হাওরাঞ্চল বাঁচাতে নদী-খাল দ্রুত খনন করুন
- আপলোড সময় : ২৪-০৯-২০২৬ ০৯:০০:২৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৪-০৯-২০২৬ ০৯:০০:২৭ পূর্বাহ্ন
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের জীবন, কৃষি ও অর্থনীতি নদী-খালনির্ভর। অথচ দীর্ঘদিনের পলি জমা, দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় জেলার অসংখ্য নদী-খাল আজ নাব্যতা হারিয়েছে। কোথাও নদীর বুকে জেগেছে চর, কোথাও খালের অস্তিত্বই সংকুচিত হয়ে এসেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষি, মৎস্য, নৌযাতায়াত, পানি নিষ্কাশন এবং হাওরের পরিবেশ-প্রতিবেশে। এই বাস্তবতায় জেলার ১১ উপজেলার ৫১টি নদী ও খালের প্রায় ১৯৮ কিলোমিটার খননের পরিকল্পনা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
প্রস্তাবিত প্রকল্পে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। সংশ্লিষ্টদের আশা, ২০২৭-২০২৮ অর্থবছর থেকে খননকাজ শুরু হবে। খনন করা গেলে বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশন, বন্যার চাপ কমানো, বোরো ফসল রক্ষা, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, নদী-খালের প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং মাছের আবাসস্থল পুনরুদ্ধারে সুফল মিলতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠা হাওরাঞ্চলের জন্য এমন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তবে প্রশ্ন হচ্ছে- অতীতের মতো আবারও কি ‘খননের নামে’ বিপুল অর্থ ব্যয় হবে, নাকি বাস্তবে ফিরবে নদী-খালের প্রাণ? এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সুনামগঞ্জে নদী ও খাল খননের নামে অনিয়ম, নি¤œমানের কাজ, মাটি-বালু ব্যবস্থাপনায় অসংগতি এবং বরাদ্দ অপচয়ের অভিযোগ নতুন নয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক খাল আবার ভরাট হয়ে যাওয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। ফলে শুধু খননের সংখ্যা কিংবা প্রকল্পের ব্যয় দিয়ে সাফল্য মাপার সুযোগ নেই; খননের স্থায়িত্ব ও বাস্তব সুফলই হতে হবে প্রধান বিবেচনা।
আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ- প্রকৃতির স্বাভাবিক গতিপথ বুঝে খনন করতে হবে। হাওরের নদী-খালকে শহুরে ড্রেনের মতো কেটে সোজা করে ফেললেই কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া যাবে না। কোথায় কত গভীরতা প্রয়োজন, পানির স্বাভাবিক প্রবাহ কোন দিকে, বর্ষা ও শুষ্ক মৌসুমে নদীর আচরণ কেমন - এসব বিষয় বৈজ্ঞানিকভাবে বিবেচনায় নিতে হবে। স্থানীয় কৃষক, জেলে, নৌযানচালক ও হাওরবাসীর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাকেও পরিকল্পনায় গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ড, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, কৃষি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর খননকাজে সমন্বয় জরুরি। একই নদী বা খাল একাধিক প্রকল্পের আওতায় পড়লে অর্থের অপচয় যেমন হবে, তেমনি প্রকল্পের ফলও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
প্রস্তাবিত ৩০০ কোটি টাকা তাই কেবল একটি বরাদ্দ নয় - এটি হাওরের ভবিষ্যতের সঙ্গে স¤পর্কিত বিনিয়োগ। প্রতিটি খননকাজের আগে-পরে জরিপ, ডিজিটাল পরিমাপ, উন্মুক্ত তথ্য প্রকাশ, কাজের মান যাচাই এবং নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজন হলে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে সামাজিক তদারকির ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
সুনামগঞ্জের নদী-খাল বাঁচলে হাওর বাঁচবে, কৃষি ও মৎস্যস¤পদ বাঁচবে, মানুষের জীবন-জীবিকাও সুরক্ষিত হবে। তাই খনন চাই - কিন্তু লোকদেখানো খনন নয়; চাই বিজ্ঞানসম্মত, স্বচ্ছ, টেকসই ও জবাবদিহিমূলক খনন। অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি নয়, এবার নদী-খালের প্রাণ ফিরিয়ে দেওয়াই হোক ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়