য পরিবহনের ব্যয় বাড়বে, ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়বে সাধারণ ভোক্তার ওপর। একই সঙ্গে নদীপথের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও তৈরি হবে অনিশ্চয়তা।
এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। যাদুকাটা ও রক্তি নদীর সংযোগস্থলসহ সব পয়েন্টে খাস কালেকশনের বৈধতা, ইজারার শর্ত, আদায়ের হার এবং অর্থ সংগ্রহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে হবে। অনিয়ম বা চাঁদাবাজির প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিতে হবে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা। পাশাপাশি নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোর জন্য বৈধ টোল ও রাজস্ব আদায়ের তথ্য প্রকাশ এবং অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়