ভেঙে দেওয়া হলো একজনের পা, চুন দিয়ে তিন জনের চোখ নষ্টের অভিযোগ
চোর অপবাদে ৩ যুবককে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন
- আপলোড সময় : ১১-০৯-২০২৬ ০৩:৫৮:১৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-০৯-২০২৬ ০৩:৫৮:১৩ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
দোয়ারাবাজারে গরু চুরির অভিযোগ তুলে তিন যুবককে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় একজনের পা ভেঙে দেওয়া এবং তিনজনের চোখে চুন ঢেলে দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
বৃহ¯পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে দুটি গরুসহ একজনকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দুজনকে বাড়ি থেকে ধরে আনা হয়। পরে সকালে বাংলাবাজারের কাছে পালইছড়া জান্নাতুল জান্নাত জামে মসজিদের সামনে তাদের ওপর মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ।
নির্যাতনের শিকার তিনজন হলেন দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বড়ইউড়ি গ্রামের হাসান আলীর ছেলে আবু বক্কর (৩৫), একই ইউনিয়নের পূর্ব গিলাতলী গ্রামের মৃত মফিজ আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন (৩০) এবং ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জোরাখানি গ্রামের মৃত শেরগুল মিয়ার ছেলে সোনাই মিয়া (২৫)।
তিনজনকে মাটিতে ফেলে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তাদের শরীর অনাবৃত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের নাক, মুখ ও চোখে চুন লাগানো এবং একজনের পা রক্তাক্ত অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদেরও ঘটনাস্থলের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাতে দোয়ারাবাজারের ভক্তারপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনের দুটি গরু চুরির অভিযোগ ওঠে ছাতকের সোনাই মিয়ার বিরুদ্ধে। বৃহ¯পতিবার ভোরে পালইছড়া গ্রামের লোকজন দুটি গরুসহ তাকে আটক করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবু বক্কর ও নিজাম উদ্দিনকে আটক করা হয়। সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে সালিশে বসেন।
সালিশে বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হানিফ আলী, বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলম, সামাদ মিয়া, রতন মিয়া ও জাকির হোসেনসহ স্থানীয় কয়েকশ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তিনজনের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন শুরু করে বলে অভিযোগ। এ সময় কুড়াল দিয়ে আঘাত করে আবু বক্করের ডান পা ভেঙে দেওয়া হয়। পরে তিনজনের চোখে চুন ঢেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে গরু দুটি জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি সদস্য হানিফ আলী মুঠোফোনে বলেন, আমি এখন থানায় আছি, পরে ফোন দিন। এ কথা বলেই তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বিএনপি নেতা মোর্শেদ আলম বলেন, চোরের উৎপাতে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। গরু চুরি হয়, মসজিদের মাইকের ব্যাটারি ও আইপিএসও চুরি হয়। আজকে একজনকে গরুসহ ধরে বাকি দুজনকে আটক করা হয়। চোরদের পুলিশে দিলে জামিনে বের হয়ে যায়। তাই সালিশ বোর্ডের সিদ্ধান্ত হয়েছে চোর ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে, গণধোলাইয়ে মারা গেলেও সালিশ বোর্ড তা দেখবে।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, স্থানীয়দের হাত থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ