হাওরে হল্লা’
লোকজ পরিবেশনায় চিত্রায়িত হল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য
- আপলোড সময় : ০৫-০৯-২০২৬ ০৯:৫৮:২৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৫-০৯-২০২৬ ০৯:৫৮:২৭ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার ::
হাওরাঞ্চলের বিলুপ্তপ্রায় লোকসংস্কৃতি ও প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে নতুন করে মানুষের সামনে তুলে ধরতে শাল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক আয়োজন ‘হাওরে হল্লা’। হাওরের মুক্ত প্রকৃতি ও নৈসর্গিক পরিবেশে দিনব্যাপী এ আয়োজনে উঠে আসে গ্রামীণ বাংলার হারিয়ে যেতে বসা নানা লোকজ সংস্কৃতি।
বৃহ¯পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় শাল্লা উপজেলার নাইন্দ্যা গ্রামের হরিগাছতলায় এ আয়োজন শুরু হয়। একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র সাব-এডিটর হাসান আহমেদের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের স্থানীয় শিল্পীরা অংশ নেন।
আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল হাওরাঞ্চলের প্রাচীন ও বিলুপ্তপ্রায় গাজীর গান, গাজীর নৃত্য, যাত্রাপালা, ধামাইল, পদ্মপুরাণ পাঠ ও বাউল গান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় হাওরের নীরব প্রকৃতি পরিণত হয় লোকজ সংস্কৃতির মিলনমেলায়। গান, নৃত্য, অভিনয় ও লোকজ পরিবেশনার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয় গ্রামীণ জনপদের দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।
হাওরের খোলা প্রান্তর, গাছপালা ও প্রকৃতির সান্নিধ্যে আয়োজিত হওয়ায় প্রচলিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের তুলনায় ‘হাওরে হল্লা’ পেয়েছে ভিন্ন মাত্রা। দর্শক-শ্রোতারাও শিল্পীদের সঙ্গে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। দিনভর গান ও লোকজ পরিবেশনার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের জন্য দুপুরের খাবারেরও আয়োজন করা হয়।
আয়োজক হাসান আহমেদ বলেন, আমরা বাঙালিয়ানাকে শহরের সঙ্গে এবং হাওরের জায়গাটাকে একটি মিলবন্ধনে আনতে চাই। বাউল সংস্কৃতি চাপের মুখে রয়েছে। তাই এই সংস্কৃতিকে জাগিয়ে তুলে শহর ও হাওরের মানুষের কাছে নতুন করে পরিচিত করতে চাই।
‘হাওরে হল্লা’ নামকরণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হইহুল্লা একটি নেতিবাচক শব্দ। তাই ইতিবাচক অর্থে ‘হাওরে হল্লা’ শুরু করেছি। শুরু করা কঠিন, তবে ধরে রাখা আরও কঠিন। তারপরও আমরা প্রতিবছর ভাদ্র মাসের ১৯ তারিখে এ আয়োজন করার চেষ্টা করব।
তিনি জানান, কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে মানুষকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে আসা, হাওরের মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বাড়ানো এবং হারিয়ে যাওয়া সাংস্কৃতিক চর্চাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাত্তর টেলিভিশনের সিনিয়র সাব-এডিটর হাসান আহমেদ, বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) স্টাফ রিপোর্টার ফখরুল ইসলাম, দৈনিক এদিনের উপজেলা প্রতিনিধি শান্ত কুমার তালুকদার, যায়যায়দিনের প্রতিনিধি দিলোয়ার হোসেন, পদাবলী কীর্তনী সুবোধ দাস বাচ্চু, বিপুল রায়, বাউল শিল্পী রথীন্দ্র দাস, রঞ্জন সরকার, জন্মান্ধ বাউল শিল্পী সুশান্ত দাস, শিশু শিল্পী জনার্দন দাসসহ স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক