:প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন:
সুনামগঞ্জ মানেই হাওর, নদী, বিল ও জলাভূমির এক অপার সৌন্দর্যের জনপদ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক থেকে এ জেলা বাংলাদেশের অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল হলেও যোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে সুনামগঞ্জের মানুষ নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করে আসছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে হাওরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ পানিতে ডুবে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ অনেকাংশে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফলে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ মানুষের দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা উড়াল সড়ক একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
গত ১৮ আগস্ট ২০২৬ মঙ্গলবার সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার কুকড়াপশী এলাকায় ‘হাওর এলাকায় উড়াল সড়ক ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প’-এর আওতায় জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা উড়াল সড়কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ সড়ক বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হলো।
উড়াল সড়কের পটভূমি : জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা - দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হলেও ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে কাক্সিক্ষত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। হাওরের বুক চিরে প্রচলিত পদ্ধতিতে দীর্ঘস্থায়ী সড়ক নির্মাণ অত্যন্ত কঠিন। বর্ষাকালে পানির বিস্তীর্ণ প্রবাহ এবং শুষ্ক মৌসুমে হাওরের ভিন্ন ভিন্ন ভূপ্রকৃতি সড়ক নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণকে জটিল করে তোলে। এই বাস্তবতার কারণেই ২০২১ সালে হাওরের ভেতর দিয়ে সাধারণ সড়কের পরিবর্তে উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়। পরিকল্পিত সড়কটি জামালগঞ্জের সাচনা এলাকা থেকে কাজীরগাঁও হয়ে ধর্মপাশার জয়শ্রী, ধর্মপাশা বাজার ও আলোকদিয়া হয়ে নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার গোপালপুরের দিকে সংযুক্ত হবে। প্রকল্পের মূল সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮ কিলোমিটার; এর মধ্যে ১০.৮১ কিলোমিটার উড়াল সড়ক এবং অবশিষ্ট অংশ বিভিন্ন ধরনের সারা-মৌসুমের সড়ক হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এটি কেবল একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্প নয়; বরং হাওরাঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার একটি নতুন চিন্তার প্রতিফলন।
সুনামগঞ্জের যোগাযোগ সমস্যার বাস্তবতা::
বাংলাদেশের অন্যান্য জেলার তুলনায় সুনামগঞ্জের যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যা অনেকটাই স্বতন্ত্র। এ জেলার একটি বড় অংশ হাওর ও জলাভূমি দ্বারা পরিবেষ্টিত। ফলে বর্ষাকালে যেখানে সাধারণ সড়ক থাকার কথা, সেখানে অনেক সময় বিশাল জলরাশি বিস্তৃত থাকে। অনেক গ্রাম তখন কার্যত নৌযানের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলেও তখনও অনেক প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের চলাচলে ভোগান্তি থাকে। কোথাও কাঁচা রাস্তা, কোথাও ভাঙা রাস্তা, কোথাও সেতু বা কালভার্টের অভাব - সব মিলিয়ে মানুষের যাতায়াত কষ্টকর হয়ে ওঠে। অন্যদিকে নদী ও খাল-বিলের নাব্যতা কমে যাওয়ায় নৌপথও আগের মতো কার্যকর নেই। ফলে সুনামগঞ্জের মানুষের জন্য সারা বছর নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষ করে জেলা সদরের সঙ্গে প্রত্যন্ত উপজেলা ও হাওরাঞ্চলের সরাসরি সড়ক যোগাযোগের ঘাটতি মানুষের জীবনযাত্রাকে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবিত করেছে। জেলার ১২টি উপজেলার মধ্যে অধিকাংশ উপজেলার সাথে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। নতুন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে এ পরিস্থিতির পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
কৃষির জন্য নতুন সম্ভাবনা: সুনামগঞ্জের অর্থনীতি মূলত কৃষি ও হাওরকেন্দ্রিক। বিশেষ করে বোরো ধান এ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সুনামগঞ্জ জেলায় প্রতিবছর প্রায় ১৪-১৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়, যা দেশের মোট উৎপাদনের প্রায় ১২%। কিন্তু উৎপাদনের পর কৃষকের অন্যতম বড় সমস্যা হলো ফসল দ্রুত ও নিরাপদে বাজারজাত করা।
উন্নত সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে কৃষক তার উৎপাদিত ধানসহ অন্যান্য কৃষিপণ্য সহজে উপজেলা ও জেলা শহরের বাজারে নিয়ে যেতে পারবে। পরিবহন খরচ ও সময় কমবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীলতা কমারও সুযোগ সৃষ্টি হবে। ফলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে আসতে পারে।
একই সঙ্গে কৃষি উপকরণ- বীজ, সার, কীটনাশক ও কৃষিযন্ত্র দ্রুত প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছানো সম্ভব হবে। অর্থাৎ একটি ভালো সড়ক শুধু মানুষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যায় না; এটি কৃষি অর্থনীতির গতি বাড়ায়।
মৎস্যসম্পদ ও অর্থনীতিতে প্রভাব : সুনামগঞ্জ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মৎস্যসম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চল। এই অঞ্চল থেকে বছরে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার মৎস্য আহত হয়। হাওর, নদী ও জলাশয়কে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্যসম্পদের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু মাছ আহরণ ও বাজারজাতকরণে যোগাযোগের দুর্বলতা একটি বড় সমস্যা। উড়াল সড়ক ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে মাছ দ্রুত বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে। উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কৃষি ও মৎস্য - এই দুই খাতকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী স্থানীয় অর্থনৈতিক বলয় গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় পরিবর্তন : যোগাযোগের অভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও অসুস্থ রোগীরা। বর্ষাকালে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। এই জেলায় প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়ার হার ৩৭%, যা বাংলাদেশের ঝরে পড়ার গড় হারের চেয়ে অনেক বেশি। জরুরি রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়াও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নেয়ার পথে অনেক রোগীর মারা যাওয়ার উদাহরণ রয়েছে।
সারা বছর চলাচলযোগ্য উন্নত সড়ক হলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত সহজ হবে। শিক্ষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চলাচলও সহজ হবে। একইভাবে জরুরি রোগীদের দ্রুত উপজেলা, জেলা কিংবা উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেয়ার সুযোগ বাড়বে। ফলে যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন মানুষের মৌলিক সেবা পাওয়ার অধিকারকে আরও শক্তিশালী করবে। ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগ: সড়ক যোগাযোগ একটি এলাকার অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। যেখানে ভালো সড়ক আছে, সেখানে পণ্য পরিবহন সহজ হয়, বাজার সম্প্রসারিত হয় এবং নতুন ব্যবসা গড়ে ওঠে। জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশার মধ্যে উন্নত সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় হাট-বাজারগুলোর গুরুত্ব বাড়তে পারে। পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণসহ নানা খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। তরুণদের জন্য স্থানীয়ভাবে কাজের ক্ষেত্রও বাড়তে পারে।
পর্যটনের নতুন দ্বার : সুনামগঞ্জের হাওর, নদী, বিল ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আকৃষ্ট করার বিপুল সম্ভাবনা রাখে। কিন্তু পর্যটন বিকাশের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা। বছরে প্রায় ৫-৬ লক্ষ পর্যটক সুনামগঞ্জে আসে। উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে পর্যটকের সংখ্যা দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করা হয়। জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা অঞ্চলে উন্নত সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হলে হাওরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এলাকায় পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হতে পারে। এর ফলে স্থানীয় নৌযান, আবাসন, খাবার, গাইড, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মানুষের আয় বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। অর্থাৎ উড়াল সড়কটি শুধু যোগাযোগের অবকাঠামো নয়; এটি সুনামগঞ্জের পর্যটন অর্থনীতির জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।
পরিবেশ ও হাওরের স্বাভাবিক ভারসাম্য : তবে হাওরের ওপর যেকোনো বড় অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। হাওর সুনামগঞ্জের প্রাণ। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ, মাছের বিচরণ, কৃষিজমি, জীববৈচিত্র্য এবং জলাবদ্ধতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় যেন বিরূপ প্রভাব না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা জরুরি। উড়াল সড়কের অন্যতম উদ্দেশ্যই হলো হাওরের স্বাভাবিক জলপ্রবাহকে যতটা সম্ভব অক্ষুণ্ন রেখে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিটি পর্যায়ে পরিবেশগত সমীক্ষা, পানি প্রবাহের স্বাভাবিকতা এবং হাওরের জীববৈচিত্র্য রক্ষার বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
সম্ভাবনার পাশাপাশি সতর্কতাও জরুরি : যেকোনো বড় প্রকল্পের সাফল্য শুধু ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার ওপর নির্ভর করে না; নির্ভর করে কাজের মান, সময়ানুবর্তিতা, স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের ওপর। উড়াল সড়কের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হওয়া উচিত নয়।
প্রকল্পের নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ মান নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সড়কের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। হাওরের প্রতিকূল আবহাওয়া ও জলপ্রবাহ বিবেচনায় নিয়ে প্রকৌশলগতভাবে টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
একটি বৃহত্তর যোগাযোগ নেটওয়ার্কের সূচনা : জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা উড়াল সড়ককে বিচ্ছিন্ন একটি প্রকল্প হিসেবে দেখলে এর গুরুত্ব পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এর সঙ্গে সুনামগঞ্জের অন্যান্য উপজেলা, জেলা সদর এবং পার্শ্ববর্তী নেত্রকোণা-ময়মনসিংহ অঞ্চলের যোগাযোগের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। বিভিন্ন সড়ক ও সেতু প্রকল্পের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি কার্যকর আঞ্চলিক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা গেলে এর সুফল বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। এ ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চল আর যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার পরিচয়ে পরিচিত থাকবে না; বরং এটি কৃষি, মৎস্য, পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হতে পারে।
পরিশেষে : জামালগঞ্জ থেকে ধর্মপাশা উড়াল সড়ক সুনামগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার একটি প্রতীক। ১৮ আগস্ট ২০২৬-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নের পথে দৃশ্যমান অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্ষায় বিচ্ছিন্নতা কমবে, মানুষের চলাচল সহজ হবে, কৃষিপণ্য ও মৎস্যসম্পদ দ্রুত বাজারজাত করা যাবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা মানুষের আরও কাছে পৌঁছাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। পাশাপাশি সুনামগঞ্জের অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পর্যটন শিল্প বিকাশেরও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। তবে প্রকল্পের প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন এটি হবে মানসম্মত, টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী। হাওরের প্রকৃতি রক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে এ সড়ক নির্মাণ করা গেলে এটি শুধু জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশার মানুষের যোগাযোগের দুর্ভোগই দূর করবে না; বরং সমগ্র সুনামগঞ্জের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
তাই জামালগঞ্জ-ধর্মপাশা উড়াল সড়ককে কেবল একটি রাস্তা হিসেবে নয়, সুনামগঞ্জের হাওরবাসীর জীবন ও অর্থনীতির পরিবর্তনের একটি সম্ভাবনাময় সেতুবন্ধন হিসেবে দেখতে হবে। এই সড়ক বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে হাওরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পশ্চাৎপদ যোগাযোগ ব্যবস্থায় গতি আসবে এবং সত্যিকার অর্থেই খুলে যেতে পারে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার।
[লেখক- প্রফেসর মোঃ শাহাদত হোসেন, অধ্যক্ষ, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ, সুনামগঞ্জ]
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
সুনামগঞ্জে উড়াল সড়ক : সম্ভাবনার নতুন দুয়ার
- আপলোড সময় : ০১-০৯-২০২৬ ১১:৪৬:৪৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-০৯-২০২৬ ১১:৫২:১৩ অপরাহ্ন
ছবি: অধ্যক্ষ মো. শাহাদাত হোসেন।
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক