সুনামগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তার চাল বিতরণ বসুন্ধরা মেডিকেল সিটিতে শেয়ার মেলা, থাকছে সহজ কিস্তি ও বিশেষ ছাড় বিদ্যুৎ খাতেরসংকট গভীর হওয়ার কারণ খুঁজছেন বিশেষজ্ঞরা নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি! দিরাইয়ে একাধিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম পৌর প্রশাসকের সাথে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ ভবন নির্মাণকাজ অনিয়মের সন্ধান পেয়েছে তদন্ত কমিটি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে রাজপথে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা হচ্ছে : রিজভী লাইসেন্সের দাবিতে অটোরিকশা মালিক-শ্রমিকদের বিক্ষোভ শান্তিগঞ্জে দিনমজুরের বসতভিটার বারান্দা ভেঙে জোরপূর্বক রাস্তা তৈরি পৌর জামায়াতের উদ্যোগে সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল দিরাইয়ে মৎস্যজীবীদের সংবাদ সম্মেলন জলমহালে মাছ লুটের অভিযোগ রাতের আঁধারে ফসলি জমির মাটি চুরি এল নিনো’র প্রভাব : আসন্ন মৌসুমে বোরো উৎপাদন হ্রাসের শঙ্কা জামালগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে সভাপতি তৌহিদ চৌধুরী প্রদীপ বহিষ্কার তাহিরপুরে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে র‍্যালি ও আলোচনা সভা 'সাক্ষরতায় সমৃদ্ধি' সুনামগঞ্জে র‍্যালি ও আলোচনা সভা জামালগঞ্জ সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় বেতন জটে বিপাকে শিক্ষক-কর্মচারীরা ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি আগস্টে সড়কে মৃত্যু ৪৮১, প্রতিদিন ১৫ জনের বেশি

বিদ্যুৎ খাতেরসংকট গভীর হওয়ার কারণ খুঁজছেন বিশেষজ্ঞরা

  • আপলোড সময় : ১০-০৯-২০২৬ ০৬:৫৯:২১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৯-২০২৬ ০৭:০৩:৫৭ অপরাহ্ন
বিদ্যুৎ খাতেরসংকট গভীর হওয়ার কারণ খুঁজছেন বিশেষজ্ঞরা
স্টাফ রিপোর্টার::
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে গত দেড় দশকে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা মোটামুটি সচল ছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতিতে নতুন কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া কয়েকটি নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রভাব এখন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জ্বালানি সরবরাহে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ। ‎ ‎অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের সময়ে বিদ্যুৎ খাত সংস্কারে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর মধ্যে দ্রুত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহসংক্রান্ত বিশেষ বিধানের পরিবর্তন এবং নতুন বিদ্যুৎ প্রকল্পের অনুমোদন ও দরপত্র প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন উল্লেখযোগ্য। ‎ ‎অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১০ সালের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইনের কার্যকারিতা নিয়ে পরিবর্তন আনা হয়। একই সময়ে পাইপলাইনে থাকা বেশ কিছু নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করা হয়। ‎ ‎দাবি করা হচ্ছে, বাতিল হওয়া প্রকল্পগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ছিল কয়েক হাজার মেগাওয়াট। পরবর্তী সময়ে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হলেও প্রত্যাশিত বিনিয়োগ পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নীতির স্পষ্টতা এবং রাষ্ট্রীয় নিশ্চয়তার বিষয়ে অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। ‎ ‎তবে প্রকল্প বাতিল ও নতুন দরপত্রের ক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি ছিল—বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ কমানো, প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং আগের ব্যবস্থার অনিয়ম দূর করা। ‎ ‎বিদ্যুৎ খাতের আরেকটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বকেয়া বিল। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন তথ্য ও খাতসংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশি-বিদেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পাওনা বড় অঙ্কে পৌঁছেছে। ‎ ‎বিশেষ করে তেলভিত্তিক বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হলে জ্বালানি কেনা ও কেন্দ্র পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে কয়লা ও গ্যাসের মূল্য পরিশোধে বিলম্ব হলে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ‎ ‎খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও অর্থের সংস্থান না থাকলে সেই সক্ষমতা কাজে লাগানো যায় না। ফলে উৎপাদন কমে গিয়ে লোডশেডিং বাড়তে পারে। ‎ ‎২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সময় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) এলএনজি-সংক্রান্ত একটি নন-বাইন্ডিং চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তিটি নিয়ে জ্বালানি খাতে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। ‎ ‎সমালোচকদের প্রশ্ন, রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার সম্পৃক্ততা এবং প্রচলিত ক্রয়প্রক্রিয়ার বিষয়গুলো কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছিল। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে এ ধরনের সমঝোতাকে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরির উদ্যোগ হিসেবে দেখা হয়েছে। ‎ ‎রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়েও অন্তর্বর্তী সরকারের অবস্থান নিয়ে পরিবেশবাদীদের মধ্যে প্রশ্ন ছিল। দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও প্রকল্পটি বন্ধ বা বড় ধরনের পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ‎ ‎বর্তমান বিদ্যুৎ সংকটকে শুধু একটি সরকারের সিদ্ধান্তের ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন জ্বালানি খাতের অনেক পর্যবেক্ষক। বিদ্যুৎ উৎপাদনের অতিরিক্ত সক্ষমতা, গ্যাসের ঘাটতি, আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ, বিদ্যুৎকেন্দ্রের বকেয়া এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে সংকটকে তীব্র করতে পারে। ‎ ‎তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া প্রকল্প বাতিল, নতুন দরপত্র এবং বকেয়া ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্তগুলো বর্তমান পরিস্থিতিকে কতটা প্রভাবিত করেছে, তা নিয়ে একটি নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের প্রয়োজন রয়েছে। ‎ ‎বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে বাতিল হওয়া কিছু নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য, দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। ‎বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, নীতির ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া, সময়মতো বকেয়া পরিশোধ এবং দেশীয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া স্থায়ী সমাধান কঠিন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি! দিরাইয়ে একাধিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম

নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ছুটি! দিরাইয়ে একাধিক বিদ্যালয়ে অনিয়ম