পরিবহন ও কৃষি ব্যয় বৃদ্ধির শঙ্কা, বিপাকে নিম্ন আয়ের মানুষ
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় জনসাধারণের ক্ষোভ
- আপলোড সময় : ২২-০৯-২০২৬ ০৯:৪৮:১৯ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২২-০৯-২০২৬ ০৯:৪৮:১৯ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
দেশের বাজারে এক লাফে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। হঠাৎ এ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে হাওরজেলা সুনামগঞ্জেও। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোক্তা, পরিবহন শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও মোটরসাইকেলচালকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, জ্বালানি তেলের বাড়তি দাম শেষ পর্যন্ত পরিবহন ব্যয় ও নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ তৈরি করবে। পাশাপাশি আমন মৌসুমে কৃষি যন্ত্রপাতিতে জ্বালানি ব্যবহারের খরচও বাড়বে।
গত রবিবার জ্বালানি ও খনিজ স¤পদ মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। এতে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১১৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা থেকে ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা থেকে ১৬৫ টাকা করা হয়েছে।
দাম বৃদ্ধির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সুনামগঞ্জ শহরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে আসা মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলচালক, পণ্য পরিবহনকর্মী, পরিবহননির্ভর বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী এবং কৃষকেরা বাড়তি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
জেলায় বিভিন্ন উপজেলায় পণ্য সরবরাহের কাজে মোটরসাইকেলে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রয় প্রতিনিধিদের। তাঁদের একজন রাকিব বলেন, আমি জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে পণ্য ডেলিভারি দেই। আমাকে প্রতিদিন গড়ে ১০০-১২০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালাতে হয়। হঠাৎ করে লিটার প্রতি পেট্রোল ২০ টাকা বাড়ায় সমস্যায় পড়েছি। কোম্পানি আমাদের যে লাইন খরচ দেয় তা নির্দিষ্ট। সরকার তেলের দাম বাড়িয়েছে কিন্তু কোম্পানিতো আমাদের বেতন বাড়াবে না।
ট্রাক চালক আলমগীর হোসেন বলেন, পাম্পে এসে শুনি ডিজেলের দাম বেড়েছে। এভাবে হলে তো পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে। গাড়ি চালিয়ে পড়তায় না পড়লে গাড়ি চালানোই ছেড়ে দিতে হবে।
আওলাদ হোসাইন নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, তেলের দাম বাড়ায় আমাদের ব্যবসায় প্রভাব পড়েছে। কয়েক মাসের ব্যবধানে পর পর দাম বাড়ানোটা সুখকর নয়। তেলের কারণে সবকিছুর দাম বেড়ে যাবে। মানুষের নাভিশ্বাস বাড়ছে। আমরা চাই সরকার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সহনশীল পর্যায়ে তেলের দাম যেন রাখে।
এদিকে, সুনামগঞ্জের কৃষকদের মধ্যেও বাড়তি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আমন মৌসুমে সেচ, জমি প্রস্তুত, ফসল কাটা ও পরিবহনে বিভিন্ন কৃষিযন্ত্রে জ্বালানি ব্যবহার করতে হয়। ফলে ডিজেল ও অন্যান্য জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাধারণ মানুষের ভাষ্য, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব প্রথমে পরিবহন খাতে পড়লেও পর্যায়ক্রমে এর প্রভাব পড়তে পারে কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যপণ্যের বাজারে। আয় না বাড়লেও ব্যয় বাড়ায় সীমিত ও নির্ধারিত আয়ের মানুষের ওপর চাপ আরও বাড়বে। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত ব্যয়ের বোঝা না চাপিয়ে জ্বালানি খাতে অপচয় ও অনিয়ম কমানোর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ