সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়নের দাবি
- আপলোড সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ০৯:৫৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩০-০৯-২০২৬ ০৯:৫৫:৩৮ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মোহনগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ এবং সম্প্রসারণের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে ‘সিলেট-সুনামগঞ্জ-মোহনগঞ্জ রেলপথ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ’। ২৯ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বেলা ৩ টায় সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয়ে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক তারেক আল মঈন, প্রধান পৃষ্ঠপোষক আশিকুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমেদ, উপদেষ্টা বিজন সেন রায় ও বিনোদ রঞ্জন তালুকদার। পরে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ভারতের মেঘালয় রাজ্য সংলগ্ন নিচু জলাভূমি ও হাওর পরিবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ২৭ লক্ষ মানুষের বসবাস। জেলার অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ব্যবস্থা মূলত সড়ক ও নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। সুনামগঞ্জ থেকে মোহনগঞ্জের দূরত্ব ১০৮ কিলোমিটার, যা নদীপথে অতিক্রম করতে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। অন্যদিকে সিলেট থেকে মোহনগঞ্জের দূরত্ব ১৪৯ কিলোমিটার, যা গাড়ি ও নৌপথে পাড়ি দিতে প্রায় সাড় ১২ ঘণ্টা সময় ব্যয় হয়। বর্ষা ও হেমন্তকালে এ অঞ্চলের দুর্গম উপজেলাগুলো থেকে রাজধানীতে পৌঁছাতে ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যায়।
স্মারকলিপিতে আরও জানানো হয়, ১৯৫৬ সালে নির্মিত প্রায় ৩৫ কিলোমিটারের সিলেট ছাতক রেলপথের আহমদাবাদ রেল স্টেশনটি ২০১০ সাল থেকে বন্ধ থাকায় সিলেটের সাথে ছাতকের রেল যোগাযোগ বর্তমানে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন।
সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানান, টাঙ্গুয়ার হাওড়, টেকেরঘাটের চুনাপাথর খনি, নিলাদ্রী, শহীদ সিরাজ লেক, শিমুল বাগান ও বারেক টিলাসহ সুনামগঞ্জের বিশ্বখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক আসেন। তবে অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে পর্যটক ও স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তারা জোর দাবি জানান, প্রস্তাবিত সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মোহনগঞ্জ রেলপথটি বাস্তবায়িত হলে হাওরাঞ্চলের বিপুল পরিমাণ ধান, মাছ ও কাঁচামাল সাশ্রয়ী মূল্যে সারা দেশে পরিবহন করা সহজ হবে। এতে পর্যটন শিল্পের অভূতপূর্ব বিকাশ ঘটবে, সরকারের বিপুল রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে এবং অনুন্নত এলাকার অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জিত হবে। হাওরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে এই প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ