জালাল উদ্দিন নাসিম ::
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের টানে প্রতি বছর সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সীমান্তবর্তী পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ছুটে আসেন হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক। টাঙ্গুয়ার হাওর, এশিয়ার বৃহত্তম শিমুল বাগান, বারেকটিলা ও নীলাদ্রি লেক ঘিরে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা তৈরি হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা সেই সম্ভাবনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বম্ভরপুরের কারেন্টের বাজার থেকে বিন্নাকুলিয়া, শিমুল বাগান, টেকেরঘাট-নীলাদ্রি হয়ে মধ্যনগর পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের অপেক্ষায় রয়েছে। কোথাও পিচ উঠে গেছে, কোথাও গভীর খানাখন্দ, আবার কোথাও কাদা-পানিতে সড়ক ও আশপাশের জমির পার্থক্য বোঝার উপায় নেই। বর্ষায় এসব সড়ক হয়ে ওঠে ঝুঁকিপূর্ণ, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলায় নাকাল হতে হয় যাত্রীদের। অথচ এই সড়ক দিয়েই যেতে হয় জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র নীলাদ্রি লেক, টেকেরঘাট, বারেকটিলা ও শিমুল বাগানে। নীলাদ্রি লেক টেকেরঘাটের পরিত্যক্ত চুনাপাথর খনি এলাকায় গড়ে ওঠা পর্যটনকেন্দ্র; বর্তমানে এটি পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিত। টাঙ্গুয়ার হাওরকেন্দ্রিক পর্যটনের সঙ্গেও এসব স্পটের সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে। ফলে পর্যটন মৌসুমে যানবাহনের চাপ বাড়লেও সড়ক অবকাঠামো সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন সড়কের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত। কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে থাকছে। মোটরসাইকেল, চাঁদের গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন এসব গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। এতে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও জরুরি রোগীদেরও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকারি পর্যায়েও সীমান্ত এলাকার সড়কগুলোর বেহাল দশা নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তাহিরপুর-বাদাঘাট ও টেকেরঘাট-নীলাদ্রি সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলোর দ্রুত সংস্কারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পর্যটক আকাশ আহমেদ বলেন, টেকেরঘাট ও নীলাদ্রি লেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অসাধারণ। কিন্তু সেখানে যাওয়ার রাস্তার অবস্থা পর্যটকদের হতাশ করে। সড়ক যোগাযোগ ভালো হলে পর্যটক বাড়বে, একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা ও সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। তাই দ্রুত সড়ক উন্নয়ন করা প্রয়োজন। মোটরসাইকেলচালক বাসির মিয়া বলেন, পর্যটকদের নিয়ে চলাচলের সময় গাড়ি এক পাশ থেকে আরেক পাশে পড়ে যায়। গর্ত ও কাদার কারণে স্বাভাবিকভাবে গাড়ি চালানো যায় না। পর্যটকরাও রাস্তাঘাটের দুরবস্থা নিয়ে তাঁদের কাছে অভিযোগ করেন। চাঁদের গাড়িচালকরা জানান, ভাঙা ও কাদাযুক্ত রাস্তায় গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গাড়ি উল্টে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। ফলে পর্যটকদেরও অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, নীলাদ্রি লেক, টাঙ্গুয়ার হাওর ও শিমুল বাগান এলাকার ঐতিহ্য। পর্যটকদের কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়ছে। কিন্তু সড়কের দুরবস্থার কারণে পর্যটক ও স্থানীয়রা সমানভাবে ভোগান্তিতে পড়ছেন। দ্রুত রাস্তা সংস্কার হলে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকা- আরও বাড়বে। এদিকে সড়ক উন্নয়নে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা জানিয়েছে এলজিইডি। সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, পর্যটন ও হাওর এলাকার মানুষের যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি বড় প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এর আওতায় কারেন্টের বাজার থেকে বিন্নাকুলিয়া, শিমুল বাগান ও টেকেরঘাট-নীলাদ্রি হয়ে মধ্যনগর পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের প্রক্রিয়া চলছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে পুরো কাজ শেষ করার আশা রয়েছে তার। এর আগেও এলজিইডির পক্ষ থেকে শিমুল বাগান, বারেকটিলা, নীলাদ্রি লেক ও টেকেরঘাট সড়কের সংস্কারকাজ এবং তাহিরপুর-টেকেরঘাট সড়ককে একাধিক প্যাকেজে উন্নয়নের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছিল। স্থানীয়দের প্রশ্ন, পর্যটনের সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতে বড় প্রকল্প গ্রহণের পাশাপাশি বর্তমানের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত চলাচল উপযোগী করা হবে কবে? তাদের দাবি, দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার অপেক্ষায় না রেখে জরুরি ভিত্তিতে খানাখন্দ ও কাদাযুক্ত অংশ সংস্কার করতে হবে। টেকসই সড়ক যোগাযোগ নিশ্চিত করা গেলে পর্যটকদের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি হাওরাঞ্চলের পর্যটন শিল্প, স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলবে - এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
৫০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের অপেক্ষায়
তাহিরপুরে সড়কের বেহাল দশা,দুর্ভোগে পর্যটক-স্থানীয়রা
- আপলোড সময় : ১৮-০৯-২০২৬ ০৮:৪১:১৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৮-০৯-২০২৬ ০৮:৪২:৫৩ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ