সামছুল ইসলাম সরদার::
অনেক আন্দোলনের পর ১৯৯৯ সালে স্বপ্নের পৌরসভা পেয়েছিলেন দিরাইবাসী। ৬ দশমিক ৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে গঠিত সেই পৌরসভার বয়স এখন ২৭ বছর। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়ে নাগরিক জীবনে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আসেনি। অধিকাংশ সড়কের বেহাল দশা, অপর্যাপ্ত ও অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, ফুটপাত দখল, যানজট এবং সড়কবাতির সংকটে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পৌরবাসী। উন্নয়ন ও আধুনিক নাগরিক সুবিধার প্রত্যাশায় পৌরসভা পেলেও সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে দিরাই পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। তৎকালীন পররাষ্ট্র মন্ত্রী আলহাজ্ব আবদুস সামাদ আজাদ ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী আলহাজ্ব জিল্লুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে পৌরসভার উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠার পর ২৭ বছর পেরিয়ে গেলেও পরিকল্পিত নগরায়ণ ও টেকসই নাগরিক অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ পৌরবাসীর। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শহরের অধিকাংশ সড়কের অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। শহরের নাছির উদ্দীন রোড, কলেজ রোড (আংশিক), মজলিশপুর, হারানপুর ও দোওজ আবাসিক এলাকার সড়কে বৃষ্টির পানি জমে জনদুর্ভোগ বাড়ে। রাধানগর-শুকুরনগর সড়ক, দোওজ এবং উপজেলা পরিষদ এলাকা থেকে উলুকান্দি পর্যন্ত বিভিন্ন সড়কেও চলাচলে ঝুঁকি রয়েছে। পৌরবাসীর অভিযোগ, অনেক গ্রামের সড়কের অবস্থাও এখন দিরাই পৌরসভার সড়কের চেয়ে ভালো। কোথাও খানাখন্দ, কোথাও ভাঙাচোরা সড়ক, আবার কোথাও পর্যাপ্ত ড্রেন না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়ক ও আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুধু সড়ক নয়, শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থাও দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নের মুখে। পরিকল্পিত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত সরতে পারে না। এতে বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বর্ষাকালে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। অন্যদিকে পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর শহরের বিভিন্ন সড়ক অন্ধকারে ডুবে যায়। স্থানীয়দের ভাষায়, সন্ধ্যার পর অনেক সড়কে ‘ভূতুড়ে’ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এতে পথচারীদের চলাচলে যেমন সমস্যা হয়, তেমনি বাড়ে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। দিরাই বাজার ব্রিজ থেকে কলেজ রোড হয়ে বাসস্টেশন পর্যন্ত শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দিনের বিভিন্ন সময়ে যানজট লেগেই থাকে। সড়কের ওপর ও ফুটপাত দখল করে ভাসমান দোকান বসানোয় যান ও পথচারী চলাচলে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এতে ব্যস্ততম এই সড়কে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পৌরবাসীর আরও অভিযোগ, নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করলেও সেই তুলনায় নাগরিক সেবা মিলছে না। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক নেতারা দিরাইয়ের উন্নয়ন ও আধুনিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে প্রত্যাশিত পরিবর্তন দেখা যায়নি। ফলে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা জমেছে স্থানীয়দের মধ্যে। দিরাই পৌরবাসী বলছেন, শুধু বিচ্ছিন্নভাবে সড়ক মেরামত নয়, পুরো শহরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন। পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, টেকসই সড়ক, সড়কবাতি, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, যানজট নিরসন এবং আধুনিক নগর ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ বিষয়ে দিরাই পৌর প্রশাসক সঞ্জীব সরকার বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়ে পৌরসভার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে নাছির উদ্দীন রোড মেরামত করা হয়েছে। দিরাই বাজার ড্রেন, কুসুমবাগ আবাসিক এলাকার ড্রেনের কাজসহ সড়ক মেরামত ও ড্রেন নির্মাণের কাজ সমাপ্তির পথে। অচিরেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মেরামতসহ যাবতীয় উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
দিরাই পৌরসভা প্রতিষ্ঠার ২৭ বছর, নাগরিক সুবিধা সেই তিমিরে
- আপলোড সময় : ২৪-০৯-২০২৬ ০৯:১৯:৩৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৪-০৯-২০২৬ ০৯:২০:২৫ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

দিরাই প্রতিনিধি