শহীদনূর আহমেদ::
পরিবেশ সুরক্ষা ও সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হলেও রোপণের কয়েক দিনের মধ্যেই উধাও হয়ে গেছে অধিকাংশ চারা। কোনোটি গরু-ছাগলের খাদ্যে পরিণত হয়েছে, আবার কোনোটি পানির অভাবে শুকিয়ে মারা গেছে। চারাগাছের সুরক্ষায় বেড়া দেওয়া, নিয়মিত পানি দেওয়া কিংবা রক্ষণাবেক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সরকারের অর্থ ব্যয়ে নেওয়া এ কর্মসূচি অনেকটা দায়সারা হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রারিপ প্রকল্পের আওতায় প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে ৫ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। এসব গাছ রোপণে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১০ লাখ টাকা। তবে রোপণের পরপরই অধিকাংশ চারাগাছ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় প্রকল্পের অর্থ ব্যয় ও বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা-বীরগাঁও সড়কে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে মাসখানেক আগে রোপণ করা প্রায় ৪০০ চারার অধিকাংশই নেই। যে কয়েকটি চারা টিকে আছে, সেগুলোরও অবস্থা নাজুক। অনেক চারার চারপাশে কোনো বেড়া নেই। কোথাও এক-দুটি বাঁশের খুঁটির সঙ্গে প্লাস্টিকের টুকরা দিয়ে চারা আটকে রাখা হয়েছে। গবাদিপশুর হাত থেকে রক্ষায় কার্যকর কোনো প্রতিরোধক ব্যবস্থা না থাকায় রোপণের কয়েক দিনের মধ্যেই ছোট চারাগাছ গরু-ছাগলের খাদ্যে পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আকারে ছোট চারা রোপণের পর আর নিয়মিত পরিচর্যা করা হয়নি। ফলে পানির অভাবে অনেক চারা শুকিয়ে মারা গেছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিটি চারার জন্য ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবে খুবই কম অর্থ ব্যয় করে চারা রোপণ করা হয়েছে। রক্ষণাবেক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সরকারি অর্থের সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। বীরগাঁও পূর্বপাড়ার বাসিন্দা রুশন আলী বলেন, ছোট ছোট চারা খালি গর্ত করি একটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে রোপণ করে গেছে দুয়েক জন লোক। একেকটা চারা রোপণে বেশি হলে ৫০ টাকা খরচ পড়েছে। এরপরে আর কেউ চারার কোনো খবর রাখেনি। গুরু ছাগলে খেয়ে সব নষ্ট করে দিয়েছে। জুবায়েল বক্স নামের এক তরুণ বলেন, সড়কে চারা রোপণে চরম অনিয়ম হইছে। এভাবে গাছ রোপণের চেয়ে না রোপণই ভালো। গাছ রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্যে উদ্যোগ নেই। পরিবেশের সুরক্ষায় গাছ রোপণের পর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারির দাবি করেন এই তরুণ। এদিকে শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাজেদুল ইসলাম জানান, রোপণকৃত কিছু গাছ চুরি হয়েছে। বাজেট পেলে চারা পুনরায় রোপণ করার কথা জানান তিনি। অপরদিকে, জেলা এলজিইডি অফিস জানায়, রারিপ প্রকল্পের আওতায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দে শান্তিগঞ্জ-পাগলা বীরগাঁও সড়ক, জামালগঞ্জ-সেলিমগঞ্জ, জামালগঞ্জ -জয়নগর জিসি ভায়া নয়াগাঁও সড়ক বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কে ৫ হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে। এছাড়াও আম্পান প্রকল্পের আওতায় আর ১০ লাখ টাকার গাছ রোপণ করা করবে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন বলেন, গাছ রোপণের পর শক্ত বেড়া দিতে হয়। তবে বরাদ্দ কম থাকায় এটি সম্ভব হয়ে উঠে না। চারাগাছ রক্ষণাবেক্ষণ ও দেখভালের জন্য মজুরি দিয়ে লোক রাখতে হয়। তবে রারিপ প্রকল্পের এটি ধরা হয়নি। তবে ঠিকাদারকে বলা আছে যেসব গাছ মারা যাবে সেগুলো আবার রোপণের জন্য। আম্পান প্রকল্পে যে ৫ হাজার গাছ রোপণ হবে তার রক্ষণাবেক্ষণে শ্রমিক ধরা রয়েছে। রোপণ কাজ সঠিকভাবে করতে নির্দেশনা দেয়া রয়েছে। এখানে অনিয়মের সুযোগ নেই।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
বৃক্ষরোপণে অনিয়মের অভিযোগ, দায়সারা কর্মসূচিতে সরকারের টাকা গচ্চা
- আপলোড সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ১১:১৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ১১:১৬:৩২ পূর্বাহ্ন
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক সুনামকণ্ঠ