সোনালী চেলা নদীতে ড্রেজারের তান্ডব বন্ধ করুন
- আপলোড সময় : ২২-০৯-২০২৬ ০৯:০৮:৫৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২২-০৯-২০২৬ ০৯:০৮:৫৬ অপরাহ্ন
দোয়ারাবাজার উপজেলার সীমান্তবর্তী সোনালী চেলা নদীতে ড্রেজারের তৎপরতা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিছক বালু উত্তোলনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নদী, পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও নদীতীরবর্তী মানুষের নিরাপত্তা। প্রশাসনের একাধিক অভিযান, মোবাইল কোর্ট ও স্থানীয়দের প্রতিবাদের পরও যদি রাতের আঁধারে ড্রেজার চলে, তাহলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক - আইনের প্রয়োগ কোথায় এবং কেন তা কার্যকরভাবে থামানো যাচ্ছে না?
১৮ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত নদীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজারের কার্যক্রম দেখার যে তথ্য উঠে এসেছে, তা উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের দাবি, নদীর বিভিন্ন অংশে বিপুলসংখ্যক ড্রেজার সক্রিয় ছিল। প্রতিটি ড্রেজারের বৈধতা বা ইজারা-সীমা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি - এ কথাটিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগের পাশাপাশি বৈধ ইজারা ও অনুমোদিত উত্তোলন এলাকার সুনির্দিষ্ট সীমা নিয়েও যদি অস্পষ্টতা থাকে, তাহলে সেই সুযোগে অনিয়মের বিস্তার ঘটতে পারে।
আরও উদ্বেগের বিষয়, নদী রক্ষার দাবিতে যারা প্রতিবাদ করেছেন, তাদের কয়েকজন পরিবেশ অধিদপ্তরের মামলায় আসামি হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে গিয়ে সাক্ষীর মাধ্যমে মামলা করা হয়েছে এবং তদন্তে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে মামলার বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমেই নিরপেক্ষভাবে নি®পত্তি হওয়া জরুরি। প্রতিবাদকারী হলেই কেউ অপরাধী নন, আবার প্রতিবাদকারী হলেই কেউ আইনের ঊর্ধ্বেও নন - প্রমাণের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নদী রক্ষা। ড্রেজারের কারণে নদীর তীর, বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও জীবিকার ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে কারিগরি সমীক্ষা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইজারা এলাকার সীমানা মাঠপর্যায়ে চিহ্নিত, বালুর উৎস যাচাই এবং ড্রেজারের বৈধ কাগজপত্র নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।
প্রশাসন অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে। এখন প্রয়োজন কথার সঙ্গে কাজের দৃশ্যমান মিল। রাতের আঁধারে ড্রেজার চলবে আর দিনে অভিযান হবে - এভাবে নদী রক্ষা সম্ভব নয়। অবৈধ উত্তোলনকারী যে-ই হোক, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে; একই সঙ্গে বৈধ ইজারার আড়ালে কোনো অনিয়ম হচ্ছে কি না, সেটিও কঠোরভাবে নজরদারিতে আনতে হবে।
সোনালী চেলা কোনো ব্যক্তির বালু ব্যবসার উৎস নয়; এটি একটি প্রাকৃতিক নদী ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অংশ। নদীকে রক্ষা করতে হলে অবৈধ ড্রেজারের তান্ডব বন্ধের পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতেই হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদকীয়