সুনামগঞ্জ , রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ডিসেম্বর’ নিয়ে অলি আহমদের বক্তব্যে রাজনীতিতে নতুন আলোচনা ‎জামালগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ঘর পুড়ে নিঃস্ব পরিবার ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশি, কোনো বৈষম্য থাকবে না : এমপি কামরুজ্জামান কামরুল মেয়েকে হারিয়েছেন পানিতে, এখন অন্য শিশুদের বাঁচাতে সাঁতার শেখান বাবা লোকজ পরিবেশনায় চিত্রায়িত হল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অযত্ন-অবহেলায় অকেজো কোটি টাকার রেসকিউ বোট, সেবাবঞ্চিত হাওরবাসী সুনামগঞ্জে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে জন্মাষ্টমী উদযাপন সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু নয়, আমরা সবাই গর্বিত বাংলাদেশি: প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকেও পেছনে ফেললো বাংলাদেশ, খেলাপি ঋণে বিশ্বে শীর্ষে বাঁশের সাঁকোয় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার কয়েক হাজার মানুষের উল্টোপথে মন্ত্রীর গাড়ি, দুই মামলায় ৬ হাজার টাকা জরিমানা বিশ্বম্ভরপুরে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন মিলন হাতকড়াসহ পলায়ন, ফেসবুক লাইভ; শেষ রক্ষা হলো না আসিরের জ্বালানি সংকট কাটাতে ৫ দফা কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী হাওরে ধানের বাজার মন্দা, চালের বাজার ঊর্ধ্বমুখী দিরাই বিএনপিতে ঐক্য নেই, বাড়ছে বিভক্তি লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে দেশে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে : র‌্যাবের মহাপরিচালক খেলাপি ঋণ আবারও ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়ালো আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু
আমাদের গুণীজন

আপন আলোয় উজ্জ্বল প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলাম

  • আপলোড সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০৭:৫৯:৫৮ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ০৬-০৯-২০২৬ ০৭:৫৯:৫৮ অপরাহ্ন
আপন আলোয় উজ্জ্বল প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলাম
:: আকরাম উদ্দিন :: সুনামগঞ্জের শিক্ষাঙ্গনে যাঁরা নিজেদের মেধা, সততা, নিষ্ঠা ও কর্মের মাধ্যমে আলাদা একটি অবস্থান তৈরি করেছেন, প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলাম তাঁদের অন্যতম। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অধ্যাপনা, প্রশাসনিক দায়িত্ব ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। অবসরজীবনেও থেমে থাকেননি, বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে কাজ করে যাচ্ছেন। জন্ম ও পারিবারিক পরিচয় :: প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলাম ১৯৫৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম হাফিজ সৈয়দ আপ্তাব আলী। তিনি ছিলেন একজন মাদ্রাসার শিক্ষক। পরবর্তীতে তিনি সুনামগঞ্জ পুরাতন কোর্ট মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মা মরহুমা সৈয়দা রেজিয়া খাতুন। চার ভাই ও এক বোনের মধ্যে সৈয়দ মহিবুল ইসলাম চতুর্থ। তাঁর পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও শিক্ষা, চিকিৎসা ও পেশাজীবনে সাফল্যের দৃষ্টান্ত রয়েছে। প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলাম ১৯৮৯ সালের ৬ জানুয়ারি সুনামগঞ্জ শহরের উকিলপাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ আব্দুস সালামের মেয়ে রওশন আরা বেগমকে বিয়ে করেন। রওশন আরা বেগম ১৯৮৫ সালে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার দোয়ারাবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগ দেন। পরবর্তীতে তিনি হাছননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। দীর্ঘ ৩৫ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে ২০২০ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। সৈয়দ মহিবুল ইসলামের বড় ভাই মরহুম হাফিজ নজরুল ইসলাম মাদ্রাসার শিক্ষক ও মসজিদের ইমাম ছিলেন। দ্বিতীয় ভাই অধ্যাপক ডা. সৈয়দ শহীদুল ইসলাম সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসর গ্রহণের পর বর্তমানে তিনি সিলেটে বসবাস করছেন। অপর ভাই সৈয়দ জিয়াউল ইসলাম পেশায় একজন আইনজীবী। তিনিও বর্তমানে সিলেটে বসবাস করছেন। পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও শিক্ষা ও পেশাজীবনে সাফল্যের ধারা অব্যাহত রয়েছে। ভাতিজি ডাক্তার সৈয়দা ইশরার ইসলাম লিথী একজন সার্জন, ডাক্তার সৈয়দা নাদিয়া ইসলাম, ডাক্তার সৈয়দা নাবিলা ইসলাম ও প্রকৌশলী সৈয়দা রোয়াইদা ইসলামও নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তাঁরা প্রফেসর সৈয়দ ডা. শহীদুল ইসলামের কন্যা। প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলামের কনিষ্ঠ কন্যা প্রকৌশলী সৈয়দা সামিহা ইসলাম এষা বর্তমানে ফিনল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তাঁর জ্যেষ্ঠ কন্যা সৈয়দা নাছুহা ইসলাম আইন বিষয়ে ¯œাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। অ্যাডভোকেট সৈয়দ জিয়াউল ইসলামের কন্যা সৈয়দা মুনজিবা ইসলাম রাফা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরেস্ট্রি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সায়েন্স বিষয়ে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত। তিনি অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। বাল্যকাল ও শিক্ষাজীবন : সৈয়দ মহিবুল ইসলামের বাল্যকাল মূলত কেটেছে সুনামগঞ্জ শহরে। মাত্র দুই বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে তিনি সুনামগঞ্জ শহরের হাছননগরের সুরভী আবাসিক এলাকায় তাঁদের নিজস্ব বাসায় চলে আসেন। ১৯৬৫ সালে তিনি রাজগোবিন্দ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন শুরু করেন। সে সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন দ্বিজেন্দ্র লাল সেন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই তিনি মেধার স্বাক্ষর রাখেন। পঞ্চম শ্রেণিতে তিনি বৃত্তি লাভ করেন। তাঁর এই সাফল্যে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এতটাই আনন্দিত হয়েছিলেন যে, একদিনের ছুটি ঘোষণা করেছিলেন বলে স্মৃতিচারণ করেন তিনি। পরে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং ১৯৭৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। বিজ্ঞান বিষয়ে তাঁর ফলাফল ছিল ভালো। ১৯৭৬ সালে সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ায় তাঁর শিক্ষাজীবনে এক বছরের বিরতি ঘটে। ১৯৭৯ সালে তিনি তৎকালীন জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হন। ১৯৮২ সালের পরীক্ষায় অনার্স স¤পন্ন করেন এবং ১৯৮৬ সালে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি লেখালেখির প্রতিও তাঁর আগ্রহ ছিল। শহরের উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাজীবনের সময় কয়েকজন সহপাঠীকে নিয়ে ‘প্রগতি’ নামে একটি দেয়াল পত্রিকা স¤পাদনা করতেন। তখনকার সুনামগঞ্জ শহরের শান্ত, সুন্দর ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তাঁর বেড়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শিক্ষকতা জীবনের শুরু : শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৮৬ সালে সুনামগঞ্জের ছাতক কলেজে প্রভাষক হিসেবে শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন সৈয়দ মহিবুল ইসলাম। পরের বছর ১৯৮৭ সালে বিসিএস তথ্য ক্যাডারে সিলেট বেতারকেন্দ্রে বেতার প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। ১৯৮৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। এরপর প্রভাষক হিসেবে সিলেট এমসি কলেজ ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে দায়িত্ব পালন করেন। পদোন্নতি পেয়ে সিলেট সরকারি কলেজে সহকারী অধ্যাপক এবং পরে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে তিনি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেখানে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অবসরেও থেমে নেই কর্মযজ্ঞ : অবসর গ্রহণের পরও প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলামের কর্মময় জীবন থেমে যায়নি। শিক্ষা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণমূলক নানা কর্মকা-ে তিনি এখনও সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে থেকে তিনি মানুষের কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি, সুনামগঞ্জ উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এবং শহরের ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির সহ-সভাপতি ও আজীবন সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষাক্ষেত্রেও রয়েছে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ অবদান। শহরের হাছননগর এলাকায় আব্দুল আহাদ-সাহিদা চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই এলাকায় পশ্চিম সুলতানপুর জামে মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকা-েও তাঁর রয়েছে দীর্ঘদিনের স¤পৃক্ততা। তিনি জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি, জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর আজীবন সদস্য, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেট (কেমুসাস) আজীব সদস্য, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য এবং জগন্নাথপুর উপজেলা কল্যাণ সমিতির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা, সমাজসেবা ও জনকল্যাণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের স¤পৃক্ততা প্রমাণ করে, অবসর তাঁর কর্মজীবনের সমাপ্তি নয়; বরং মানুষের জন্য কাজ করার নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা। জীবনের এই পর্যায়েও মানুষের কল্যাণে তাঁর সক্রিয়তা নিঃসন্দেহে অনুকরণীয় ও অনুপ্রেরণাদায়ক। সম্মাননা ও স্বীকৃতি : দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন সময়ে সম্মাননা পেয়েছেন প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলাম। অবসর গ্রহণের সময় মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা এবং সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া ২০২৪ সালে ‘সুনামকণ্ঠ গুণীজন সম্মাননা’ এবং ২০২৫ সালে ‘জলকন্যা সাহিত্য পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনি অর্ধশতাধিক সম্মাননা স্মারক পেয়েছেন। এছাড়াও বাংলাদেশ রোভার অঞ্চল থেকে শ্রেষ্ঠ বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে সম্মাননা প্রাপ্ত হন। বিদেশ ভ্রমণ : কর্মজীবনে সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলাম মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর সফর করেছেন। এছাড়া ব্যক্তিগত ও অন্যান্য প্রয়োজনে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মালদ্বীপ সফর করেন। পরে সৌদি আরবে হজ্বব্রত পালন করেন। লেখালেখি : প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলাম একাধিক কাব্যগ্রন্থ রচনা ও প্রকাশ করেছেন। তাঁর রচিত ও প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘বর্ষা ও রুদ্র পদাবলি’, ‘আলোর আনন্দ কুসুম’, ‘ইশকুলে লাল বাস আসবে’, ‘স্মৃতির রেণুকণা’ প্রভৃতি। সৃজনশীলতার এই ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে তিনি আরও নতুন নতুন কাব্যগ্রন্থ রচনায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। আলোকিত মানুষের পথচলা : দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে জ্ঞান ও মানবিকতার আলোয় আলোকিত করেছেন প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলাম। শিক্ষকতা, প্রশাসনিক দায়িত্ব, সামাজিক কর্মকা- এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স¤পৃক্ততার মধ্য দিয়ে তিনি নিজের কর্মময় জীবনের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছেন। প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলাম প্রায় ৩৩ বছরের শিক্ষকতা জীবন শেষে অবসর গ্রহণ করেও থেমে থাকেননি। প্রায় ৬৮ বছর বয়সেও সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার যে মানসিকতা তিনি ধারণ করেন, সেটিই তাঁর জীবনের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য। শিক্ষা, মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে সামনে রেখে তাঁর এই নিরন্তর পথচলা শুধু তাঁকে একজন আদর্শ শিক্ষাবিদ হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেনি বরং সুনামগঞ্জের নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। শেষ কথা : শিক্ষকতা, লেখালেখি ও সামাজিক কর্মকা-ে বহুমাত্রিক অবদানের মধ্য দিয়ে প্রফেসর সৈয়দ মহিবুল ইসলাম সুনামগঞ্জের ইতিহাসে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। শিক্ষা, সমাজ ও মানুষের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা তাঁকে করেছে স্মরণীয়। তাঁর জীবন, মূল্যবোধ ও মানবিকতা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, সুখ-শান্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করি। [লেখক : আকরাম উদ্দিন, গল্পকার ও সাংবাদিক]

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
‘ডিসেম্বর’ নিয়ে অলি আহমদের বক্তব্যে রাজনীতিতে নতুন আলোচনা

‘ডিসেম্বর’ নিয়ে অলি আহমদের বক্তব্যে রাজনীতিতে নতুন আলোচনা